কুমিল্লায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে হোটেল কর্মচারি মামুন আহমেদ রাফসান নিহত হওয়ার ১০ মাস পর সাবেক এমপি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার ও তার মেয়ে সাবেক মেয়র ডা. তাহসিন বাহার সূচনাসহ ১৪৭ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছে। মামলায় আরও ১০০-১৫০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।গতকাল মঙ্গলবার (২৭ মে) গভীর রাতে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন নিহত রাফসানের ভাই মো. রানু মিয়া। তিনি হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার তেঘরিয়া গ্রামের বাসিন্দা।এজাহারে বলা হয়, গত বছরের ৫ আগস্ট বিকেল ৩টার দিকে আদর্শ সদর উপজেলার ক্যান্টনমেন্ট ওভারব্রিজের নিচে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার একটি মিছিল চলছিল। তখন বাহার ও সূচনার নির্দেশে আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা পিস্তল, শটগান, রাইফেল, হাতবোমা, ককটেলসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মিছিলে হামলা চালান। তারা এলোপাতাড়ি গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ত্রাস সৃষ্টি করেন। এতে ক্যান্টনমেন্ট মার্কেট এলাকার একটি হোটেলের কর্মচারি মামুন আহমেদ রাফসান (১৮) গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে ক্যান্টনমেন্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।মামলার আলোচিত আসামিদের মধ্যে রয়েছেন— আদর্শ সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম টুটুল, সদর দক্ষিণ উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাবলু, বুড়িচং উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আখলাক হায়দার, কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আতিক উল্লাহ খোকন, মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল মাহমুদ সহিদ এবং স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি জহিরুল ইসলাম রিন্টু।বাদী রানু মিয়া বলেন, “বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় আমার ভাইকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়। হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম জানান, ঘটনার পর নিহত রাফসানের মরদেহ হবিগঞ্জে দাফন করা হয়। তবে পরিবার সে সময় মামলা করেনি। সম্প্রতি সরকারি গেজেটে রাফসানকে ‘শহীদ’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হলে পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়। তিনি বলেন, মামলাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।ওসি আরও জানান, এ নিয়ে সাবেক এমপি বাহারকে আসামি করে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনসংক্রান্ত ঘটনায় থানায় মোট ১২টি মামলা দায়ের হয়েছে।এইচএ
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
