চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল যেখানে প্রতিদিন চিকিৎসার আশায় হাজারো মানুষ ভিড় করেন। কেউ আসেন গুরুতর অসুস্থ রোগী নিয়ে, কেউ বা শেষবারের মতো প্রিয়জনের মরদেহ গ্রহণ করতে। কিন্তু এই দ্বারেই ওঁত পেতে থাকে আরেক শোকের নাম—‘এম্বুলেন্স সিন্ডিকেট’।দীর্ঘদিন কিছুটা নিষ্ক্রিয় থাকার পর বহুল আলোচিত ও নিন্দিত এই চক্রটি আবারও পুরোপুরি সক্রিয় হয়ে উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, বাইরের কোনো এম্বুলেন্স রোগী আনলে কিংবা মরদেহ নিতে চাইলে চালকদের মারধর, হুমকি এমনকি ‘জিম্মি’ করে চড়া ভাড়া আদায় করছে তারা।চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (চমেক) এলাকায় কথিত ‘এম্বুলেন্স সিন্ডিকেট’ এখন আগের চেয়েও বেপরোয়া। বাইরের এম্বুলেন্স প্রবেশে বাধা, চালকদের মারধর ও স্বজনদের জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে একাধিক ভুক্তভোগীর কাছ থেকে।সংশ্লিষ্টদের মতে, চট্টগ্রাম মেডিকেলের পরিবহন ব্যবস্থায় গড়ে উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ অবৈধ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, যার পেছনে রয়েছেন কিছু দুর্বৃত্ত ও তাদের পৃষ্ঠপোষক মহল।ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হাসপাতালের প্রধান ফটক, পূর্ব গেট ও জরুরি বিভাগের প্রবেশপথে অবস্থান নেয় চক্রের সদস্যরা। বাইরের পরিচিত চালক বা স্বজনেরা এম্বুলেন্স নিয়ে এলেই বাধা দেওয়া হয়। অনেক সময় হুমকি-ধমকি ও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চালক বলেন, ‘আমরা লাশ নিতে গেলে কয়েকজন ঘিরে ধরে। বলে, বাইরের গাড়ি ঢুকতে পারবে না। প্রতিবাদ করলে গায়ে হাত তোলে, গাড়িতে লাথি মারে।’চক্রটির নিয়ন্ত্রণাধীন এম্বুলেন্স ব্যবহার ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প খোলা রাখা হয় না। এই সুযোগে রোগী ও স্বজনদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে চড়া ভাড়া।পটিয়া, হাটহাজারী, সাতকানিয়া, আনোয়ারা, বোয়ালখালী কিংবা নগরের অভ্যন্তরীণ রুটেও গড়ে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত ভাড়া দাবি করা হচ্ছে, যেখানে এসব রুটে সাধারণত ২ থেকে ৩ হাজার টাকাতেই এম্বুলেন্স পাওয়া যায়। রমজান, ছুটির দিন ও রাতের সময় ভাড়া আরও বাড়িয়ে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন একাধিক সূত্র।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চালক বলেন, ‘আমরা লাশ নিতে গেলে কয়েকজন ঘিরে ধরে। বলে, বাইরের গাড়ি ঢুকতে পারবে না। প্রতিবাদ করলে গায়ে হাত তোলে, গাড়িতে লাথি মারে।’চক্রটির নিয়ন্ত্রণাধীন এম্বুলেন্স ব্যবহার ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প খোলা রাখা হয় না। এই সুযোগে রোগী ও স্বজনদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে চড়া ভাড়া।পটিয়া, হাটহাজারী, সাতকানিয়া, আনোয়ারা, বোয়ালখালী কিংবা নগরের অভ্যন্তরীণ রুটেও গড়ে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত ভাড়া দাবি করা হচ্ছে, যেখানে এসব রুটে সাধারণত ২ থেকে ৩ হাজার টাকাতেই এম্বুলেন্স পাওয়া যায়। রমজান, ছুটির দিন ও রাতের সময় ভাড়া আরও বাড়িয়ে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন একাধিক সূত্র।সুশীল সমাজ ও সেবাপ্রত্যাশীরা বলছেন, রোগী পরিবহন ও মরদেহ বহনের মতো সংবেদনশীল সেবাকে কেন্দ্র করে যেন কেউ বাণিজ্য করতে না পারে—তা নিশ্চিত করতে হবে।এসকে/এইচএ
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
