কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় পাগলা কুকুরের কামড়ে নারীসহ আহত হয়েছে অর্ধশতাধিক মানুষ। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।বৃহস্পতিবার (০২ এপ্রিল) বিকাল থেকে পৌর সদরসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এমন ঘটনা ঘটে। রাত ৮টা পর্যন্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩০জন নারী-পুরুষ চিকিৎসার জন্য এসেছেন। একসঙ্গে এতো রোগীর চাপে চিকিৎসা দিতে হিমশিম অবস্থা হাসপাতালের কর্তৃপক্ষের। এরমধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। এমন পরিস্থিতিতে পাগলা কুকুরগুলোকে বন্দি করা না হলে ভয়াবহতা বাড়তে পারে বলে মত চিকিৎসকদের।আহতরা হলেন, ইমরান (৩৩), সাদেক (৩৫), মানছু মিয়া (৪০), জয় (১৫), খুশনাহার (৪৫), আসমা (৩২), মুনতাজ উদ্দিন (৭০), শরিফ (৩০), কাওসার (২২) জিহাদ (১৫), বাবুলমিয়া (৪০), মিলন (৩৬), সিয়াম (২০), সুমা (২৫), রিনা (২৭), কিসমত (১৪), শিপন (২২), লোকমান হোসেন (৩০), সাখাওয়াত (৪২), ইমরান (২৫), বিজয় (১৭), স্বপন মিয়া (৫০), হারুন অর রশীদ (৫৫), পলাশ (২৫), আকিব আলম (১৫), সুমিত (১৮), লাবণ্য (১৫), সানজিদা (২৫), রফিকুল ইসলাম (৫০), সাদেকুর রহমান (৩৫), রইছ উদ্দিন (৬৮)সহ আরো অনেকে। স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে উপজেলার পাটুয়াভাংগা ইউনিয়নের পুলেরঘাট বাজার এলাকা থেকে একটি পাগলা কুকুর হঠাৎ করে যাকেই সামনে পেয়েছে তাকে কামড় দেওয়া শুরু করে। সেখান থেকে ১০ কিলোমিটার পর্যন্ত পাকুন্দিয়া পৌর সদর বাজারে বিভিন্ন অঞ্চলে পথচারীদের এভাবে অর্ধশতাধিক মানুষকে কামড় দিয়ে আহত করে কুকুরটি। এসময় বেশকিছু গরু-ছাগলকেও কুকুরটি কামড়ায় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এসময় লোকজন ভয়ে ছোটাছুটি করেন। কেউ কেউ কুকুরটি মেরে ফেলার চেষ্টা করেও তার নাগাল পাননি। এদিকে ঘটনা শুনার পরপর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছুটে এসে আহতদের চিকিৎসার খোঁজ খবর নিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রূপম দাস ও পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম আরিফুর রহমান।সরেজমিনে হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, অধিকাংশ আহতেরই আক্রান্ত হওয়া স্থান থেকে রক্ত ঝরছে। কেউ বাইরে বসে আক্রান্ত স্থানে সাবান দিয়ে ধুতো করছেন। কেউবা আবার জরুরী বিভাগে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন। আহত এবং স্বজনদের উপচেপড়া ভিড় হাসপাতালজুড়ে। হাসপাতাল সুত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত ৮টা পর্যন্ত ৩২ জন লোক চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে এসেছেন। এমন পরিস্থিতিতে একসঙ্গে এতো রোগীর চাপে হিমশিম অবস্থা নার্সদের। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আহতদের ভর্তি করা হয়েছে হাসপাতালে। উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঁচজনকে কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।কুকুরের কামড়ে আহত ইমরান বলেন, ‘কিছু বুঝে ওঠার আগেই একটি পাগলা কুকুর আমাকেসহ আমার আশপাশের আরও ১০-১৫ জনকে কামড়ায়। কুকুরটি সামনে যাকে পাচ্ছে তাকেই কামড়াচ্ছে। কোনোভাবেই তাকে ঠেকানো যাচ্ছে না।আহত খুশনাহার নামে আরেকজন বলেন, ‘একটি পাগলা কুকুরের কাছে আমরা অসহায়। কামড়ে মাংস ছিঁড়ে ফেলছে। এটার একটা ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। অবিলম্বে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.নূর-এ-আলম খান জানান, সন্ধ্যার পর থেকে ৩০জন নারী-পুরুষকে পাগলা কুকুরটি কামড় দেয়। তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা নিয়েছেন। আহতের মধ্যে যাদের অবস্থা গুরুতর তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, যেভাবে লোকজন আসছেন, তাতে মনে হচ্ছে আহতের সংখ্যা অর্ধশতাধিকের বেশি হবে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যা ভ্যাকসিন ছিলো তা শেষ। অনেকেই বাইরে থেকে কিনে পুস করছেন। কুকুরের কামড়ে আহত হয়ে একসাথে এতো রোগী আর কখনো আসেনি। পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুপম দাস বলেন, ‘আহত সকল রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ভেকসিনসহ সব ধরনের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। সেইসাথে কুকুরটিকে আটকের জন্য পুলিশ কাজ করছে। পাশাপাশি মাইকিং করে লোকজনকে সতর্ক করা হচ্ছে।এদিকে কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন নিজের ফেসবুক পেইজে তিনি লিখেন, পাকুন্দিয়া উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন এলাকায় পাগলা কুকুরের কামড়ে বেশ কিছু পথচারী আহত হওয়ার খবর আমি পেয়েছি। বর্তমানে জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলায় আমি ঢাকায় অবস্থান করছি, তবে এলাকার পরিস্থিতি নিয়ে আমি অত্যন্ত উদ্বিগ্ন।তিনি আরও লিখেন, আমি এই বিষয়ে পাকুন্দিয়া উপজেলা প্রশাসনের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করছি এবং পরিস্থিতির খোঁজখবর নিচ্ছি। সরকারি হাসপাতালে সাময়িকভাবে কুকুরের কামড়ের ভ্যাকসিনের সংকট থাকলেও, প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত তা ক্রয় করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইতিমধ্যে সকল আক্রান্ত রোগীদের ভ্যাকসিন প্রদান নিশ্চিত করা হয়েছে। আপনারা আতঙ্কিত হবেন না আমরা আপনাদের পাশে আছি।এফএস
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
