রাজধানী ঢাকার নিকটবর্তী নবাবগঞ্জে পড়াগ্রাম মডার্ন লাইফ হাসপাতালে সিজারের সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলা, অসাবধানতা ও ভুল চিকিৎসায় এক নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।ভুক্তভোগী তারিণ শিকদার (২৭) অভিযোগ করে বলেন, গত ১৯ মে তার প্রসব ব্যথা উঠে। এরপর শিউলি বেগম (৪৫) নামে পড়াগ্রাম মডার্ন লাইফ হাসপাতালের পরিচালক শিউলি আক্তার তারিনকে ওই হাসপাতালে ভর্তি হতে বলেন। পরে ওই দিন মধ্যরাতেই ওই হাসপাতালের ডা. মুক্তা আক্তারের তত্ত্বাবধানে তারিনকে ভর্তি করানো হয়। কিন্তু ভর্তি করানোর পর জরুরি সিজার করানোর কথা থাকলেও সর্বশেষ পরের দিন সকাল ১০ টায় সিজার করা হবে বলে জানান শিউলি। কিন্তু ১০ টা পেরিয়ে সময় গড়িয়ে দুপুর হয়ে আসলেও ডাক্তার আসছে আসছে বলে দুপুর পর্যন্ত বসিয়ে রাখা হয়।ভুক্তভোগী তারিণ শিকদারের স্বামী রাকিব হাসান জানান, রোগীর প্রসব ব্যথা না কমায় স্বজনরা অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার কথা বললে পরদিন দুপুর সাড়ে ১২.৫৫ মিনিটের দিকে রোগীকে সিজারের জন্য অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে নবজাতক ও প্রসূতিকে অপারেশন টেবিল থেকে বের করে আনা হয়। এ সময় নবজাতকের ডান হাতের তিন নম্বর আঙ্গুল ও বাম চোখে মারাত্মক ক্ষত দেখতে পায়। শিশুটি চোখ মেলতে ও নিশ্বাস নিতে পারছে না। নবজাতকের মুখ দিয়ে এক ধরনের ফেনা দেখা যাচ্ছে।শিশুটির স্বজনেরা আরো জানান, এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, শিশুটির নিজের হাতের নখে লেগে এরকম ক্ষত হয়েছে। নিশ্বাস নিতে কষ্ট হওয়ার বিষয়ে পড়াগ্রাম মডার্ন লাইফ হাসপাতালের পরিচালক শিউলি বলেন, ‘আপনাদের বাচ্চার পেট থেকেই ঠান্ডাজনিত সমস্যা হয়েছে। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করেন, ঠিক হয়ে যাবে।’এরপর নবজাতককে ওই হাসপাতালে পাঁচ ঘণ্টা রাখা হয়। পরে নবজাতকের শারীরিক অবনতি ঘটলে এদিকে নবজাতকের নিশ্বাস নিতে আরো বেশি সমস্যা ও বুকে শো শো শব্দ করছে শুনে শিউলি বলেন, ‘ডাক্তার বলেছেন, আপনাদের শিশুর হার্টে কোনো ফুটো অথবা নিউমোনিয়া হতে পারে’ উল্লেখ করে প্রসূতি মা ও নবজাতককে দ্রুত ঢাকার কোনো বড় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।এ অবস্থায় স্বজনরা নবজাতককে মিরপুরে একটি হাসপাতালে ভর্তি করান। সেখানে শিশুটিকে দুই দিন আইসিইউতে রাখা হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে সিজারের আগে যে দুইটি আল্ট্রা করানো হয়েছে তার রিপোর্ট আনতে বলেন। তবে পড়াগ্রাম মডার্ন লাইফ হাসপাতাল থেকে উক্ত আল্ট্রার রিপোর্ট আনতে গেলে তারা একটি আল্ট্রার রিপোর্ট স্বজনদের হাতে তুলে দেন। বাকিটা হারিয়ে গেছে বলে তাদের তাড়িয়ে দেন।এদিকে মিরপুরের হাসপাতাল থেকে এক্স-রে করে জানানো হয়, সিজারে দেরি হওয়ার কারণে শিশুটি প্রসূতি মায়ের গর্ভেই মলত্যাগ করে এবং তা ওই নবজাতকের নাক-মুখ দিয়ে প্রবেশ করায় বুকের একপাশ ব্লক হয়ে গিয়েছে। শারীরিক ত্রুটিগ্রস্থ অবস্থায় ভূমিষ্ঠ হয়েছে। এরপর শিশুটিকে সেখান থেকে ডক্টর কেয়ার হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়। পরে সেখানে একদিন চিকিৎসার পর শিশুটি মারা যায়।হাসপাতাল থেকে জানানো হয়, সিজারের সময় শিশুটি আঘাতপ্রাপ্ত হয়, পাশাপাশি দেরি করে সিজার করানোর কারণে শিশুটির এমন পরিণতি হয়েছে। এলাকাবাসী অভিযুক্ত শিউলি ও হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের বিচারের দাবি তুলে বলেন, এর আগেও পড়াগ্রাম হাসপাতালে শিউলির নেতৃত্বে ভুল চিকিৎসা ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলাজনিত কারণে আরো একাধিক নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। এদের উন্নত কোনো যন্ত্রপাতি না থাকা, ডাক্তার না থাকলে নার্সদের দিয়ে সিজার করানো নতুন ঘটনা নয়। ঘটনার সত্যতা যাচাই করে ঊর্ধ্বতন মহল এদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, এটাই অঞ্চলবাসীর দাবি।এ ঘটনার পর সিজারের সঙ্গে জড়িত অভিযুক্ত পড়াগ্রাম মডার্ন লাইফ হাসপাতালের পরিচালক শিউলি আক্তারের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় আমাদের কোনো দোষ নেই। ভুক্তভোগীরা আমাদের কিছুই করতে পারবেন না।’ তবে গণমাধ্যমের সামনে এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি তিনি। এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
