বাংলাদেশে সবচেয়ে শ্রমিক সমাজ অবহেলিত বলে জানিয়ে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি, বাজারমূল্যের সঙ্গে অসংগতি, কম মজুরিতে শ্রমিক সমাজের এখন বেঁচে থাকাই কষ্টকর।বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। রিজভী বলেন, ফ্যাসিস্টের সমর্থক কিছু ব্যবসায়ী গোষ্ঠী টাকা লুটপাট করেছে, টাকা পাচার করেছে। এসব প্রতিষ্ঠানে হাজার হাজার শ্রমিক কর্মরত ছিল। কিন্তু সেই শ্রমিকদের ছাঁটাই করে, মিল-কারখানাগুলো বন্ধ করে দেওয়া, আমার মনে হয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এই জিনিসটা ঠিক হয়নি। তাদের ফেলে রাখা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শ্রমিক থেকে শুরু করে সবাই বেকার হয়ে যাচ্ছে। আমার মনে হয় এটা সরকারের ভুল নীতি।অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাঁচানো দরকার। সেখানে প্রশাসক নিয়োগ করতে পারতেন। আপনি (সরকার) প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখবেন। প্রয়োজনে সেখানে দক্ষ ম্যানেজমেন্ট নিয়োগ দেবেন, যাতে সেই প্রতিষ্ঠানগুলো টিকে থাকে, যাতে শ্রমিক ছাঁটাই না হয়। কিন্তু শ্রমিক ছাঁটাই করে, তাদের কিছু টাকা ধরিয়ে দিয়ে আজীবন ক্ষুধার মধ্যে রাখা— এটা মনে হয় সঠিক নীতি হয়নি। যেসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকরা অন্যায় করেছে, টাকা পাচার করেছে, ফ্যাসিস্টকে সহযোগিতা করেছে, তাদের বিচার করতে হবে।তিনি আরও বলেন, জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে শ্রমিক দলের ৭১ জন নেতাকর্মী ও ৩০ জন রিকশা শ্রমিক এবং অসংখ্য নাম না জানা শ্রমিক নিহত হয়েছেন। শ্রমিক শ্রেণীর আত্মত্যাগ কেউ কেউ স্বীকার করতে কার্পণ্য করে। শ্রমজীবী মানুষের আয় দিন দিন কমে যাচ্ছে। গ্যাস-বিদ্যুতের অভাবে কলকারখানা বন্ধ হচ্ছে। এখনো প্রতিদিন শ্রমিক ছাঁটাই চলছে। বেকার হচ্ছে হাজার হাজার শ্রমিক। শ্রমিকের জীবনে অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নেই।খালেদা জিয়ার দেশে ফেরা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, এটা আমরা এখনো কনফার্ম না। অ্যাকুরেট ইনফো না পেয়ে এ ব্যাপারে আমরা বলতে পারি না।এমআর-২
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
