‘মে দিবস’ আসলেই দিবসটিকে কেন্দ্র করে নেত্রকোনা জেলার প্রায় অর্ধশতাধিকের উপরে শ্রমিক সংগঠনগুলো দিবসকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন জায়গা থেকে চাঁদা তোলা শুরু করে। এদিন বিভিন্ন স্থানে আয়োজন করা হয় বিভিন্ন ধরনের খাবার-দাবারের, সেই সাথে একত্রিত করা হয় সকল শ্রমিকদের। কিন্তু আদৌ শ্রমিকরা জানেই না এই দিবসের তাৎপর্য কি? পায়নি ‘মে দিবসের কোন ফলাফল। নেত্রকোনা জেলা শহরের তেরি বাজার মোড়ে প্রতিদিন বসে কামলাদের বাজার। সেখান থেকে শ্রমিকরা তাদের দৈনিক মজুরির হারে শ্রম বিক্রি করার জন্য সকাল থেকে বসে থাকে। পরে চাহিদা অনুযায়ী চলে যায় জেলার বিভিন্ন জায়গায়। এই বাজারের প্রতিদিনে উপস্থিত হয় প্রায় তিন শত থেকে ৩৫০ জন শ্রমিক। কিন্তু বর্তমানে সপ্তাহের মধ্যে একদিন বা দুইদিন শ্রম বিক্রি করতে পারলেও সপ্তাহের অন্যান্য দিন গুলোতে পাননা শ্রম ব্রিক্রির ক্রেতা। ৪০ বছর ধরে কামলা বাজারে শ্রম ব্রিক্রি করতে আসা নূর মিয়া বলেন, কাজ করতে করতে বয়স হয়ে গেছে। শ্রমিক দিবস আসলেই আমাদের কথা মনে হয়, এছাড়া আমরা কেমন আছি, আমাদের পেটে ভাত জুটে কিনা তার কোন খোঁজ খবর নেয় না কোন সংগঠন। আমাদের এই বাজারে আাসা শ্রমিকদের মধ্যে অর্ধেকের বেশি জানে না শ্রমিক দিবস টি কেন পালন করা হয়? এবং শ্রমিক দিবস তাদের কি কাজে আসে? আমাদের জন্য শ্রমিক দিবস থাকলেও শ্রমিক দিবসে এক প্লেট বিরানি ও জোটেনা আমাদের কপালে কপালে।কামলা বাজারের আরেক শ্রমিক রশিদ মিয়া জানান, এই কামলা বাজারের অনেক শ্রমিক আছে যারা আহত হলে খোঁজ নেওয়ার জন্য কোন সংগঠন এগিয়ে আসে না বা সহায়তা করে না এমনকি তাদের শ্রমের নিশ্চয়তা দেওয়ার মতো সারা বছর কোন সংগঠনের দেখা মেলে না, ব্যক্তি উদ্যোগ ছাড়া। শ্রমিক কল্যাণ ট্রাস্টের নামে তোলা সাদা কোথায় যায় জানেন না তারা। কামলা বাজারের সভাপতি শ্রমিক নেতা মো. শরীফ জানান, সাংগঠনিকভাবে কোন সহযোগিতা না পেলেও ব্যক্তি উদ্যোগে তার সাথে নিয়োজিত শ্রমিকদের জন্য তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সহযোগিতা করে থাকেন। ইতিমধ্যে তিনি ব্যক্তি উদ্যোগে অনেকের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন। শহরের বাহিরে হাওরগুলো ঘুরে দেখা গেছে হাওড়ে নিয়োজিত দৈনিক মজুরিতে কাজ করা শ্রমিকদের নেই কোনো সংগঠন তারা জানে না শ্রমিক দিবসে কি? এমনকি তাদের কাজের কোন নিশ্চয়তা না থাকায় যখন যে কাজ মিলে দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে সেই কাজেই করছেন তারা। তাদের জন্য নেই কোন শ্রমিক সংগঠনও। এইদিকে সমীল শ্রমিক রহিছ উদ্দিন জানান, তারা বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের সদস্য হলেও মে দিবস বা নির্বাচন ছাড়া কখনো নেওয়া হয় না তাদের কোন খোঁজ খবর বা কখনোও কোনো সময় কেউ অসুস্থ হলে দেয়া হয় না কাউকে আর্থিক কোন সহযোগিতা অথচ শ্রমিক দিবস আসলেই শ্রমিক নেতারা তাদের শ্রমের দাবিও আর্থিক সহযোগিতা নিয়ে সোচ্চার হয় কিন্তু সারা বছর তার কোন খোঁজ খবর থাকে না, এমনটাই বলছেন রহিছ উদ্দিন।অন্যদিকে নারী উদ্যোক্তা কামরুন্নাহার লিপি বলেন, তাদের নিয়ে সরকারিভাবে ১/২ টি সংগঠন থাকলেও তাদের জীবন মান উন্নয়ন, অধিকার আদায় ও চাকরির নিশ্চয়তার জন্য বা তাদের নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার জন্য কোন সংগঠন নেই। নারী দিবস ছাড়া মে দিবসকে কেন্দ্র করে নারী উদ্যোক্তাদের তেমন কোন মূল্যায়ন বা সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয় না। তাই তারা চান নারীদের জন্য জন্য স্থায়ী একটি সংগঠন, যারা কাজ করবে এদের জীবন মানে উন্নয়নে ও কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা। এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. রাফিকুজ্জামান জানান, নারীদের কোন স্থায়ী সংগঠন না থাকলেও প্রশাসনিকভাবে নারী ও ও নারী উদ্যোক্তাদের নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। নারী উদ্যোক্তাদের নিয়ে বেসরকারিভাবে গঠন করা হবে বিভিন্ন সংগঠন। তুলে ধরা হবে তাদের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা।এমআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
