কক্সবাজারের টেকনাফে বিজিবি সদস্যরা গহীন পাহাড়ে গড়ে উঠা মানবপাচারকারী চক্রের গোপন বন্দিশালা থেকে মুক্তিপণ আদায়ের জন্য ধরে নিয়ে যাওয়া ৬ জিম্মিকে উদ্ধার করেছে। এ সময় বেশ কয়েকটি দেশীয় তৈরি আগ্নেয়াস্ত্রসহ পাচারকারীচক্রের এক সদস্যকে আটক করতে সক্ষম হয় বিজিবি।বিজিবি জানায়, মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) গোপন সংবাদের তথ্য অনুযায়ী সকাল ৬ টার দিকে টেকনাফ সদর ইউনিয়ন রাজারছড়া এলাকাসংলগ্ন গহীন পাহাড়ে এই সাঁড়াশি অভিযানটি পরিচালনা করে বিজিবি।বিজিবির তথ্য মোতাবেক অভিযানের চিত্র দেখার জন্য গণমাধ্যমকর্মীদের একটি দল সকাল সাড়ে সাতটার দিকে ঘটনাস্থলে পৌছান।এরপর বিজিবির সাঁড়াশি অভিযানে গহীন পাহাড়ে তৈরি করা পাচারকারীচক্রের গোপন আস্তানা ধ্বংস করে দেওয়ার চিত্র, ৬ জিম্মিকে উদ্ধার ও বেশ কয়েকটি দেশীয় তৈরী আগ্নেয়াস্ত্রসহ পাচারকারীচক্রের এক সদস্যকে আটক করার সত্যতা পাওয়া যায়।আটক মোহাম্মদ রুবেল (২২) টেকনাফ সদর ইউনিয়নের রাজারছড়া এলাকার বাসিন্দা মো. হোসেনের ছেলে।জব্দ করা অস্ত্রের মধ্যে দেশীয় তৈরি ৪টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৬ রাউন্ড গুলি, ২টি ছুরি, ১টি বটি রয়েছে। জিম্মি দশা থেকে উদ্ধার ৬ জনের মধ্যে ১ জন রোহিঙ্গা রয়েছেন।এ বিষয়ে টেকনাফ ২ বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিকুর রহমান বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবি জানতে পারে মানবপাচারকারীচক্রের একটি গ্রুপ বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে রাজারছড়া এই গহীন পাহাড়ী এলাকায় জিম্মিদের ধরে এনে গোপন আস্তানায় অস্ত্রের মুখে বন্দি করে রাখার পর অমানবিক নির্যাতন করে মুক্তিপণ আদায় করে। আবার সুযোগ বুঝে রাতের অন্ধকারে আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারীচক্রের সহায়তায় জিম্মিদের অবৈধ পন্থায় সাগর পথে মালয়েশিয়ায় পাচার করে দেয়। সে তথ্য অনুযায়ী বিজিবি সৈনিকরা রাজারছড়া এই গহীন পাহাড়ি এলাকায় ভোর রাত থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত প্রায় ৪ ঘন্টার সাঁড়াশি অভিযান চালায়। এ সময় ৬জন জিম্মিকে উদ্ধার ও অস্ত্র-গুলিসহ রুবেল নামে এক পাচারকারীকে আটক করতে সক্ষম হয়।’তিনি বলেন, ‘অভিযান টের পেয়ে বেশ কয়েকজন মানবপাচারকারী কৌশলে পালিয়ে যায়। তাদেরকে চিহ্নিত করার জন্য গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।’ মানবপাচারে জড়িত অপরাধীদের ধরতে বিজিবির চলমান অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলেও জানান তিনি।তিনি আরও বলেন, ‘উদ্ধার জিম্মিদের স্বীকারোক্তী অনুযায়ী ছদ্মনাম ব্যবহার করে আড়ালে থাকা পলাতক মানবপাচারকারীচক্রের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়ের করার পাশাপাশি উদ্ধারদের তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করার জন্য টেকনাফ মডেল থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হবে।‘ইখা
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
