রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া লঞ্চ টার্মিনালের অদূরে নদীর বালুর ডুবোচরে লঞ্চের ধাক্কা লেগে চার থেকে পাঁচজন যাত্রী পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।শুক্রবার (৬ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে দৌলতদিয়া লঞ্চ টার্মিনাল থেকে আনুমানিক ৩শ ফিট দূরে এই দুর্ঘটনা ঘটে।পদ্মানদীতে পড়ে যাওয়া উদ্ধারকৃত যাত্রীরা হলেন- ফরিদপুর জেলার নগরকান্দার সাজেদুল, রাজবাড়ির পাংসার মাছপাড়া গ্রামের ইসমাইল মন্ডলের ছেলে নাজিমউদ্দিন (৪০), যশোর জেলার পাটবাড়িয়া এলাকার নবীওসুদ্দিন মোল্লার ছেলে মো. আশরাফুল আলম (৩৫)।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ঈদযাত্রায় মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া থেকে ছেড়ে আসা লঞ্চ (এম.ভি.ব্লাক বার্ড) দৌলতদিয়া লঞ্চ টার্মিনাল থেকে আনুমানিক ৩শ ফিট দূরে পদ্মা নদীর ডুবোচরের সঙ্গে ধাক্কা লাগলে লঞ্চ থেকে আনুমানিক চার থেকে পাঁচজন যাত্রী নদীতে পড়ে যায়। পরে দ্রুত লঞ্চের অন্যান্য যাত্রীরা লঞ্চ থেকে বয়া নামিয়ে দিলে নদীতে তলিয়ে যাওয়ার আগে বয়া ও রশি ধরে তিনজন যাত্রী লঞ্চে উঠে আসে। তাদের মধ্যে দুইজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে পাঠানো হয়।লঞ্চ থেকে পড়ে যাওয়া যাত্রী মো. আশরাফুল আলম জানান, লঞ্চে ধাক্কা লেগে কাত হয়ে গেলে আমিসহ আনুমানিক চারজন লঞ্চ থেকে পড়ে যাই। পরবর্তীতে লঞ্চ থেকে রশি নামিয়ে দিলে রশি ধরে লঞ্চে ওঠে আসি।তবে এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে বিআইডব্লিউটিএ বা নৌ-পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর মো. জিল্লুর রহমান বলেন, জরুরী সেবা ৯৯৯ থেকে খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে এসেছি। লঞ্চটি ডুবো চরের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে বাম দিকে কাত হয়ে যায় এবং লঞ্চের সামনে অংশে যারা ছিলেন তারা পানিতে পড়ে যায়।তিনি আরো জানান, প্রত্যক্ষদর্শী যারা ছিলেন তারা জানিয়েছেন, আনুমানিক চার থেকে পাঁচজন নদীতে পড়ে যায় এবং লঞ্চে যারা যাত্রী ছিলেন তারা তাদের উদ্ধার করে নিয়ে আসেন। যখন লঞ্চটি ঘাটে পৌঁছায় তখন লঞ্চ থেকে আমরা দুজন যাত্রীকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে প্রেরণ করি এবং সঙ্গে সঙ্গেই আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন যাই যে আর কাউকে পাওয়া যায় কিনা। ইতিমধ্যে এক নারী দাবি করে তার একজন ভাই সাজেদুল নামে তিনি নিখোঁজ রয়েছে। আমরা তার পেরিপেক্ষিতে দুটি লঞ্চ নিয়ে ঘটনাস্থলে যাই। খুঁজে বের করার চেষ্টা করি কেউ আছে কিনা। আমরা ওই মুহূর্তে ওইখানে কাউকে পাইনি। আমরা পরবর্তীতে যখন ফিরে আসি তখন যে নারীটি তার ভাই নিখোঁজ বলেছিলেন সে নিশ্চিত করে বলেন তার ভাই কোনভাবে সাঁতার কেটে তীরে ফিরে এসেছেন। আপাতত আমরা তিনজনের সন্ধান পেয়েছি বাকি আমরা কাউকে ওইভাবে পাইনি। আমরা এখানে সার্বক্ষণিক আছি। আমাদের ডুবুরির টিমও আছে। আমাদের উদ্ধার কাজ চলমান রেখেছি।এইচএ
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
