সুদানে জাতিসংঘের(ইউএন)শান্তিরক্ষা মিশনের ঘাঁটিতে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর মধ্যে একজন লন্ড্রি কর্মচারী সবুজমিয়ার বাড়ী গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায়।ভাগ্য বদলের স্বপ্ন নিয়ে দেশের সীমানা পেরিয়ে আফ্রিকার দেশ সুদানে গিয়েছিলেন সেনাসদস্য সবুজ মিয়া (৩৫)। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর বাস্তবায়ন হলো না। সেনাবাহিনীর সঙ্গে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে সুদানে ড্রোন হামলায় শহীদ হয়েছেন গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার এই তরুণ। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে লন্ড্রি কর্মচারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনি।পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সবুজ মিয়া ২০১০ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে লন্ড্রি কর্মচারী হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন। দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করলেও পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর আশায় কখনো পিছপা হননি তিনি। সর্বশেষ গত ৭ নভেম্বর জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের অংশ হিসেবে সুদানে যান সবুজ।গতকাল শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) রাতে সেখানে দায়িত্ব পালনকালে সন্ত্রাসীদের ড্রোন হামলায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান সবুজ মিয়াসহ ৬ সেনাসদস্য। রাতে তার মৃত্যুর খবর পৌঁছে গেলে মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে যায় গ্রামের বাড়ী। সবুজ মিয়া গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার মহাদিপুর ইউনিয়নের ছোট ভগনবানপুর গ্রামের পূর্বপাড়ার বাসিন্দা। তার বাবা মৃত হাবিদুল ইসলাম। দুই ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন পরিবারের প্রধান ভরসা। দেড় বছর আগে বিয়ে করেন সবুজ। আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারটির একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তিনি।সরেজমিনে শহীদ সবুজের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে চলছে শোকের মাতম। বাড়ীর আঙিনা ও আশপাশে আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসীর ভিড়। কেউ নীরবে চোখ মুচছেন, কেউ আবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। উঠানে বসে থাকা মা সকিনা বেগম বারবার ছেলের নাম ধরে ডাকছেন। ভেতরের ঘরে স্ত্রী নুপুর বেগম নির্বাক হয়ে বসে আছেন, হঠাৎ হঠাৎ কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। পুরো বাড়িজুড়ে ভারি হয়ে উঠেছে শোকের পরিবেশ।ছেলের মৃত্যুতে বাকরুদ্ধ মা সকিনা বেগম বলেন, ও বলেছিল, মা আর একটু কষ্ট করো। আমি ফিরে এলে সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু আল্লাহ আমার ছেলেটাকে ফিরিয়ে দিল না।স্বামী হারানোর শোকে ভেঙে পড়া স্ত্রী নুপুর বেগম বলেন, আমাদের সংসারটা নতুন ছিল। এত তাড়াতাড়ি সব শেষ হয়ে যাবে ভাবিনি। আমার জীবনের সব স্বপ্ন ওর সাথেই শেষ হয়ে গেল।সবুজ মিয়ার মৃত্যুতে পুরো ছোট ভগনবানপুর গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। এলাকাবাসী জানান, তিনি ছিলেন শান্ত স্বভাবের, পরিশ্রমী ও ভদ্র একজন মানুষ। পরিবারের সুখের জন্যই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিদেশে কাজ করতেন।এলাকাবাসী দ্রুত নিহত সবুজ মিয়ার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি শোকাহত পরিবারের পাশে রাষ্ট্রীয় সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।এনআই

Source: সময়ের কন্ঠস্বর

সম্পর্কিত সংবাদ
গাজীপুরে মহানগর যুবদলের বিক্ষোভ মিছিল
গাজীপুরে মহানগর যুবদলের বিক্ষোভ মিছিল

সন্ত্রাস, নৈরাজ্য, অপপ্রচার ও সারাদেশে অব্যাহতভাবে আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতির প্রতিবাদে গাজীপুর মহানগর যুবদলের উদ্যোগে এক বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।বৃহস্পতিবার (১৭ই Read more

পাকিস্তানে হামলার পর ‘চাপে দিল্লি’, নিন্দা ও উদ্বেগ আন্তর্জাতিক মহলে
পাকিস্তানে হামলার পর ‘চাপে দিল্লি’, নিন্দা ও উদ্বেগ আন্তর্জাতিক মহলে

কাশ্মীরের পেহেলগামে পর্যটক হত্যার ঘটনার জেরে পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীর ও পাঞ্জাব সীমান্তে ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা Read more

৪৭৭ কোটি ২৩ লাখ টাকার সার কিনবে সরকার
৪৭৭ কোটি ২৩ লাখ টাকার সার কিনবে সরকার

মরোক্কো ও দেশীয় প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো), বাংলাদেশ থেকে মোট ৭০ হাজার টন সার কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। Read more

তাবলিগ জামাতের খুরুজের জোড় শুরু ২ জানুয়ারি
তাবলিগ জামাতের খুরুজের জোড় শুরু ২ জানুয়ারি

তাবলিগ জামাতের পুরোনো সাথিদের নিয়ে ৩ দিনব্যাপী খুরুজের জোড় শুরু হবে আগামী ২ জানুয়ারি। টঙ্গীতে অবস্থিত বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে এ Read more

বেনাপোলে ড্রেনেজের জন্য ৬ মাস রাস্তা খুঁড়ে রাখায় চরম দুর্ভোগে মানুষ
বেনাপোলে ড্রেনেজের জন্য ৬ মাস রাস্তা খুঁড়ে রাখায় চরম দুর্ভোগে মানুষ

যশোরের বেনাপোল পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের বড়আঁচড়া ঈদগাহ হতে চারাবটতলা পর্যন্ত দীর্ঘ দুই কিলোমিটার গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি এখন সাধারণ মানুষ ও Read more

গ্রেপ্তার দেখিয়ে ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ
গ্রেপ্তার দেখিয়ে ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

গুম-খুন এবং জুলাই-আগস্ট মাসে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা তিনটি পৃথক মামলায় ১৫ জন সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে Read more

আমরা নিরপেক্ষ নই ,    জনতার পক্ষে - অন্যায়ের বিপক্ষে ।    গণমাধ্যমের এ সংগ্রামে -    প্রকাশ্যে বলি ও লিখি ।   

NewsClub.in আমাদের ভারতীয় সহযোগী মাধ্যমটি দেখুন