রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে বিগত কিছুদিন আগে থেকে। তবে সম্প্রতি নিম্নচাপের প্রভাবে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত হয় বাগমারাসহ পুরো রাজশাহী জেলায়। এই বৃষ্টিপাতের ফলে জমির ধানগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ধানগুলো কাটা নিয়ে চরম বিরম্বনায় পড়েছেন উপজেলাটির কৃষকরা।উত্তর জামালপুর গ্রামের কৃষক বাবলু হোসেন তার প্রায় ১১ কাঠা জমির পেকে যাওয়া ধান কাটতে পারছিলেন না। বৃষ্টির পানিতে ধানগুলোও ডুবে গেছে। শ্রমিকের মজুরিও বেশি হওয়ায় তিনি প্রচুর উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছিলেন। তবে আজ সকালে এক দল লোক এসে তার খেত থেকে পাকা ধানগুলো কেটে বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছেন। মজুরিও পরিশোধ করতে হয়নি। শুধু বাবলু হোসেন নয়, এরকম অনেকেই পেয়েছেন এ সুবিধা। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের নেতারা এভাবেই বিনা মজুরিতে কৃষকদের ধান কেটে দিচ্ছেন বাগমারায়।বৃষ্টির প্রভাবে ধান নষ্ট হওয়ার বিষয়টি রাজশাহী জেলা কৃষক দল সভাপতি শফিকুল ইসলামের নজরে আসে। এরপর তিনি সকল উপজেলার নেতাদের নির্দেশনা দেন কৃষকদের ধান কেটে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার। আজ রোববার সারাদিন কৃষকদলের নেতা-কর্মীদের এই তৎপরতা দেখা গেছে।এছাড়া, গতকাল শনিবার বিকেলেও ভরট্ট গ্রামের স্থানীয় বিলে বিশেষ টি-শার্ট পরে কয়েকজনকে ধান কাটতে দেখা যায়। এ সময় কয়েকজনের সঙ্গে কথা হয় সময়ের কন্ঠস্বরের। তাঁরা জানান, গরিব কৃষকদের ধান ঘরে পৌঁছে না দেওয়া পর্যন্ত তাঁরা ফিরবেন না।খেতের পাশে থাকা ভরট্ট গ্রামের কৃষক গোলাম মোস্তফা (৫০) বলেন, ‘বৃষ্টির পানিতে খেতের পাকা ধান মাটিতে পড়ে গেছিল। পাইট (শ্রমিক) পাওয়া যাচ্ছিল না, কৃষক দলের নেতারা এসে ধান কেটে বিপদ থেকে রক্ষা করলেন।’ এমন মন্তব্য কৃষক রফিকুল, সোহেল রানা, আবদুস সামাদ, জামাল হোসেনসহ কয়েকজনের। সোনাডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শিক্ষক আয়নাল হক বলেন, ‘কৃষক দলের নেতাদের কাজটা ভালো লেগেছে, আমি নিজেও অংশ নিয়েছি। গরিব কৃষকদের উপকার হলো।’বাগমারা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘বৃষ্টিতে ও বিলে পানি প্রবেশ করার কারণে পাকা ধান তলিয়ে গেছে। তবে এভাবে গরিব কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর কারণে উপকার হয়েছে।’ এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
