পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার আমখলা ইউনিয়নের প্রান্তিক খামারি জয়দেব সাহার খামারে লালিত-পালিত ‘যুবরাজ’ এখন ঈদের হাটের অন্যতম আলোচিত নাম। ফ্রিজিয়ান জাতের এই বিশাল গরুটির ওজন প্রায় ৩৫ মণ, উচ্চতা প্রায় ৬ ফুট। গরুটির দাম হাকা হয়েছে ১২ লাখ টাকা। অতি আদরের ষাড় যুবরাজের জন্মদিনও পালন করে খামারি জয়দেব।দুই বছর দুই মাস আগে জন্ম নেওয়া যুবরাজকে জয়দেব নিজের সন্তানের মতোই আদর-যত্নে বড় করেছেন। প্রতিদিন গরুটির পিছনে ব্যয় হয় প্রায় এক হাজার টাকা। প্রচণ্ড গরমে দিনে ৩-৪ বার গোসল করানো হয় তাকে। দূর থেকে দেখলে অনেকেই প্রথমে তাকে গরু নয়, বরং হাতি ভেবে ভুল করেন।গরুটির সম্পর্কে খামারি জয়দেব বলেন, ‘যুবরাজ আমার খুব শখের গরু। আমি ওর জন্মদিনও পালন করেছি। আমার নিজের ছেলের সঙ্গে যুবরাজের কোনও পার্থক্য করি না। কেউ যদি বাড়িতে এসে পছন্দ করে কিনে নেয়, সেটাই আমার বেশি ভালো লাগবে। হাটে না তুললেও সমস্যা নেই। এখন পর্যন্ত গরুটির দাম উঠেছে ৭ লাখ টাকা। আরও কিছু বেশি দাম পেলেই গরুটি বিক্রি করে দিবেন বলেও জানান তিনি। জয়দেবের দাবি, এটাই পটুয়াখালী জেলার সবচেয়ে বড় গরু। তিনি আশাবাদী, যুবরাজ এবার কোরবানির হাটে সেরা গরুর খ্যাতি অর্জন করবে।সাদা-কালো রঙের দৃষ্টিনন্দন যুবরাজকে দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন উৎসুক মানুষ। আমখলা গ্রামের নাজমুল হোসেন ও দোলন কুমার বলেন, ‘এত বড় গরু জীবনে কখনও দেখিনি। বাড়ির পাশেই অনেকে গরু পালেন, কিন্তু যুবরাজের মতো গরু আর একটিও নেই। আশা করি, এই গরুটি ন্যায্য দামে বিক্রি হবে।’গলাচিপা উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. সজল দাস বলেন, গরুটির উচ্চতা, ওজন ও দৈহিক গঠন দেখে বলা যায় এটি পটুয়াখালীর মধ্যে অন্যতম বৃহৎ গরু। এ ধরনের উদাহরণ স্থানীয় খামারিদের মধ্যে অনুপ্রেরণা জোগাবে। জয়দেবের মতো খামারিরা আমাদের গর্ব। আমরা সবসময় তাদের পাশে আছি।বর্তমানে বিদেশ থেকে গরু আমদানির প্রয়োজন নেই। দেশেই পর্যাপ্ত পশু উৎপাদিত হচ্ছে, যা চাহিদা পূরণে সক্ষম। গলাচিপা উপজেলায় স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলে ৯টি পশু হাট রয়েছে। এবার উপজেলায় কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা ২৩ হাজার ২৭০টি প্রস্তুত রয়েছে। আর চাহিদা রয়েছে ২২ হাজার। উদ্বৃত্ত পশুর সংখ্যা ১ হাজার ২৭০টি। প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে উপজেলার হাটগুলোতে ভেটেরিনারি টিম পরিদর্শন করেছে।এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
