জোড়া সেতুতে দুর্ঘটনার হটস্পট হয়ে উঠেছে দেবীগঞ্জ-ভাউলাগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের ডাড়া নদীর অংশটুকু। ডাড়া নদীর উপর নির্মিত পুরনো সেতুটি জরাজীর্ণ হওয়ায় প্রায়ই সময় সেতু ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে যান চলাচল বন্ধ থাকতো। সাময়িক সংস্কারের পর পুনরায় সেতুটি ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ায় নতুন করে আরেকটি সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয় এলজিইডি।পুরনো ব্রিজের পাশেই ২০২২ সালে এলজিইডির ব্যবস্থাপনায় ২ কোটি ২২ লাখ ৯৭ হাজার ৮৩০ টাকা ব্যয়ে ২০ মিটার নতুন সেতু নির্মাণ কাজ শুরু হয়। পরের বছর ১৯ অক্টোবর সেতুটি চলাচলের জন্য উম্মুক্ত করে এলজিইডি। দেবীগঞ্জ উপজেলা সদরের সাথে টেপ্রীগঞ্জ এবং চিলাহাটি ইউনিয়নের মানুষের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম দেবীগঞ্জ-ভাউলাগঞ্জ জিসি সড়ক। প্রতিদিন প্রায় কয়েক হাজার মানুষ ও শতশত পণ্যবাহী ট্রাকের যাতায়াত এই সেতু ব্যবহার করে।বিপত্তি বাঁধে এখানেই। নতুন সেতুটি চলাচলের জন্য উম্মুক্ত করা হলেও পুরনো সেতুটি ভেঙে ফেলা হয়নি। ফলে নতুন ও পুরনো সেতুর উভয় দিকে ওয়াই (Y) আকৃতি ধারণ করেছে। উম্মুক্ত থাকায় এখনো ভারী যানবাহনের অনেক চালক ভুল করে কিংবা অভারটেক করার জন্য পুরনো সেতুটি ব্যবহার করছে। এতে সেতুটির উভয় দিকে যানবাহন বেরিয়ে যাবার সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকবার দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানায়।পুরনো সেতুটি শুধু পথচারী পারাপারের জন্য চালু রাখার দাবি উঠেছিল প্রথম থেকেই। এর জন্য পুরনো সেতুর উভয় অংশে ছোট পিলার কিংবা ব্যারিয়ার পোস্ট স্থাপনের দাবি জানানো হয়। নতুন সেতু উদ্বোধনের দেড় বছরের বেশি সময় অতিক্রম হলেও এলজিইডি কার্যত কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।এই সড়কে নিয়মিত যাতায়াতকারী ট্রাক চালক মহসীন মিয়া বলেন, ‘পুরনো সেতুটি দিয়ে ভারী যানবাহন যেন চলাচল না করে সেজন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। কারণ অনেক সময় দুই দিকে দিয়ে ভারী যানবাহন সেতুতে উঠায় তা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।’শমসের আলী নামে আরেক পথচারী জানান, ‘পুরনো সেতুর উভয় অংশে পিলার স্থাপন করলেই বড় গাড়িগুলো এই সেতুতে আর উঠতে পারবে না। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও থাকবে না।’নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক শিক্ষক বলেন, ‘পুরাতন সেতুর উভয় অংশে মাত্র কয়েকটি পিলার প্রয়োজন। দেড় বছরে সেটার ব্যবস্থা করতে পারেনি এলজিইডি। ভবিষ্যতে বড় কোন দুর্ঘটনা হলে তবেই টনক নড়বে এলজিইডি’র।’উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট দফতরকে এই বিষয়ে জানানো হয়েছিল।’এই বিষয়ে এলজিইডি’র উপজেলা প্রকৌশলী শাহরিয়ার ইসলাম শাকিল বলেন, ‘আমরা পুরনো সেতুটি ভেঙে ফেলতে চেয়েছিলাম। কিন্তু স্থানীয়রা নিজেদের চলাচলের জন্য তাতে বাধা দেয়। পরে ভারী যানবাহন যেন পুরনো সেতুতে উঠতে না পারে সেজন্য সেতুটির উভয় পাশে গতিনিয়ন্ত্রক ব্যারিয়ার পোস্ট স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এলাকাটি পৌরসভার আওতাভুক্ত হওয়ায় পৌরসভা কর্তৃপক্ষকে এই ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।’দেবীগঞ্জ পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী সাখাওয়াদ আলী বলেন, ‘এই ব্যাপারে আলোচনা হয়েছিল। এখনো প্রাক্কলন তৈরি করা হয়নি। শীঘ্রই এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
