চলতি মৌসুমে ক্রীড়াঙ্গনে চলছে নতুনদের জয়জয়কার। বিশেষত ইউরোপিয়ান ফুটবলে এই হাওয়া দেখা গেছে। ইউরোপিয়ান ফুটবলের চলতি মৌসুমের শীর্ষ টুর্নামেন্টগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, বেশ কয়েকটি নতুন ক্লাব প্রথমবারের মতো শিরোপার স্বাদ পেয়েছে। আবার দেখা গিয়েছে দীর্ঘ অপেক্ষা ঘুঁচিয়ে শিরোপার দেখা পেয়েছে বেশ কয়েকটি ক্লাব। এর মধ্যে ক্রিস্টাল প্যালেস তাদের ক্লাব ইতিহাসের ১১৯ বছরের অপেক্ষা ঘুচিয়ে প্রথমবারের মতো কোনো শীর্ষ লীগের শিরোপা জিতেছে। এছাড়াও ঘুচেছে টটেনহ্যামের ৪১ বছরের অপেক্ষা। ফুটবলের শিরোপা দখলে নতুনদের এমন সাফল্যের হাওয়া এবার লাগতে চলেছে ক্রিকেটেও। বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ফ্রাঞ্চাইজি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগও (আইপিএল) এবার পেতে যাচ্ছে নতুন চ্যাম্পিয়ন। আইপিএলের ১৮ তম আসরের ফাইনালে আজ মঙ্গলবার (৩ জুন) মুখোমুখি হবে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু এবং পাঞ্জাব কিংস। টুর্নামেন্টটির ১৮ বছরের ইতিহাসে একবারও শিরোপার দেখা পায়নি এই দুই দল। ফলে স্বাভাবিকভাবেই আইপিএল পেতে যাচ্ছে নতুন চ্যাম্পিয়ন। পাঞ্জাব এর আগে ফাইনালের মঞ্চ মাতিয়েছিল একবার। সেটাও ২০১৪ সালে। সেবার কলকাতা নাইট রাইডার্সের কাছে হেরেছিল তারা। আর তিনবার ফাইনাল খেলে একবারও জিততে পারেনি রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু। তবে আইপিএলের এবারের মৌসুমে দুর্দান্ত করেছে দু’দল। প্রথম ও দ্বিতীয় স্থানে থেকেই গ্রুপ পর্ব শেষ করেছে পাঞ্জাব কিংস ও বেঙ্গালুরু। ফলত ফাইনালে যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। পুরো আসর জুড়ে আরসিবি দুর্দান্ত খেলেছে। তবে এর জন্য দলের ব্যাটিং লাইন আপকে বাহবা দিতেই হয়। বিশেষ করে ওপেনিং জুটিতে বিরাট কোহলি এবং ফিল সল্ট দুর্দান্ত করছেন। চলতি আসরে ব্যাট হাতে ৬১৫ রান করেছেন এই ব্যাটার। এছাড়াও রজত পতিদার, জিতেশ শর্মা, লিয়াম লিভিংস্টোনরা রয়েছে দুর্দান্ত ফর্মে। বোলিং ডিপার্টমেন্টেও চলতি মৌসুমে দুর্দান্ত করছে আরসিবি। জশ হ্যাজেলউড, ভুবনেশ্বর কুমার, যশ দয়াল, ক্রুনাল পান্ডিয়া ও সুয়শ শর্মা যেভাবে বল নাড়াচাড়া করেন, তা দেখলে প্রতিপক্ষের মাথায় টেনশন বসে যায়।এদিকে কোন অংশে কম যায় না পাঞ্জাবও। প্রভসিমরান সিং ও প্রিয়াংশ আর্য ওপেনিং জুটিতে রীতিমতো ঝড় তুলেছেন এই মৌসুমে। এছাড়াও জশ ইঙ্গলিশ, শ্রেয়াস ও নেহাল ওয়াধেরা নিজেদের ব্যাটিং দক্ষতায় দলকে শক্ত অবস্থানে রাখেন। বল হাতে কাইলি জেমিসন, অর্শদীপ সিং, রহমতুল্লাহ ওমরজাইরা যেভাবে নিজেদের সেরাটা দেন, তা ফাইনাল ম্যাচে প্রভাব ফেলতে পারে।মাঠে আজ শুধু একটি ট্রফির লড়াই নয়, এটা দুই তরুণ নেতৃত্বের স্মৃতির লড়াই, এটা লাল রঙের মিশনের লড়াই, যেখানে উত্সাহ আর আশা ফুটে উঠবে শেষ পর্যন্ত। যেই দলই জিতুক, নতুন চ্যাম্পিয়ন আজ জন্ম নেবে, নতুন ইতিহাস লেখা হবে।
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
