মানুষ সামাজিক জীব আর সামাজিকতার প্রয়োজনে অন্যের সঙ্গে সম্পর্ক করা ব্যক্তির নৈতিকতা ও ব্যক্তিত্বকে উন্নত করে। তবে এই সম্পর্কের জন্য প্রয়োজন শিষ্টাচার রক্ষা করে চলা অর্থাৎ অপরকে সম্মান ও মর্যাদা দেওয়া।মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব হিসেবে পৃথিবীতে আগমন করেছিলেন। তাঁর জীবনের প্রতিটি কাজ মানবজাতির জন্য অনুকরণীয় ও অনুসরণীয়। তিনি জাতি, ধর্ম, বর্ণ, শত্রু, মিত্র নির্বিশেষে সবার সঙ্গে ন্যায়সংগত আচরণ করতেন। এমনকি শত্রুর প্রতিও তিনি কোনো অন্যায় আচরণ করতেন না।  বিনা কারণে তাদের প্রতি চড়াও হতেন না এবং একেবারে নিরুপায় না হলে তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করতেন না। অস্ত্র ধারণের পূর্বে তাদের সঠিক পথে আসার আহ্বান জানাতেন অর্থাৎ তাঁর প্রস্তাব মেনে নেওয়ার জন্য আহ্বান জানাতেন।কোরআনে কারিমের বহু আয়াতে মুমিনদের বলা হয়েছে, তারা যেন কাউকে তাচ্ছিল্য করা, কারও দোষ-ত্রুটি খুঁজে বেড়ানো কিংবা কাউকে নোংরা উপাধি বা উপনামে ডাকা ইত্যাদি থেকে নিজেদের বিরত রাখে। সূরা হুজরাতের ১১ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘হে ঈমানদারগণ! এক কওম যেন অন্য কওমকে বিদ্রূপ না করে। হতে পারে তারাই এদের চেয়ে উত্তম। আর নারীরাও যেন অন্য নারীদের বিদ্রূপ না করে। হতে পারে তারাই এদের চেয়ে উত্তম। তোমরা একে অপরকে বিদ্রূপ করো না এবং পরস্পরকে খারাপ নামে ডেকো না।’কোন সমাজের জ্ঞান ও সভ্যতার বাহ্যিক উন্নতি যদি আপাত দৃষ্টিতে সমৃদ্ধির উচ্চ শিখরে আরোহন করে, তারপরও সেই সমাজকে মানবীয় পূর্ণতায় সমৃদ্ধ সমাজ বলা যাবে না। যে সমাজের লোকজন একে অপরের কাছে অনিরাপদ বোধ করে কিংবা একে অপরের প্রতি হিংসা বিদ্বেষ পোষণ করে, পরস্পরের মঙ্গল কামনা করে না বরং ভেতরে ভেতরে শত্রুতা ও ক্ষতি কামনা করে, ষড়যন্ত্র করে, অপরের সম্পদের প্রতি লোভ-লালসা লালন করে, সেই সমাজে কোনোরকম শান্তি ও স্বস্তির অস্তিত্ব নেই।  পক্ষান্তরে যদি কোনো সমাজের জনগণের অন্তরাত্মায় নৈতিক গুণাবলি বিরাজ করে, একে অপরের প্রতি দয়াপরবশ হয়, সেবা-যত্ন করে, পরস্পরের প্রতি দয়া-মায়া-মমতা ও ক্ষমাশীল দৃষ্টি পোষণ করে, দুনিয়ার সম্পদ ও স্বার্থের মোহে লোভাতুর হয় না, পরস্পরের উন্নতি ও অগ্রগতির পথে কেউ বাধা হয় না এবং যে সমাজের লোক ধৈর্যশীল, সহিষ্ণু ও নম্র চরিত্রের অধিকারী- এমন সমাজ যদি পার্থিব সম্পদের দিক থেকে খুব বেশি অগ্রসরও না হয়, তারপরও ওই সমাজের লোকজন সুখে শান্তিতে জীবন কাটায়। এ রকম সমাজই আমাদের প্রয়োজন। আমাদের উচিত অন্তরে এ ধরনের ইসলামি নৈতিক গুণাবলি লালন করা। পবিত্র কোরআনেও ঈমানদারদের উদ্দেশে একই কথা বলা হয়েছে। কোরআনে আরও বলা হয়েছে, যদি কখনও কোনো সংকীর্ণমনা মানুষের মুখোমুখি হতে হয়, তাহলে কেবল তার