১০০ শয্যার বরাদ্দ ও জনবল দিয়ে চলছে বাগেরহাটের ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতাল। ফলে ডাক্তার-নার্সসহ নানা সংকটে গুরুত্বপূর্ণ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে স্থানীয়রা। সর্বশেষ গত বছরের ২৪শে ডিসেম্বর থেকে দশ শয্যার আই সি ইউ ইউনিটটি তালাবদ্ধ হয়ে আছে, অবচয় হচ্ছে সরকারের কোটি কোটি টাকার মূল্যবান যন্ত্রপাতি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছেন, বরাদ্দ বৃদ্ধি ও জনবল সংকটের সমাধান হলে জনগণের কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করা যাবে। ১৯৭০ সালে ৫০ শয্যা নিয়ে বাগেরহাটবাসীর চিকিৎসাসেবা দিতে বাগেরহাট সদর হাসপাতালটির যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে ১৯৯৭ সালে এটিকে ১০০ শয্যায় রূপান্তরিত করা হয়। সর্বশেষ ২০২২ সালের মে মাসে এটিকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। তবে বিশাল অবকাঠামো নির্মাণ হলেও পূর্বের ১০০ শয্যার জনবল ও বরাদ্দ নিয়েই চলছে এই হাসপাতালটি। ফলে কাঙ্ক্ষিত সেবার বদলে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন সেবা নিতে আসা সেবা প্রার্থীরা। হাসপাতালটিতে বহির্বিভাগে দৈনিক প্রায় ৯০০ থেকে ১ হাজার রোগী চিকিৎসা নেন। এদিকে কখনো কখনো ২৫০ শয্যার বিপরীতে ৩০০ থেকে ৩৫০ জন পর্যন্ত রোগী ভর্তি থাকে। বিপুলসংখ্যক এ রোগীর চিকিৎসার জন্য ৫৬টি চিকিৎসকের পদ বরাদ্দ থাকলেও ২৮টি শূন্য রয়েছে। এছাড়া নার্সের ৯৮টি পদের মধ্যে শূন্য রয়েছে ৩২টি পদ এবং তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির ৭৭টি পদের মধ্যে ৪৪টি পদ শূন্য। শুধু জনবল সংকট নয়, অর্থ ও প্রয়োজনীয় ওষুধের প্রবল সংকটও রয়েছে এই হাসপাতালে। প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, রোগ নির্ণয়ের ব্যবস্থা ও আই সি ইউ না থাকায় অনেক অস্ত্রপাচার ও অপেক্ষাকৃত জটিল রোগীর চিকিৎসা এই হাসপাতালে করা সম্ভব হচ্ছে না। ১০ শয্যার আইসিইউ ইউনিটে দক্ষ জনবল না থাকায় চালু হওয়ার পর এখনও পর্যন্ত সেবা পাননি কোনো সংকটাপন্ন রোগী। আই সি ইউ’র সাপোর্ট না থাকায় জটিল সিজারিয়ান অপারেশনসহ অন্যান্য অপারেশন এখানে করা যাচ্ছে না। মেশিনগুলো ভালো রাখার জন্য মাঝে মাঝে চালু করার প্রয়োজন রয়েছে বলে জানালেন দায়িত্বপ্রাপ্ত সেবিকারা। ২৫০ শয্যার হাসপাতাল ও আইসিইউ ইউনিটের প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের মাধ্যমে সেবা নিশ্চিতের দাবি সেবা প্রত্যাশীদের। প্রয়োজনীয় ঔষধ না থাকায় এর চাপ পড়ছে হাসপাতাল সমাজসেবা কার্যালয়ে। তারাও বরাদ্দ অনুপাতে ঔষধ দিতে হিমশিম খাচ্ছেন বলে জানালেন হাসপাতাল সমাজসেবা কর্মকর্তা প্রবীর রায়। দায়িত্বরত নার্স ও টেকনিশিয়ানরা জানান, এখনো ১০০ বেডের জনবল ও বরাদ্দ দিয়ে এই ২৫০ বেড হাসপাতাল চালাতে হচ্ছে। ডাক্তার, নার্স, টেকনিশিয়ানসহ সর্বক্ষেত্রে জনবল বৃদ্ধি প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পেলে আমরা কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে পারব। আইসিইউ তালাবদ্ধ আছে, সরকারের কোটি কোটি টাকার সম্পদ অপচয় হচ্ছে, সাধারণ মানুষ সেবা বঞ্চিত হচ্ছে বললেন হাসপাতালটির তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ অসীম কুমার সমাদ্দার। প্রয়োজনীয় জনবল ও বরাদ্দ বৃদ্ধি করে বাগেরহাটবাসীর প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা সুনিশ্চিত করবে কর্তৃপক্ষ, এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
