কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও টেটা যুদ্ধের ঘটনায় ৪১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ২০ থেকে ৩০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করা হয়েছে।মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেলে মেঘনা থানায় মামলাটি করেন আব্দুস সালাম। মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল ইসলাম। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে চালিভাংগা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল লতিফ সরকারকে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চালিভাংগা ইউনিয়নের মৈশারচর গ্রামের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ সরকারের সঙ্গে মামলার বাদী বিএনপি নেতা আব্দুস সালামের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধ ও আধিপত্যকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা চলছিল। এর জেরে সোমবার বিকেলে আব্দুল লতিফ সরকারের ভাগনে ও স্থানীয় ইউপি সদস্য, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মনোয়ার হোসেন মনা মেম্বার এবং তার সহযোগীদের নেতৃত্বে ৬০ থেকে ৭০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আব্দুস সালামের বাড়িতে হামলা চালায়।এছাড়াও, হামলাকারীরা সালামের ডুপ্লেক্স বাড়িতে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় সালামের পক্ষের লোকজন প্রতিরোধের চেষ্টা করলে উভয় পক্ষের মধ্যে টেটা যুদ্ধ শুরু হয়। এতে দুইজন টেটাবিদ্ধসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। একপর্যায়ে হামলাকারীরা আরও কয়েকটি বসতঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। ক্ষতিগ্রস্ত ঘরগুলোর মধ্যে রয়েছে মঙ্গল মিয়ার দুটি, আলী হোসেনের একটি, আজগর আলীর একটি, মমতাজ আলীর দুটি এবং হোসেন মিয়ার দুটি বসতঘর। নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কারসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, মনা মেম্বার ও তাঁর অনুসারীদের দাপটে গ্রামবাসী আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস অনেকের নেই। গ্রামে বিএনপির নাম নিলেই হুমকি ও নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তাঁরা।মামলার বাদী আব্দুস সালামের ছেলে আল-আমিন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বিরোধের জেরে তাঁদের পরিবারের সঙ্গে প্রতিপক্ষের বিরোধ চলছিল। সম্প্রতি বাড়িতে বিএনপির কয়েকজন নেতাকে দাওয়াত দেওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বাড়ে। এরই ধারাবাহিকতায় হামলার ঘটনা ঘটে বলে তাঁর অভিযোগ। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।এ বিষয়ে প্রধান আসামি আব্দুল লতিফ সরকারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অপরদিকে মনোয়ার হোসেন মনা মেম্বারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি পরিচয় জানার পর ফোন কেটে দেন।মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল ইসলাম বলেন, সোমবারের সংঘর্ষের ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। তিনি জানান, এটি রাজনৈতিক সংঘর্ষ কি না—সে বিষয়ে প্রাথমিকভাবে পূর্ব শত্রুতার তথ্য পাওয়া গেছে; তবে পুরো ঘটনাটি বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