শিষ্টাচারবর্জিত আচরণকে উদার মানসিকতা দিয়ে মেনে নিলেই চলবে না বরং তাকে সুন্দর কথাবার্তা ও বাচনভঙ্গির সাহায্যে অর্থাৎ সে সন্তুষ্ট হয় এমন সুন্দর উপাধিতে ভূষিত করে তার সঙ্গে কথা বলতে হবে। আল্লাহতায়ালা ‘ইবাদুর রাহমান’ অর্থাৎ আল্লাহর বান্দার বর্ণনা দিতে গিয়ে সূরা ফোরকানের ৬৩ নম্বর আয়াতে বলেছেন, রাহমানের আসল বান্দা তারাই, যারা পৃথিবীর বুকে নম্রভাবে চলাফেরা করে এবং মূর্খরা তাদের সঙ্গে কথা বলতে থাকলে বলে দেয়; তোমাদের সালাম। এমন বহু লোক আছে যারা অপরকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করার জন্য, বিদ্রূপ করার জন্য মানে তার ব্যক্তিত্বকে ছোট করার জন্য হাসি-তামাশার আশ্রয় নেয়।  ইশারা ইঙ্গিতে অপরের গ্রহণযোগ্যতায় আঘাত হানার চেষ্টা করে।  কিন্তু যারা প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর বান্দা তারা সম্পর্ক ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে বুদ্ধি-বিবেচনা কাজে লাগিয়ে সুন্দর ভাষা ও বাচনভঙ্গির মধ্য দিয়ে শিষ্টাচার প্রকাশ করে। এ ধরনের লোকেরা যখন কোনো মূর্খের সঙ্গে কথা বলে তখন তারা তাদের শিষ্টাচার বহির্ভূত আচরণে দুঃখিত না হয়ে বরং তাদের সুস্থতা ও মঙ্গল কামনা করে। কোরআনে কারিমের ভাষায়- ‘ভালো দিয়ে মন্দকে দূরীভূত করে।’মানুষের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে সুন্দর ভাষা ও শিষ্টাচারপূর্ণ ব্যবহারের প্রভাব অনস্বীকার্য। পবিত্র কোরআনের শত্রুর সঙ্গেও সুন্দর ভাষায় কথা বলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।  বলা হয়েছে, ‘মানুষের উচিত শত্রুর নোংরা কথার জবাব সুন্দর কথা দিয়ে দেওয়া।’ সূরা ফুসসিলাতের ৩৪ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘সৎ কাজ ও অসৎ কাজ সমান নয়। তুমি অসৎ কাজকে সেই নেকি দ্বারা নিবৃত্ত করো যা সবচেয়ে ভালো। তাহলে দেখবে যার সঙ্গে তোমার শত্রুতা ছিল সে অন্তরঙ্গ বন্ধু হয়ে গেছে।’নবিজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার পরিবার-পরিজন ও সাহাবিদের প্রতি অত্যন্ত রহমদিল ও দয়ার্দ্র ছিলেন। একইভাবে তিনি তার শত্রুদের প্রতিও দয়ার্দ্র ছিলেন। তার অন্তরে কারো প্রতি বিদ্বেষ ছিল না। তিনি আল্লাহর নবি হিসেবে চাইতেন সবাই হেদায়াতের পথে আসুক, ইসলাম গ্রহণ করে দুনিয়া ও আখেরাতে মুক্তি লাভ করুক।তার শত্রুরা তাকে অনেক কষ্ট দিয়েছে। কিন্তু তিনি তাদের অমঙ্গল চাননি, তাদেরকে অভিশাপ দেননি, তাদের জন্য বদদোয়া করেননি। আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত রয়েছে, একবার নবিজিকে (সা.) তার কোনো সাহাবি বলেছিলেন, হে আল্লাহর রাসুল! (সা.) মুশরিকদের বিরুদ্ধে বদদোয়া করুন! তিনি বললেন, আমাকে অভিশাপদাতা হিসেবে পাঠানো হয়নি, রহমত হিসেবে পাঠানো হয়েছে। (সহিহ মুসলিম) এবি 

