মানুষ সাধারণত অভাবের তাড়নায় কিংবা কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যে চুরি করে। কিন্তু এমন অনেক মানুষ আছেন যাদের কোনো অভাব নেই, চুরি করা জিনিসের কোনো প্রয়োজনও নেই, তবুও তারা চুরি করার অদম্য এক তাড়না অনুভব করেন। এই বিশেষ অবস্থাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘ক্লেপটোম্যানিয়া’। এটি মূলত একটি মানসিক রোগ বা ‘ইম্পালস কন্ট্রোল ডিজঅর্ডার’, যেখানে আক্রান্ত ব্যক্তি চুরির তীব্র ইচ্ছা বা ইম্পালস নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না।মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদের মতে, এই সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা কোনো আর্থিক লাভের জন্য নয়, বরং মানসিক এক অস্থিরতা থেকে মুক্তি পেতেই চুরি করে থাকেন।ক্লেপটোম্যানিয়ার রোগীদের চুরির ধরনটা সাধারণ অপরাধীদের চেয়ে একেবারেই আলাদা। তারা যে জিনিসগুলো চুরি করেন, সেগুলো হয়তো তাদের কোনো কাজেই লাগে না। চুরি করার পর তারা সেই জিনিসটি নিজে ব্যবহার করেন না, বিক্রিও করেন না; বরং অনেক সময় লুকিয়ে রাখেন, ফেলে দেন কিংবা গোপনে কাউকে দান করে দেন।এমনকি অপরাধবোধে ভুগে তারা অনেক সময় চুরি করা জিনিসটি সবার অলক্ষ্যে জায়গামতো ফেরতও দিয়ে আসেন।অধ্যাপক হেলাল উদ্দিন জানান, মস্তিষ্কের সেরোটোনিন ও ডোপামিনের মতো নিউরোট্রান্সমিটারের ভারসাম্য নষ্ট হলে এই রোগ হতে পারে। এছাড়া বংশগত কারণ, মানসিক চাপ, ট্রমা কিংবা শৈশবের কোনো মানসিক আঘাতও এই রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, নারীদের তুলনায় পুরুষদের মধ্যে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বেশি। এই রোগের কিছু স্পষ্ট লক্ষণ রয়েছে যা দেখে একে সাধারণ চুরি থেকে আলাদা করা যায়। আক্রান্ত ব্যক্তি চুরির ঠিক আগমুহূর্তে প্রবল উত্তেজনা ও অস্থিরতা অনুভব করেন। যতক্ষণ না তিনি জিনিসটি হাত ছাড়া করছেন, ততক্ষণ তার ভেতর উদ্বেগ কাজ করতে থাকে। কিন্তু চুরির পরপরই তিনি এক ধরনের আনন্দ ও মানসিক স্বস্তি পান। তবে এই স্বস্তি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় না; চুরির পর তারা তীব্র অপরাধবোধ ও অনুশোচনায় ভোগেন। অনেকের ক্ষেত্রে এই লজ্জা ও সম্মানহানির ভয় এতটাই প্রকট হয়ে দাঁড়ায় যে, তারা আত্মহত্যার মতো চূড়ান্ত পথও বেছে নিতে পারেন।লজ্জা কিংবা সামাজিক সম্মানহানির ভয়ে অধিকাংশ রোগীই চিকিৎসকের কাছে যেতে চান না। অথচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ও চিকিৎসার মাধ্যমে ক্লেপটোম্যানিয়া সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।সাধারণত এই রোগের চিকিৎসায় ওষুধের পাশাপাশি কগনিটিভ বিহেভিয়ার থেরাপি (সিবিটি) ও কাউন্সিলিং অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে। নিয়মিত চিকিৎসার মাধ্যমে আক্রান্ত ব্যক্তিকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।মানসিক এই সমস্যাকে নিছক স্বভাব বা চরিত্রহীনতা বলে অবহেলা না করে, চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি, যাতে অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো আইনি বা সামাজিক অঘটন এড়ানো যায়।এইচএ

Source: সময়ের কন্ঠস্বর

সম্পর্কিত সংবাদ
এনসিপির অংশ হচ্ছেন না মাহফুজ আলম
এনসিপির অংশ হচ্ছেন না মাহফুজ আলম

এনসিপির সঙ্গে যুক্ত না হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম।রোববার (২৮ ডিসেম্বর) রাতে ‘আমার রাজনৈতিক অবস্থান’ Read more

খাগড়াছড়িতে সেনাবাহিনীর অভিযানে অস্ত্রসহ সন্ত্রাসী আটক
খাগড়াছড়িতে সেনাবাহিনীর অভিযানে অস্ত্রসহ সন্ত্রাসী আটক

খাগড়াছড়িতে অস্ত্রসহ স্থানীয় এক সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে সেনাবাহিনী। এ সময় ২টি এলজি ও ৫ রাউন্ড কার্তুজ জব্দ করা হয়।সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা Read more

দেশের সব কৃষককে পর্যায়ক্রমে ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির আওতায় আনা হবে: কৃষিমন্ত্রী
দেশের সব কৃষককে পর্যায়ক্রমে ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির আওতায় আনা হবে: কৃষিমন্ত্রী

নতুন বাংলা বছর ১৪৩৩-এর পহেলা বৈশাখের দিনে চাষিদের হাতে ‘কৃষক কার্ড’ তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ Read more

মেঘনায় ভিজিএফ চাল বিতরণে অনিয়ম, তদন্তের আশ্বাস ইউএনওর
মেঘনায় ভিজিএফ চাল বিতরণে অনিয়ম, তদন্তের আশ্বাস ইউএনওর

কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার ভাওরখোলা ইউনিয়নে ঈদুল আজহা উপলক্ষে দরিদ্রদের মধ্যে ভিজিএফ কার্ডের মাধ্যমে চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২ জুন) Read more

আমরা নিরপেক্ষ নই ,    জনতার পক্ষে - অন্যায়ের বিপক্ষে ।    গণমাধ্যমের এ সংগ্রামে -    প্রকাশ্যে বলি ও লিখি ।   

NewsClub.in আমাদের ভারতীয় সহযোগী মাধ্যমটি দেখুন