ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কিছু মতভেদ তৈরি হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিওন সার। তবে তিনি বিষয়টিকে দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত ঐক্যের অংশ হিসেবেই দেখার কথা জানিয়েছেন। মঙ্গলবার রাতে ‘আমেরিকান ফ্রেন্ডস অফ লিকুদ’ গ্রুপের সদস্যদের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে এই তথ্য জানিয়েছেন ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী।একই সঙ্গে বর্তমানে অধিকৃত পশ্চিম তীরের কোনও অংশ ইসরায়েলের সঙ্গে সংযুক্ত করার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন সার। তিনি বলেছেন, এমন পদক্ষেপ ট্রাম্পের অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে।ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ইয়েদিওথ আহরোনোথের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার রাতে ‘আমেরিকান ফ্রেন্ডস অফ লিকুদ’ গ্রুপের সদস্যদের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিওন সার। বৈঠকে তিনি বলেন, ট্রাম্পের দাবি সত্ত্বেও গত বছরের জুনের সেই যুদ্ধের পর থেকে ইরান নতুন করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শুরু করেনি।২০২৫ সালের ১৩ জুন ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানের সামরিক, পারমাণবিক ও বেসামরিক বিভিন্ন স্থাপনায় টানা ১২ দিন ধরে ভয়াবহ হামলা চালায়। এতে ইরানের কয়েকজন সামরিক নেতা ও পারমাণবিক বিজ্ঞানীসহ শত শত মানুষ নিহত হন।সার বলেন, ইসরায়েল নতুন কোনও যুদ্ধ চায়নি। তবে ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি মাটির গভীরে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করায় দেশটিতে হামলা চালাতে বাধ্য হয়েছে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দেওয়াই এই হামলার লক্ষ্য।তিনি বলেন, যুদ্ধের আগে আমরা লক্ষ্য করেছিলাম, তারা কর্মসূচিটি মাটির অনেক গভীরে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে; যেখানে মার্কিন বা ইসরায়েলি বিমান বাহিনী পৌঁছাতে পারবে না। তাই আমাদের সামনে আর কোনও ভালো বিকল্প ছিল না।তবে সারের এই দাবি ইসরায়েলি ও মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের বিপরীত। সেসব প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ইসরায়েলই ট্রাম্প প্রশাসনকে ইরানের ওপর সরাসরি সামরিক হামলার জন্য সক্রিয়ভাবে চাপ দিয়েছিল।ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চায়। যদিও তেহরান বরাবরই বলে আসছে তাদের এই কর্মসূচি বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে।গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর ফের যৌথ হামলা চালায়। পরে ৮ এপ্রিল ওয়াশিংটন ও তেহরান অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে; যা পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় পরবর্তীতে বৃদ্ধি করা হয়। সার বলেছেন, ইরানে সরকার উৎখাত করা যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক লক্ষ্য ছিল না। বরং যতদিন সম্ভব তাদের পক্ষ থেকে আসা ‘অস্তিত্বের হুমকি’ দূর করাই ছিল মূল লক্ষ্য।তিনি বলেন, ইসরায়েল এমন এক পরিবেশ তৈরি করতে চেয়েছে, যা ইরানে শাসক পরিবর্তনের দিকে নিয়ে যেতে পারে। তবে এই বিস্তারিত ব্যাখ্যা না দিয়ে তিনি বলেন, এটি অর্জন করা কেবল ইসরায়েলের একার ওপর নির্ভর করে না।গত ১৪ এপ্রিল মোসাদ প্রধান ডেভিড বার্নিয়া বলেছিলেন, ইরানে বর্তমান ব্যবস্থার পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত এই মিশন শেষ হবে না। তিনি বলেন, ইরানের ভেতর ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের সুনির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।সার বলেন, ইরান ইসরায়েলের চেয়ে ৭৫ গুণ বড় দেশ। আমাদের দেশটিকে আক্রমণ বা দখলের কোনও পরিকল্পনা ছিল না। শেষ পর্যন্ত সবকিছু ইরানের জনগণের হাতেই। তবে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, শাসক পরিবর্তনের কোনও সুযোগ তৈরি হলে ইসরায়েল অবশ্যই পদক্ষেপ নেবে।পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে ইরান কোনও মৌলিক ছাড় দিতে প্রস্তুত নয় বলেও দাবি করেন এই ইসরায়েলি মন্ত্রী। ইয়েদিওথ আহরোনোথের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের সঙ্গে মতবিরোধের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেছেন, সামগ্রিক বিচারে আমাদের লক্ষ্য ও চিন্তাধারা অভিন্ন।সূত্র: আনাদোলু।এবি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