Source: সময়ের কন্ঠস্বর

সম্পর্কিত সংবাদ
ধামরাইয়ে অপহরণ ও ছিনতাই চক্রের ৪ সদস্য আটক
ধামরাইয়ে অপহরণ ও ছিনতাই চক্রের ৪ সদস্য আটক

ঢাকার ধামরাইয়ে যাত্রী সেজে অপহরণ কাজে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকার জব্দ করাসহ ওই চক্রের ৪ সদস্যকে আটক করেছে থানা পুলিশ। শুক্রবার (৯ Read more

এবার ভারতে হেলিকপ্টার বিধ্বস্তে সবাই নিহত
এবার ভারতে হেলিকপ্টার বিধ্বস্তে সবাই নিহত

ভারতে এবার হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় পাইলটসহ সবাই নিহত হয়েছেন। আজ রবিবার (১৫ জুন) ভোরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। খবর ভারতীয় Read more

আখাউড়ায় বাদীর উপর হামলায় বিচারের দাবিতে গ্রামবাসির মানববন্ধন
আখাউড়ায় বাদীর উপর হামলায় বিচারের দাবিতে গ্রামবাসির মানববন্ধন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আদালতে জামিন না পেয়ে বাদীর হাত-পা  ভেঙে দিলেন বিবাদী পক্ষের লোকজন। এ ঘটনায় দোষীদের বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে Read more

বাংলাদেশের দুই আয়রনম্যানের বিশ্বজয়ে নতুন ইতিহাস
বাংলাদেশের দুই আয়রনম্যানের বিশ্বজয়ে নতুন ইতিহাস

টানা তৃতীয়বারের মতো আয়রনম্যান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে সফল হলেন বাংলাদেশের আয়রনম্যান মোহাম্মদ শামছুজ্জামান আরাফাত। আর দ্বিতীয়বারের মতো সফল হয়েছেন আরেক আয়রনম্যান Read more

বায়ুদূষণে শীর্ষে ঢাকা
বায়ুদূষণে শীর্ষে ঢাকা

বিশ্বে বায়ুদূষণ দিন দিন বেড়েই চলেছে। দূষিত শহরের তালিকায় বেশির ভাগ সময় শীর্ষ ১০ শহরের মধ্যে অবস্থান করে রাজধানী ঢাকা। Read more

গলাচিপায় ব্যবসায়ীর বাসায় ডাকাতি, স্বর্ণালংকার লুট
গলাচিপায় ব্যবসায়ীর বাসায় ডাকাতি, স্বর্ণালংকার লুট

পটুয়াখালীর গলাচিপায় ভোররাতে এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় অস্ত্রের মুখে পরিবারকে জিম্মি করে স্বর্ণালংকার লুট করে Read more

আমরা নিরপেক্ষ নই ,    জনতার পক্ষে - অন্যায়ের বিপক্ষে ।    গণমাধ্যমের এ সংগ্রামে -    প্রকাশ্যে বলি ও লিখি ।   

NewsClub.in আমাদের ভারতীয় সহযোগী মাধ্যমটি দেখুন