ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি ফজলুর রহমানকে দ্রুত রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানিয়েছে নিহতের পরিবার। তাঁদের দাবি—এই হত্যাকাণ্ড শুধু ব্যক্তিগত ক্ষোভের বিষয় নয়, এর পেছনে গভীর পরিকল্পনা ও আরও অনেকের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। তদন্তে বিলম্ব হওয়ায় মামলাটি নিয়ে ধোঁয়াশা বাড়ছে বলে তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।বিচারের দাবিতে এবং পুলিশ প্রশাসনকে তাগাদা দিতে বর্তমানে বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যালয়ে দ্বারস্থ হচ্ছেন নিহতের পরিবার। নিহতের স্বামী ও মামলার বাদী ইমতিয়াজ সুলতান বলেন, “এটি একটি প্রকাশ্য হত্যাকাণ্ড, অথচ বিচার পাওয়ার জন্য আমাদের এখনো দ্বারে দ্বারে দৌঁড়াতে হচ্ছে। গত ৫ মার্চ মামলা দিলেও গ্রেপ্তার ও জিজ্ঞাসাবাদে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি দেখছি না। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ফজলু এখন অনেকটাই সুস্থ। তাকে দ্রুত রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে নেপথ্যের কুশীলবদের তথ্য বের করতে হবে এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করতে হবে।”তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিভাগের কিছু ব্যক্তির আচরণ নিয়ে তাঁর স্ত্রী প্রায়ই ফোনে উদ্বেগের কথা জানাতেন। তাই এই ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।মামলার অগ্রগতি বিষয়ে থানা সূত্রে জানা গেছে, তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং পলাতক আসামিদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। দেশের সকল ইমিগ্রেশন পয়েন্টে নোটিশ পাঠানোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট থানাগুলোতেও বার্তা পাঠানো হয়েছে। যেকোনো সময় তাঁদের গ্রেপ্তার করা হতে পারে এবং আদালতে তোলার মাধ্যমে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু হবে।প্রধান আসামির রিমান্ডের বিষয়ে পুলিশ জানায়, “আসামি এখনো পুরোপুরি সুস্থ হয়নি। মেডিকেল ছাড়পত্র পেলে আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে পারব। অসুস্থ অবস্থায় রিমান্ডে নেওয়ার আইনগত এখতিয়ার আমাদের নেই, কারণ এটি মানবাধিকার লঙ্ঘন হবে।”জানা গেছে, মামলার দ্রুত বিচারের দাবিতে বাদীপক্ষ কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার (এসপি) কার্যালয়সহ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর পর্যন্ত যোগাযোগ করেছে। বিষয়টি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও তৎপর রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।উল্লেখ্য, গত ৪ মার্চ বিকেলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনে সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতির কক্ষে সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় বিভাগের সাবেক কর্মচারী ফজলুর রহমানকে প্রধান আসামি করে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন নিহতের স্বামী।হত্যাকাণ্ডের পর গুরুতর আহত অবস্থায় ফজলুর রহমানকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং বর্তমানে তিনি পুলিশি পাহারায় চিকিৎসাধীন। এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে এবং মামলায় নাম আসায় দুই শিক্ষক ও এক কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার দেখানো হলেও অভিযুক্ত শিক্ষক ও কর্মকর্তা এখনো পলাতক রয়েছেন।এনআই

Source: সময়ের কন্ঠস্বর

সম্পর্কিত সংবাদ
বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর স্টেডিয়ামের তালিকায় সিলেট
বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর স্টেডিয়ামের তালিকায় সিলেট

বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর সাতটি ক্রিকেট স্টেডিয়ামের তালিকা তৈরি করেছে ক্রিকেট ৩৬৫। ইংল্যান্ডের ক্রিকেটভিত্তিক গণমধ্যমের সেই সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে Read more

বাংলাদেশীসহ ৬০ অভিবাসীকে ফেরত পাঠালো মালয়েশিয়া
বাংলাদেশীসহ  ৬০ অভিবাসীকে ফেরত পাঠালো মালয়েশিয়া

শরিফুল খান প্লাবন: সাজার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আটক ৬০ জন অবৈধ অভিবাসীকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে মালয়েশিয়া। বৃহস্পতিবার Read more

খাগড়াছড়িতে ইয়াবাসহ আটক ১
খাগড়াছড়িতে ইয়াবাসহ আটক ১

খাগড়াছড়িতে ৮শ পিস ইয়াবাসহ মো. মোশাররফ হোসেন জুয়েল (৩৭) নামক একজনকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় তাঁর কাছ থেকে মাদক Read more

মিরসরাইয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল মোটরসাইকেল আরোহীর
মিরসরাইয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল মোটরসাইকেল আরোহীর

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় শাহজাহান (৪১) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বারইয়ারহাট ইউটার্ণ Read more

একাত্তরের ঘটনায় পাকিস্তানকে ক্ষমা চাইতে বলল বাংলাদেশ
একাত্তরের ঘটনায় পাকিস্তানকে ক্ষমা চাইতে বলল বাংলাদেশ

বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ককে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করতে হলে অতীতের অমীমাংসিত বিষয় সমাধানের বিকল্প নেই। দেড় দশক পর সচিব পর্যায়ের বৈঠকে Read more

আমরা নিরপেক্ষ নই ,    জনতার পক্ষে - অন্যায়ের বিপক্ষে ।    গণমাধ্যমের এ সংগ্রামে -    প্রকাশ্যে বলি ও লিখি ।   

NewsClub.in আমাদের ভারতীয় সহযোগী মাধ্যমটি দেখুন