আজ ১৭ জুন, পালিত হচ্ছে ‘আন্তর্জাতিক মরুকরণ ও খরা প্রতিরোধ’ দিবস। মরুকরণ ও খরা সম্পর্কে বিশ্ববাসীকে সচেতন করতে এবং এই সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়াতে ১৯৯৫ সাল থেকে জাতিসংঘ ঘোষিত এ দিবসটি পালিত হয়ে আসছে বিশ্বব্যাপী।সে বছর বাংলাদেশেও দিবসটি প্রথমবারের মতো পালিত হয় রাজশাহীর খরাপ্রবণ পৌরসভা কাকনহাটে। কারণ, জাতিসংঘের এ সংক্রান্ত কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর একটি বাংলাদেশ।খরা ও মরুকরণ কী?ফসল ফলানোর জন্য মাটিতে যে পরিমাণ পানি থাকার কথা, যখন সেই পরিমাণ না থাকে তখন একে খরা বলা যায়। খরার কারণে মাটি স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য বা কোমলতা হারিয়ে রুক্ষ হয়ে ওঠে। বৃষ্টিহীনতা কিংবা সেচ না পাওয়া—দুই কারণেই তা হতে পারে।বর্ষায় বাংলাদেশে টানা ১৫ দিন বৃষ্টি না হলে একে খরা পরিস্থিতি বলছেন সংশ্লিষ্টরা। আর জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, খরা ও মানবসৃষ্ট নানান কারণে উর্বর ভূমি ধীরে ধীরে মরুভূমিতে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়াই হচ্ছে মরুকরণ।মরুকরণ ও খরা- দুটিই পরিবেশগত সমস্যা; যা বর্তমানে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর কারণে ভূমির উৎপাদনশীলতা হ্রাস পায় এবং এটি কৃষিকাজ ও জীববৈচিত্র্যের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। উভয় ঘটনাই খাদ্য নিরাপত্তা, পানি সরবরাহ এবং জীবিকা নির্বাহের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ডেকে আনে পরিবেশগত বিপর্যয়।প্রচন্ড খরায় আমরা যখন নিজের হাতেই শরীরের ঘাম মুছে দিয়ে বলি, ‘বৃষ্টি হয় না কেন? তখন ভুলে যাই আমরা নিজের হাতে গাছ কেটছি। বলছি, বৃষ্টি কেন। নিজেরাই নিজেদের ভূমিকে মরুভূমি বানিয়ে আবার আফসোস করছি। বিশ্ব নেতারা বসে ঠিক করলেন, আমরা শুধু পরিবেশ রক্ষা করব, জলবায়ুর পরিবর্তন রোধ করব, মরুভূমিকে থামাব। আর সেই অঙ্গীকারে প্রতিটি দেশের মানুষকে এই সমস্যার সচেতন করতে এ দিনটিকে বিশেষভাবে গঠন করা হলো। কারণ খরা আর মরুকরণ শুধু দূরের কোনো দেশ বা বস্তুর সমস্যা নয়, এটা আমাদের সবার ভবিষ্যতের জন্য বড় হুমকি।বিশেষজ্ঞরা বলছেন মরুকরণের প্রধান কারণগুলো হলো অতিরিক্ত চারণভূমি থাকা, বনভূমি ধ্বংস, অপরিকল্পিত কৃষিকাজ, এবং জলবায়ু পরিবর্তন।জাতিসংঘের মরুকরণ প্রতিরোধ কনভেনশনের (ইউএনসিসিডি) তথ্য বলছে, ২০৩০ সালের মধ্যে মরুকরণের প্রভাবে বিশ্বে সাড়ে ১৩ কোটি মানুষের বাড়ি-ঘর ও কাজ হারানোর সম্ভাবনা রয়েছে।এনকে/এইচএ
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
