টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর পৌর শহরের হারিয়ে যাওয়া ৫০ বছর পুরনো একটি খাল অবশেষে পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। পৌর প্রশাসকের দৃঢ় হস্তক্ষেপে এই খাল ফিরে পেয়েছে নাব্যতা।বুধবার (১৮ জুন) সরেজমিন উপজেলার শিয়ালকোল পশুর হাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, খালের দুপাশের দখল মুক্ত করা হয়েছে। খনন যন্ত্রের (ব্যাকহো) মাধ্যমে খালটি পুনরায় খনন করা হয়েছে। যার ফলে এখন পানি প্রবাহ হচ্ছে। এতে স্থানীয় কৃষক এবং এলাকাবাসী উচ্ছাস করছেন।ইতিহাস থেকে জানা যায়, পৌর শহরের লৌহজং নদী থেকে বীরহাটি, ফসলান্দি, বিরামদী, ভারই এবং শিয়ালকোল এলাকা দিয়ে প্রবাহিত এই খাল দিয়ে তৎকালীন বানিজ্যিক নৌকা চলাচল করত। নৌপথ প্রধান্য পাওয়ায় এ খালের বিকল্প ছিল না। দূরদূরান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা এই পথেই শিয়ালকোল হাটে আসতেন। হাটের পূর্ব পাশেই নৌকাগুলো নোঙ্গর করতেন। কালের বিবর্তনে খালটি তার জৌলুশ হারিয়ে ফেলে। মুরগির খামারের বিষ্ঠা, অসাধু চক্রের থাবায় বারবার বাধাপ্রাপ্ত হয়ে পানি প্রবাহ দিনের পর দিন কমতে থাকে।দীর্ঘদিন অব্যবস্থাপনা, দখল ও ময়লার কারণে খালটি যখন মৃতপ্রায়, ঠিক তখনই পৌর প্রশাসক মো. তারিকুল ইসলাম খালটি উদ্ধারের জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করেন। পৌর প্রশাসনের উদ্যোগে শিয়ালকোল ব্রিজ থেকে শিয়ালকোল পশুর হাট পর্যন্ত ১ কিলোমিটার অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে খালটি পরিষ্কার ও সংস্কার করার পর এখন তা আবারও বইছে আপন ধারায়। ফলে শহরের জলাবদ্ধতা কমবে এবং পরিবেশ ফিরবে আগের রূপে।স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ‘ছোটবেলায় এই খালে সাঁতার কেটেছি, এখন আবার সেই খাল ফিরে পেয়ে আমরা খুবই খুশি। প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞ।’ বর্ষাকালে খালের পানি প্রবাহিত না হয়ে লোকালয়ে চলে যেত। নোংরা পানির প্রভাবে অসুখ ছড়িয়ে পড়ত। এছাড়াও জমিতে পানি আটকাতেও পারবে না এবং সেঁচের সময় খুবই উপকার হবে।আরিফুল ইসলাম নামের এক যুবক জানান, ফসলান্দি, ভারই এলাকার খালটি দ্রুতই যেন পুনরুদ্ধার করা হয়। এতে কৃষক বাঁচবে। এই খালের অধিকাংশই অসাধুদের দখলে। কোথাও কোথাও রয়েছে বহুতল ভবন এবং বালু ফেলে তা ভরাট করার চেষ্টা। মুরগির খামারের যাবতীয় ময়লা ফেলে পানি প্রবাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সেই পানি বর্ষা মৌসুমে জমিতে উঠে ফসল নষ্ট হয় এবং কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পৌর প্রশাসককে হস্তক্ষেপে অতিদ্রুতই এই খালটি দখলমুক্ত করে পানি প্রবাহ সচল করার দাবি জানাই।গত সোমবার (১৬ জুন) বিকালে খালটির বর্তমান অবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবু আবদুল্লাহ খান এবং পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. তারিকুল ইসলাম।এর আগে গত (২ জুন) টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক শরিফা হক এই খাল খননের শুভ উদ্বোধন করেন।পৌর প্রশাসক মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘জনগণের অংশগ্রহণ ও সহযোগিতাই আমাদের প্রেরণা। একটি খাল শুধু পানি প্রবাহ নয়, এটি এলাকার পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য ও প্রাকৃতিক ভারসাম্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আমরা বাকি খালগুলোও ধাপে ধাপে পুনরুদ্ধার করব।’উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবু আবদুল্লাহ খান জানান, ‘এই খাল শুধু পরিষ্কার নয়, তা যেন আর কেউ দখল করতে না পারে—সেজন্য নিয়মিত তদারকি চলবে। ভবিষ্যতে এটি শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধির অংশ হিসেবেও কাজে লাগানো হবে।’পরিবেশবাদী ও সচেতন নাগরিকরা এই উদ্যোগকে ভূঞাপুরের জন্য এক নতুন সূচনা হিসেবে দেখছেন। প্রাণ ফিরে পাওয়া খাল যেন নগর জীবনে নতুন আশার সঞ্চার ঘটায়, এটাই এখন ভূঞাপুরবাসীর প্রত্যাশা।এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
