যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেই নিজেদের সামরিক সক্ষমতা নজিরবিহীন গতিতে বাড়িয়ে চলেছে ইরান। বিশেষ করে দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন লঞ্চারগুলো আগের চেয়ে আরও দ্রুতগতিতে আধুনিকায়ন ও পুনরায় সজ্জিত করা হচ্ছে বলে দাবি করেছে তেহরান।ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) অ্যারোস্পেস ফোর্সের কমান্ডার মাজিদ মুসাভি সম্প্রতি ‘নুর নিউজ’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই তথ্য জানান। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, সাক্ষাৎকারটি প্রচারের সময় মুসাভির একটি সম্পাদিত ভিডিও প্রকাশ করা হয়, যেখানে তাঁকে একটি গোপন ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি পরিদর্শন করতে দেখা গেছে।মুসাভি দাবি করেন, যুদ্ধবিরতির এই সময়ে শত্রুরা যেভাবে তাদের গোলাবারুদের মজুত পুনর্গঠন করার চেষ্টা করছে, ইরান তার চেয়ে অনেক বেশি এগিয়ে রয়েছে। তিনি বলেন, “আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন লঞ্চার প্যাডগুলো আধুনিকায়ন করার গতি যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগের সময়ের চেয়েও এখন অনেক বেশি।”এদিকে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আমির হাতামি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আমৃত্যু লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। রবিবার (১৯ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে তিনি ঘোষণা করেন, ইরানের সেনাবাহিনী শত্রুর যেকোনো আগ্রাসন মোকাবিলায় শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত লড়াই করতে প্রস্তুত।হাতামি আরও জানান, দেশের সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিটি শাখা শত্রুর যেকোনো পদক্ষেপের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ও সিদ্ধান্তমূলক জবাব দেওয়ার জন্য সর্বদা সজাগ রয়েছে। ইরানি সেনারা ‘জিহাদি চেতনা’ ও ‘উৎসর্গের মানসিকতায়’ উজ্জীবিত হয়ে নিজেদের দায়িত্ব পালনে অবিচল রয়েছে বলে তিনি আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন।বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুদ্ধবিরতি চললেও ইরানের এই প্রকাশ্য সামরিক মহড়া এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার এই ভঙ্গুর শান্তি কতদিন স্থায়ী হয়, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে।এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
