চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ওসি পরিচয়ে ইলেকট্রনিকস দোকান থেকে টিভি, ফ্রিজ ও সিলিং ফ্যান নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় মূল হোতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৮ জুন) ভুক্তভোগী দুই ব্যবসায়ীর দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ সময় ওসি পরিচয় দিয়ে বিয়ের গিফট দিবে বলে নেওয়া ইলেকট্রনিকস পণ্যও উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম মো. সুমন।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ জুন অজ্ঞাত এক ব্যক্তি ০১৭****৩২৮০ নম্বর থেকে ফোন করে নিজেকে আনোয়ারা থানার ওসি মো. মনির হোসেন পরিচয় দেয়। ওই ব্যক্তি হোয়াটসঅ্যাপে ওসির পোশাক পরিহিত ছবি ব্যবহার করে পশ্চিম বৈরাগ এলাকার ‘আল-মদিনা ইলেকট্রনিক্স’ দোকানের মালিক জিয়াউল হকের কাছ থেকে সিঙ্গার ব্র্যান্ডের একটি ৩২ ইঞ্চি স্মার্ট টিভি ও দুটি সিলিং ফ্যান সংগ্রহ করে। একই কৌশলে ‘শাহ আমানত ইলেকট্রনিক্স’-এর মালিক মো. ইব্রাহিমের কাছ থেকে ওয়ালটন ব্র্যান্ডের ১৭৬ লিটারের একটি ফ্রিজ নেওয়ার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করে।পরবর্তীতে শুক্রবার (২৭ জুন) পণ্য গ্রহণের সময় বিকাশে অর্থ পরিশোধ করবে বলে জানিয়ে পিকআপযোগে পণ্যগুলো নিয়ে যায় প্রতারক। তবে নির্ধারিত সময়ে অর্থ পরিশোধ না করায় এবং পরবর্তীতে ফোন বন্ধ পাওয়ায় ব্যবসায়ীরা প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারেন। পরে তারা আনোয়ারা থানায় পৃথকভাবে লিখিত অভিযোগ করেন।অভিযোগের পর সময়ের কন্ঠস্বর-এ ‘পুলিশের ওসি পরিচয়ে দুই দোকান থেকে টিভি, ফ্রিজ ও ফ্যান নিয়ে উধাও’ এই শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার ২৪ ঘন্টার মধ্যেই তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় আনোয়ারা থানা পুলিশ।অভিযোগের ভিত্তিতে আনোয়ারা থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালী থানার বুলু দিঘীর পশ্চিম পাড়ের হাজী খায়ের মোহাম্মদ কলোনীর (৩১ নম্বর) বাসা থেকে মো. সুমনকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ওয়ালটনের ১৭৬ লিটারের ফ্রিজ ও একটি সিলিং ফ্যান। পরে তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী পটিয়া থানা এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয় সিঙ্গার ব্র্যান্ডের একটি ৩২ ইঞ্চি স্মার্ট টিভি।এ বিষয়ে আনোয়ারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনির হোসেন বলেন, গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রতারণা ও জাল পরিচয় ব্যবহার করে মালামাল আত্মসাতের অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। তদন্ত চলমান রয়েছে এবং তার সাথে জড়িত অন্যদেরও শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
