গেল দুই মাস ধরে ইলিশের দেখা নেই ভোলার মেঘনা ও তেতুলিয়া নদীতে। ভরা মৌসুমেও কাঙ্ক্ষিত ইলিশ না পেয়ে হতাশায় দিন পার করছেন জেলেরা। ইলিশের আশায় প্রতিদিন নদীতে জাল ফেললেও খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে জেলেদের। তবে, মৎস্য বিভাগ বলছে, উজানের পানির চাপ বৃদ্ধি পেলে নদীতে ইলিশ বাড়বে।ভোলার কয়েকটি মৎস্য ঘাট ঘুরে দেখা যায়, চরম হতাশা আর দূরদর্শা নিয়ে দিন কাটছে জেলেদের। এমন ভরা মৌসুমেও ইলিশ না পেয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা। ধার দেনায় পড়ে পেশা পরিবর্তন করে অন্য পেশায় চলে গিয়েছেন প্রায় ৩৫ শতাংশ জেলে। তবে নদীতে ইলিশের দেখা মিললে আবারও তারা এ পেশায় যুক্ত হবেন। বাকীরা ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ পেয়ে হতাশা কাটিয়ে উঠার দিন গুনছেন।জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের দাবি, সাগর মোহনা থেকে নদীতে মাছ উঠে আসার চ্যানেলগুলো পলি মাটিতে ভরে গিয়েছে, সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য ডুবোচর। যার কারণে পর্যাপ্ত গভীরতা না পেয়ে সাগর থেকে ইলিশ নদী মোহনায় আসতে পারছে না। এছাড়াও প্রতিটি চ্যানেলে লঞ্চ, মালবাহী জাহাজ চলাচল করার কারণে প্রচুর শব্দ দূষণ হচ্ছে। এতেও ইলিশের মাইগ্রেশন ব্যাহত হচ্ছে। তবে নদীর গভীরতা আর উজানের পানির চাপ ও জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেলে নদীতে ইলিশের পরিমাণ বাড়বে বলে ধারণা করছেন মৎস্য বিভাগ।তবে, সচেতন মহল দাবি করছেন, মা ইলিশের মাইগ্রেশনের সময় অর্থাৎ মা ইলিশ ডিম ছাড়ার পর সেগুলো যথাযথ বড় হওয়ার আগেই একটি কুচক্র মহল খুটা জাল, চরঘেরা জাল, মশারী জাল ব্যবহার করে জাটকা নিধন করে। যার ফলে ভরা মৌসুমেও ইলিশের এমন ভরাডুবি। নিষেধাজ্ঞার সময় যথাযথ আইন প্রয়োগ করে জাটকা ইলিশ নিধন ঠেকানোর পাশাপাশি অবৈধ জালের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়ে সেগুলোকে নদীতে ব্যবহার মুক্ত করতে পারলেই ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।জেলেরা জানান, চলতি মৌসুমে ইলিশ বাদেও দেখা নেই অন্যান্য মাছের। নদীতে জাল ফেলে যে মাছ পাওয়া যায়, তাতে উঠে না প্রতিদিনের খরচ। এতে ভারী হচ্ছে দাদনের বোঝা। ইলিশের এমন আকালে লোকসানের মুখে আড়তদার ও ছোট ছোট ব্যবসায়ীরাও। তারা বলছেন, ইলিশের এমন আকাল তারা কখনোই দেখেননি। মাছ বিক্রি করতে না পেরে আয়-রোজগার বন্ধের পথে। ইলিশের আকাঙ্খায় অলস সময় পার করছেন তারা।সদর উপজেলার ভোলার খাল এলাকার জেলে জামাল মাঝি জানান, গাঙ্গেয় (নদীতে) গিয়ে জাল হালাইয়া (ফালাইয়া) মাছ পাই না। ডেলি খালি হাতে গাঙ্গেয় (নদীতে) থেকে আসি। আমাগো আর দুঃখের কথা কইয়া লাভ কি হবে। ৫ হাজার টাকার বাজার নিয়ে গাঙ্গেতে যাই। মাছ পাই ২ হাজার টাকার। আমরা আরো দেনার মধ্যে পড়ে যাই।মামুন মাঝি নামের আরেক মাঝি জানান, ৭ জন মাঝি মাল্লা নিয়ে গতকাল নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে ২টি ছোট ইলিশ মাছ পেয়েছি। এতে তৈলের দোকানে কি দিবো? আর নিজেরা কি নিবো? তাই ভাবছি। আবার এনজিওর কিস্তি আছে, না খেয়ে থাকা গেলেও এনজিওর কিস্তি না দিয়ে থাকা যায় না। গত বছর এই সময়ে আমরা অনেক ইলিশ মাছ পেয়েছি। কিন্তু এই বছর ইলিশের এমন আকাল পড়বে তা কল্পনাও করিনি।ইব্রাহিম মাঝি নামের অপর এক জেলে জানান, নদীতে গিয়ে মাছ পাই না। তাই কিছু দিন রাজমিস্ত্রীর কাজ করছি। প্রতিদিন খোঁজ খবর রাখছি নদীতে ইলিশ মাছ বৃদ্ধি পেলে আবার জাল নৌকা নিয়ে নদীতে নামবো। নদীতে মাছ না পেলে সবচেয়ে বেশি কষ্ট হয় এনজিওর কিস্তি নিয়ে। সবকিছু মানাতে পারলেও সমিতির কিস্তির অফিসারকে মানানো যায় না।জেলা মৎস্য অফিসের তথ্য মতে, জেলায় নিবন্ধিত জেলে সংখ্যা রয়েছে ১ লক্ষ ৭০ হাজার। অনিবন্ধিত জেলেসহ প্রায় ২ লক্ষাধিক জেলে রয়েছে। তারা সবাই ভোলার মেঘনা ও তেতুলিয়া নদীতে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করেন। প্রতি বছর এই সময়ে প্রচুর ইলিশ পাওয়া যায়। তবে এ বছর তার ব্যতিক্রম হলেও নদীতে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেখা মিলবে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশের।জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেব বলেন, সাগর থেকে নদী মোহনায় ইলিশ আসতে ৭০ থেকে ৮০ ফিট গভীরতা দরকার। যা পলি মাটি ও ডুবোচরের কারণে এখন ১০-১৫ ফিট গভীরতা রয়েছে। ইলিশের চলাচলের চ্যানেলগুলো চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হওয়ায় মাছ কমে গেছে। তবে পানির গভীরতা বাড়লে ইলিশের দেখা মিলবে। এছাড়াও অবৈধ জালের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলমান আছে। খুটা জাল, চর ঘেরা, মশারী ও বেহুন্দি জাল অভিযান চালিয়ে আমরা শতভাগ নদী মুক্ত করেছি।তিনি আরও জানান, গত বছর ১ লক্ষ ৮০ হাজার মেট্রিক টন ইলিশের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ১ লক্ষ ৬৫ হাজার মেট্রিক টন উৎপাদন হয়েছে। চলতি বছর ১ লক্ষ ৬৫ হাজার মেট্রিক টন থেকে ১ লক্ষ ৭০ হাজার মেট্রিক টন ইলিশের উৎপাদন হবে বলে ধারণা করছেন।এআই

