কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে থানার ওসি মোঃ লিটন মিয়ার বিরুদ্ধে রেলওয়ে উর্ধতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (পিডব্লিউ) আনিসুজ্জামান রাজনের নাম ভাঙিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।রেলওয়ে পুলিশ বলছে, গত মঙ্গলবার (১৭ জুন) ইশ্বরগঞ্জ উপজেলার আঠারোবাড়ি ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের বনগাঁও গ্রামের বাসিন্দা মো: রতন মিয়ার রেইনট্রি গাছ কাটা নিয়ে রেলওয়ের উর্ধতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (পিডব্লিউ) আনিসুজ্জামান রাজন রেলওয়ে ওসিকে জানান। এরপর রেলওয়ে থানার এ.এস.আই পারভেজ ও কনস্টেবল রুবেল মিয়া ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছ কাটা বন্ধ করে রতন মিয়ার মেয়ের জামাই দ্বীন ইসলামের জিম্মায় রাখেন।গাছ মালিক মো: রতন মিয়া অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার পৈত্রিক বসতবাড়ির গাছ কাটছিলাম, ওই সময় পুলিশ এসে গাছসহ ট্রলি আটকে দেয়। পরে থানায় ওসির সাথে দেখা করতে বললে আমার স্ত্রী ও মেয়ের জামাই কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে থানায় যান।’মেয়ের জামাই দ্বীন ইসলাম বলেন, ‘গত মঙ্গলবার বিকালের দিকে রেইনট্রি গাছ কেটে ট্রলিতে তুলার সময় রেলওয়ে পুলিশ এসে বাঁধা দেয়। তখন পুলিশ তাদের বলেন, ওসির কাছে অভিযোগ আছে, গাছ থানায় নেয়া লাগবে। এরপর এ.এস.আই পারভেজ রেলওয়ে ওসির সাথে ফোনে কথা বলিয়ে দেন। ওসি বলেন, রেলওয়ে পিডব্লিউ রাজন সাহেবের সাথে কথা বলেন। প্রকৌশলী আনিসুজ্জামান রাজনকে কল দিলে তিনি জানান, কাল কিশোরগঞ্জ এসে ঝামেলা শেষ করেন। এরপর পুলিশ গাছ রেখে দিয়ে বলে যায় থানায় গিয়ে ওসি স্যারের সাথে দেখা করতে।’দ্বীন ইসলাম আরও বলেন, ‘পরেরদিন অসুস্থ শাশুড়িকে নিয়ে সকাল ১০টায় কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে থানায় আসলে দায়িত্বরত পুলিশরা বলেন, ওসি স্যার বাইরে আছেন। এরপর পিডব্লিউ রাজন সাহেবকে কল দিলে তিনি বলেন, উনি মিটিংয়ে, ওসি সাহেবের সাথে বিষয়টি মিটমাট করে নেন। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার পর বিকাল ৪টার দিকে রেলওয়ে ওসি থানায় আসেন। এরপর আমাদের ডেকে নিয়ে ওসি বলেন, ‘রেলওয়ের মামলা বুঝেন! বাড়িঘর বিক্রি করেও মামলা শেষ হবে না। আইডব্লিউ, পিডব্লিউ বিষয়টা জানেন, লাখ টাকা দিয়েও শেষ করা যাবে না।’ তখন ওসির সাথে থাকা একজন পুলিশ কর্মকর্তা আমাদের ১০ হাজার টাকা দিতে বলে। এরপর ৫ হাজার টাকা দিয়ে বাড়ি আসার পথে ওসি লিটন কল দিয়ে বলেন, গাছ কাটতে সমস্যা নেই। পরে শুক্রবার গাছ কেটে মিলে নিয়ে যায়।’মো: রতন মিয়ার স্ত্রী কমলা আক্তার জানান, ‘আমার জামাইয়ের জায়গায় রেইনট্রি গাছ কিন্তু গাছ কাটার পর রেলওয়ে পুলিশ এসে বাঁধা দিয়ে থানায় নিয়ে যেতে চায়, পরে বলে থানায় গিয়ে ওসির সাথে দেখা করতে। আমি অসুস্থ হাত ভাঙা অবস্থায় মেয়ের জামাইকে নিয়ে কিশোরগঞ্জে রেলওয়ে থানায় আসি। রেলওয়ে ওসি আমাদের নানান হুমকিধামকি ও মামলার ভয় দেখিয়ে টাকা দাবি করলে আমি তিন হাজার টাকা দেই, তখন তারা বলে হবে না। এরপর মেয়ের জামাই মোবাইল থেকে দুই হাজার টাকা তুলে আনলে মোট পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে চলে আসি।’এ বিষয়ে রেলওয়ের উর্ধতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (পিডব্লিউ) আনিসুজ্জামান রাজন ‘সময়ের কণ্ঠস্বরকে’ বলেন, ‘আমার এক স্টাফ গাছ কাটা নিয়ে খবর দিলে আইডব্লিউ ও রেলওয়ে থানার ওসিকে জানাই। এরপর সেখানে পুলিশ গেলে কি হয় জানি না। তারা কিশোরগঞ্জ এসে কল দিলে আমি বলি, মিটিংয়ে কিশোরগঞ্জের বাইরে আছি, এটা আমার বিভাগের কিছু না, ওসি সাহেবের সাথে কথা বলেন।’ নাম ভাঙিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ নিয়ে তিনি বলেন, ‘কেউ তাঁর নাম ভাঙিয়ে কিছু করে থাকলে ব্যবস্থা নিবেন।’অভিযোগের বিষয়ে রেলওয়ে থানার ওসি মো: লিটন মিয়া ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিষেধ আছে’ উল্লেখ করে প্রথমে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। একপর্যায়ে কথা বলতে রাজি হন তিনি। অভিযোগের ঘটনা মিথ্যা উল্লেখ করে ওসি লিটন মিয়া ‘সময়ের কণ্ঠস্বরকে’ বলেন, ‘পিডব্লিউ রাজন সাহেব কল করে বলেন রেলওয়ের জায়গায় গাছ কাটা হচ্ছে, এরপর আমি ফোর্স পাঠাই। পরদিন গাছ কাটা নিয়ে লোক আসলে ওদের বলি, এসব আমাদের বিষয় না, আইডব্লিউ-পিডব্লিউ তাদের সাথে কথা বলেন। কমলা ও তার মেয়ের জামাইয়ের সাথে আমার কোনো আর্থিক লেনদেন হয়নি।’এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
