দুই পাহাড়ের বুক চিরে বয়ে চলা বায়েজিদ লিংক রোড। যা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সঙ্গে যুক্ত করেছে নগরকে। সড়কটির কারণে যান্ত্রিক জীবনে যেমনটি সহজ করেছে তার চেয়ে বেশি বৃদ্ধি করেছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। এ যেন জনজীবনের জন্য একের ভিতর ডাবল স্বস্তি। যার কারণে প্রতিদিন পাহাড় ঘেরা ৬ কিলোমিটার সড়কটিতে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ভরা ও মনোরম দৃশ্য দেখতে হাজার হাজার মানুষ ভিড় জমায়। তবে দৃষ্টিনন্দন এই সড়কটি যেন এখন আতঙ্কের নাম। কারণ আট মাস ধরে সড়কটি রাতের বেলায় আঁধারে নিমজ্জিত থাকে। গত ৮ মাস আগে দুষ্কৃতিকারীরা সড়ক বাতির মিটার, তার ও গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম চুরি করে নিয়ে যায়। যার কারণে সন্ধ্যার পর পরই প্রতিনিয়তই ছোট-বড় দুর্ঘটনার জন্য বিপদজনক হয়ে উঠেছে সড়কটি। সড়ক বাতি না থাকায় নির্জন ও অন্ধকার পরিবেশে প্রতিদিন ঘটছে ছিনতাই, ডাকাতিসহ অপ্রীতিকর ঘটনা। এই সড়কে গরু বোঝায় ট্রাক লুট করে চালককে খুন করার ঘটনাও রয়েছে।সীতাকুণ্ড উপজেলার স্থানীয়রা জানান, যেখানে নগরীতে যেতে আমাদের এক থেকে দেড় ঘন্টার সময় প্রয়োজন হতো সেখানে এখন বায়েজিদ লিংক রোড়টি হওয়াতে মাত্র ৩০ থেকে ৪০ মিনিটে যাওয়া যায় নগরীতে।সড়ক বাতি না থাকার বিষয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন জানিয়েছেন, গত বছর অক্টোবর মাসের দিকে বায়জিদ লিংক রোডের সড়ক বাতির মিটার, তার,ও গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম চুরি হয়ে যায়। যার কারনে সড়ক বাতিগুলো জ্বলেনা। আশা করি সড়ক বাতিগুলো দ্রুত পুনরায় চালু হবে। এদিকে, নিরাপত্তা নিশ্চিতে ও অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে সন্ধ্যা নামতেই ঘুরতে যাওয়া দর্শনার্থীদের চলে যেতে বাধ্য করে পুলিশ। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এ সড়কে দ্রুত সড়ক বাতি চালু করার জন্য চট্টগ্রাম চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে অনুরোধ জানিয়েছেন বায়েজিদ বোস্তামী থানার ওসি আরিফুল রহমান।সড়কের সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসা পর্যটক জিন্নাতুল ফিরোজা সুমি বলেন, সড়ক বাতিগুলো যখন ছিল তখন দিনের বেলার পাশাপাশি রাতের বেলায়ও পাহাড়ের পরিবেশটা সুন্দর উপভোগ্য ছিল। সড়ক বাতি না থাকার কারণে সন্ধ্যায় একটু আধাঁর নামার আগেই এখান থেকে চলে যেতে হচ্ছে। সড়ক বাতি না থাকা অবস্থায় বায়েজিদ লিংক রোডে খুনের ঘটনাও ঘটেছে। এই সড়কে ছিনতাই ডাকাতির ঘটনাতো হরহামেশাই হয়। তাই কর্তৃপক্ষের অনুরোধ এই সড়কটিতে যাতে দ্রুত বাতির ব্যবস্থা করা হয়।দেলোয়ার হোসেন নামের এক প্রাইভেট কার চালক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বায়েজিদ লিংক রোডে সড়ক বাতি নেই। যার কারণে এখানে প্রতিদিন চোর ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে।মামুনুর রশিদ মাহিন নামের এক যুবক বলেন, যেহেতু এখানে মানুষজন ঘুরতে আসে তাই দ্রুত পুনরায় সড়ক বাতি গুলো লাগানোর ব্যবস্থা করা খুবই জরুরী। এই সড়কটি নির্জন হওয়ায় খুনের ঘটনাও ঘটেছে। সন্ধ্যায় খুব হাঁটাহাঁটি করতে ইচ্ছে হয় কিন্তু নিরাপত্তার কথা ভেবে আর নামি না।বায়েজিদ থানার ওসি আরিফুর রহমান বলেন, বায়েজিদ লিংক রোডে সড়ক বাতিগুলো দীর্ঘদিন ধরে জ্বলছেনা। যার কারণে এই পথ দিয়ে যাতায়াতকারীদের অসুবিধা হয়। কিন্তু নিরাপত্তার স্বার্থে সব সময় এই সড়কে পুলিশ টহল দেয়। বাতিগুলো না জ্বলার বিষয়ে আমি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে বিষয়টি জানিয়েছে।চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রকৌশলী আসাদ বিন আনোয়ার বলেন, গত বছরের আগস্ট মাসের দিকে এই সড়ক বাতি গুলোর মিটার,তার ও গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম চুরি হয়ে যায়। যার কারণে সড়ক বাত্তিগুলো বন্ধ রয়েছে। সড়ক বাতিগুলো পুনরায় চালু হওয়ার ব্যাপারে কাজ চলছে। আশা করি দ্রুত কাজ শেষ হলে সড়ক বাতি গুলো জ্বলবে।এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