Source: সময়ের কন্ঠস্বর

সম্পর্কিত সংবাদ
দুর্ভিক্ষ ছড়িয়ে পড়ছে গাজায়, অনাহারে ১০ জনের মৃত্যু
দুর্ভিক্ষ ছড়িয়ে পড়ছে গাজায়, অনাহারে ১০ জনের মৃত্যু

জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে যে গাজায় দুর্ভিক্ষ এখন বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। ইসরায়েলের অবরোধ ও অব্যাহত হামলার কারণে Read more

নেত্রকোনায় হাম আক্রান্ত ১২ জন শিশু, আশঙ্কাজনক একজন শিশু
নেত্রকোনায় হাম আক্রান্ত ১২ জন শিশু, আশঙ্কাজনক একজন শিশু

নেত্রকোনায় আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হাম রোগের সংক্রমণ। গত এক সপ্তাহে জেলায় অন্তত ১২ জন শিশু এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে বলে Read more

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সে ডাকাতি, নারীসহ আহত ৯
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সে ডাকাতি, নারীসহ আহত ৯

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতির সময় চাহিদামতো অর্থ ও মালামাল না পেয়ে সশস্ত্র ডাকাতরা মরদেহের ওপর দেশীয় Read more

বায়তুল মোকাররম মসজিদের সৌন্দর্য বর্ধনে ১৯০ কোটি টাকা বরাদ্দ: ধর্ম উপদেষ্টা
বায়তুল মোকাররম মসজিদের সৌন্দর্য বর্ধনে ১৯০ কোটি টাকা বরাদ্দ: ধর্ম উপদেষ্টা

বায়তুল মোকাররম মসজিদের সৌন্দর্য বর্ধনে সরকার ১৯০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে বলে জানিয়েছেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ Read more

টাঙ্গাইলে জ্বালানি সংকটে মোটরসাইকেল বিক্রিতে ধস
টাঙ্গাইলে জ্বালানি সংকটে মোটরসাইকেল বিক্রিতে ধস

টাঙ্গাইলে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকটের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে মোটরসাইকেলের শোরুমগুলোতে। তেলের দুষ্প্রাপ্যতার কারণে গ্রাহকরা নতুন বাইক কেনার আগ্রহ হারানোয় শোরুমগুলোতে Read more

উখিয়ায় চাঞ্চল্যকর ট্রিপল মার্ডারে গ্রেফতার ৩
উখিয়ায় চাঞ্চল্যকর ট্রিপল মার্ডারে গ্রেফতার ৩

কক্সবাজারের উখিয়া কুতুপালং এলাকার চাঞ্চল্যকর ট্রিপল মার্ডার মামলার প্রধান আসামীসহ মোট ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-১৫।শনিবার (২৬ এপ্রিল) রাত ৩ Read more

আমরা নিরপেক্ষ নই ,    জনতার পক্ষে - অন্যায়ের বিপক্ষে ।    গণমাধ্যমের এ সংগ্রামে -    প্রকাশ্যে বলি ও লিখি ।   

NewsClub.in আমাদের ভারতীয় সহযোগী মাধ্যমটি দেখুন