হাসপাতালে রোগীরা আসেন বিভিন্ন রোগ থেকে সুস্থ হওয়ার জন্য। কিন্তু মারাত্মক লোডশেডিংয়ের কারণে তীব্র গরমে উল্টো নতুন করে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন তারা। অবস্থা এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, হাসপাতাল নিজেই যেন ‘অসুস্থ’!এমনই চিত্র কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার ১০০ শয্যাবিশিষ্ট সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। প্রতিদিন এমন পরিস্থিতি চললেও মিলছে না কোনো সমাধান।হাসপাতালে সেবা নিতে এসে উল্টো দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে রোগীদের। শুধু রোগী নয়, কর্তব্যরত নার্সদেরও সীমাহীন কষ্ট পোহাতে হচ্ছে। দ্রুত এ পরিস্থিতির পরিবর্তন চান চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা।সরেজমিনে দেখা যায়, দিন-রাত মিলিয়ে একাধিকবার লোডশেডিং হচ্ছে। অনেক সময়েই হাসপাতালে বিদ্যুৎ নেই। তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় শিশু, মহিলা ও পুরুষ ওয়ার্ডে কিছু বাতি জ্বলছে। রোগী ও স্বজনদের কেউ বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছেন, কেউ আবার বাতাসের আশায় এদিক-সেদিক ঘুরছেন।ভিতরের ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ রোগী হাতপাখা দিয়ে বাতাস করছেন। যাদের হাতপাখা নেই, তারা তীব্র গরমে ঘেমে অস্থির হয়ে পড়েছেন। কেউ জানালার পাশে দাঁড়িয়ে আছেন একটু বাতাসের আশায়। ভেতরে তীব্র গরমে দমবন্ধ অবস্থা বিরাজ করছে।অসুস্থ শিশুদের নিয়ে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন অভিভাবকরা। বিদ্যুৎ না থাকলে হঠাৎ কোনো রোগীর শ্বাসকষ্ট হলে নেবুলাইজেশন করাও সম্ভব হচ্ছে না। বিদ্যুৎ সংকটের কারণে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।দিন-রাতে বিদ্যুৎ চলে গেলে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীন থাকতে হচ্ছে রোগী, স্বজন ও কর্তব্যরত নার্সদের। তীব্র গরম থেকে বাঁচতে কেউ কেউ হাতপাখা ব্যবহার করছেন। হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেলে হাসপাতালের ভেতরে ভৌতিক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। চারদিকে শিশু ও রোগীদের চিৎকার-চেঁচামেচি শোনা যায়।পাকুন্দিয়া উপজেলার শিমুলিয়া গ্রাম থেকে আসা বিলকিস আক্তার বলেন, “আমি দুই দিন ধরে আমার ৮ বছরের মেয়েকে নিয়ে ভর্তি আছি। এর মধ্যে দিন-রাত মিলিয়ে অনেক সময় বিদ্যুৎ থাকে না। তখন গরমে শিশু কান্নাকাটি শুরু করে। হাতপাখা দিয়ে আর কতক্ষণ বাতাস করা সম্ভব! আমাদের খুব কষ্ট হচ্ছে।”পৌর এলাকার কামারকোনা এলাকার নাঈম মিয়া বলেন, “বিদ্যুৎ না থাকলে শরীর থেকে বৃষ্টির মতো ঘাম ঝরে পড়ে। স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। এমন অবস্থা থাকলে আরও অসুস্থ হয়ে পড়ব।”আচমিতা ইউনিয়ন থেকে আসা রোগী শরিফ বলেন, “দুই দিন ধরে ভর্তি রয়েছি। বিদ্যুতের এমন অবস্থা দেখে বাড়ি থেকে চার্জার ফ্যান আনিয়েছি। অনেকেই হাতপাখা দিয়ে বাতাস করছেন। নিজের চোখে না দেখলে এই কষ্ট বোঝা যাবে না। একদিকে প্রচণ্ড তাপদাহ, অন্যদিকে লোডশেডিং—হাসপাতালে থাকা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। একবার বিদ্যুৎ গেলে দীর্ঘ সময় থাকে না, বারবার এমন হচ্ছে। এই গরমে ফ্যান না চলায় রোগীরা আরও অসুস্থ হয়ে পড়বে।”কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ঈসা খান বলেন, “হাসপাতালের জেনারেটর বিকল এবং প্রয়োজনীয় বরাদ্দ না থাকায় বিদ্যুতের বিকল্প কিছু আপাতত আমাদের হাতে নেই। বিষয়টি চিঠির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বিদ্যুৎ চলে গেলে বর্তমানে আইপিএসের মাধ্যমে কিছু বাতি জ্বালানো যাচ্ছে। তবে হঠাৎ কোনো রোগীর শ্বাসকষ্ট হলে নেবুলাইজেশন করা যাচ্ছে না। রোগী ও স্টাফদের কষ্ট আমরাও অনুধাবন করছি।”ইখা
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
