টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের প্রায় ৩৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মনোয়ারুল ইসলাম মনোর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভূঞাপুর থানায় মৌখিক অভিযোগ করেছে মসজিদ কমিটি। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর উপজেলাজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত অধ্যাপক মনোয়ারুল ইসলাম মনো ফলদা শেহাব উদ্দীন কলেজের সাবেক সহকারী অধ্যাপক।মসজিদ কমিটির অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে আয়-ব্যয়ের হিসাব না দেওয়া এবং একাধিকবার অনুরোধ সত্ত্বেও সাধারণ সভা না ডাকায় সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে চাপের মুখে আয়-ব্যয়ের হিসাব দিলে প্রায় ৩৪ লাখ টাকার গড়মিল ধরা পড়ে। এমনকি ব্যাংক হিসাবেও উক্ত অর্থের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রায় ৪ বছর আগে ভূঞাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুদুল হক মাসুদকে সভাপতি এবং অধ্যাপক মনোয়ারুল ইসলাম মনোকে সাধারণ সম্পাদক করে মসজিদ কমিটি গঠন করা হয়। গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর মাসুদুল হক মাসুদ আত্মগোপনে চলে গেলে সহ-সভাপতি নুরুজ্জামান চকদার ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।এরপর থেকেই মসজিদ কমিটি মসজিদের আয়-ব্যয়ের হিসাবের জন্য সম্পাদক মনোকে একাধিকবার মিটিং ডাকার কথা বললেও তিনি মিটিং ডাকতে গড়িমসি করেন। পরে কমিটির সদস্যদের চাপে বাধ্য হন মিটিং ডাকতে। সেখানে উপস্থাপিত হিসাবপত্রে ৩৪ লাখ টাকার হিসাবে গড়মিল খুঁজে পাওয়া যায়। অভিযুক্ত মনো ব্যাংক হিসাবেও এ টাকার কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি।পরে অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং থানায় মৌখিকভাবে অভিযোগ দেয় মসজিদ কমিটি।এ বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক মনোয়ারুল ইসলাম মনো বলেন, ‘মসজিদ কমিটির সভাপতি আত্মগোপনে থাকায় সব দায় আমার ওপর চাপানো হচ্ছে। তারপরও অডিট কমিটি যে সিদ্ধান্ত দেবে, তা আমি মেনে নেব।’ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একেএম রেজাউল করিম বলেন, ‘এ বিষয়ে লিখিত কোনো অভিযোগ পাইনি, মসজিদ কমিটি মৌখিক অভিযোগ করেছে।’ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নুরুজ্জামান চকদার বলেন, ‘সম্পাদক মনোয়ার ইসলাম মনো ভুয়া বিল ভাউচার ও নয়ছয় করে মসজিদের টাকা আত্মসাত করেছে, কোনো হিসাব দেননি। এ বিষয়ে নতুন করে পাঁচ সদস্যের অডিট কমিটি করা হয়েছে। অডিটে ৩৪ লাখ টাকার বেশি গড়মিলের সত্যতা পাওয়া যায়।’জানতে চাইলে ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবু আবদুল্লাহ খান সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, ‘বিষয়টি আমি শুনেছি, তবে এখনো লিখিত কোনো অভিযোগ পাইনি।’এসকে/আরআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
