চলমান তীব্র দাবদাহে টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলাজুড়ে পল্লী বিদ্যুতের অঘোষিত ও লাগামহীন লোডশেডিংয়ে জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। একদিকে এসএসসি পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়, অন্যদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবায় ব্যাঘাত —সব মিলিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ মানুষ।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নাগরপুর উপজেলার দুটি সাবস্টেশনে মোট বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ২৮ মেগাওয়াট হলেও বাস্তবে সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ৮ থেকে ৯ মেগাওয়াট। ফলে ব্যাপক ঘাটতি তৈরি হয়ে উপজেলাজুড়ে দৈনিক প্রায় ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে।অন্যদিকে টাঙ্গাইল পল্লী বিদ্যুৎ গ্রিডের আওতায় ৮টি লাইনে মোট চাহিদা প্রায় ১২০ মেগাওয়াট হলেও বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে মাত্র ৫০ মেগাওয়াট। এই ঘাটতির প্রভাব সরাসরি নাগরপুরসহ আশপাশের এলাকায় পড়ছে।বর্তমানে এসএসসি পরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ সময়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দিনের বেলা তীব্র গরম আর রাতে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় পড়াশোনায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে তারা।একজন এসএসসি পরীক্ষার্থী বলেন,“রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় মোমবাতির আলোয় পড়তে হচ্ছে। গরমে ঠিকমতো বসাও যায় না, পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখা খুব কঠিন হয়ে গেছে।”অভিভাবকরাও সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। একজন অভিভাবক বলেন,“এভাবে চললে আমাদের সন্তানরা পরীক্ষায় ভালো করতে পারবে না। পড়াশোনার পরিবেশই নেই।”অন্যদিকে নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিদ্যুৎ সংকটের কারণে রোগীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। একজন রোগীর স্বজন বলেন,“ওয়ার্ডে প্রচণ্ড গরম, বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্যান চলে না। রোগী কষ্টে ছটফট করছে।”স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই দিন-রাত বেশির ভাগ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে। নিয়মিত বিল পরিশোধ করলেও সেবার মান নিয়ে চরম অসন্তোষ রয়েছে গ্রাহকদের মধ্যে।এ বিষয়ে নাগরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এ জি এম নয়ন চন্দ্র সরকার মুঠোফোনে জানান,“লোডশেডিংয়ের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে সমাধানের চেষ্টা চলছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় কিছুটা লোডশেডিং হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।”ভুক্তভোগী এলাকাবাসী বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।ইখা
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
