ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ফিলিস্তিনের গাজা ও ইসরায়েলে জিম্মিদের পরিবারগুলোর মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইছে। গাজায় এখনো কোথাও কোথাও ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকলেও যুদ্ধবিরতির খবরেই মানুষ নেমে এসেছে রাস্তায়।বৃহস্পতিবার গাজার তরুণ-তরুণীরা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া রাস্তায় নেচে, স্লোগান দিয়ে উদযাপন করেছে এই মাহেন্দ্রক্ষণকে। টানা দুই বছর ধরে চলা ইসরায়েলি বোমা হামলায় গাজার ২০ লাখেরও বেশি মানুষের প্রায় সবাই বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।দক্ষিণ গাজার শহর খান ইউনিসের বাসিন্দা আব্দুল মজিদ আব্দ রাব্বো রয়টার্সকে বলেন, “এই যুদ্ধবিরতি ও রক্তপাত বন্ধের জন্য আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ। শুধু আমি না, পুরো গাজা খুশি। আরব বিশ্বসহ যারা আমাদের পাশে ছিলেন, সবাইকে ধন্যবাদ ও ভালোবাসা জানাই।”ইসরায়েলের তেল আবিবে ‘জিম্মি চত্বর’-এও ছিল আনন্দের উৎসব। গাজায় হামাসের হাতে বন্দি এক জিম্মির মা আইনভ জাঙ্গাউকার বলেন, “আমি দম নিতে পারছি না, কী অনুভব করছি তা ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব। এটা অপরিসীম আনন্দ।”নিজের ছেলের প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “ওকে দেখলে আমি শুধু জড়িয়ে ধরবো, চুমু খাবো, আর বলবো— আমি তোমাকে ভালোবাসি। তার চোখে আমার চোখ ডুবে যাবে— এটাই আমার স্বস্তি।”বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে নেওয়া গাজায় শান্তি পরিকল্পনার প্রথম ধাপের অংশ হিসেবে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে এই সমঝোতা হয়। এতে যুদ্ধবিরতি এবং ইসরায়েলি জিম্মি ও ফিলিস্তিনি বন্দি বিনিময়ের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পরিকল্পনাটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে গাজায় দুই বছর ধরে চলা প্রাণঘাতী যুদ্ধের অবসান ঘটতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।রয়টার্সের প্রশ্নে সাবেক ইসরায়েলি জিম্মি ওমের শেমটোভ সংক্ষেপে বলেন, “এ অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।”গাজায় তরুণদের একজন তার বন্ধুর কাঁধে উঠে ‘আল্লাহু আকবর’ স্লোগান দিয়ে আনন্দ করছিল। কেউ হাসছিল, কেউ কাঁদছিল, কিন্তু সবাই আশা করছিল— এই চুক্তি যুদ্ধের ইতি টানবে এবং তারা আবার ঘরে ফিরতে পারবে।বাস্তুচ্যুত ব্যবসায়ী তামের আল-বুরারি রয়টার্সকে বলেন, “আমি হাসি আর কান্না থামাতে পারছি না। আমরা বেঁচে আছি, এটা বিশ্বাস করা কঠিন। আমাদের ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে গেলেও আমি ফিরে যেতে চাই। বোমার ভয় ছাড়া ঘুমাতে চাই, আবার নতুন করে জীবন শুরু করতে চাই।”তবে হামাস প্রশাসন জনগণকে সতর্ক করেছে, চুক্তির বিস্তারিত প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত যেন কেউ নিজ নিজ এলাকায় ফিরে না যায়। ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণাধীন অঞ্চল থেকেও দূরে থাকতে বলা হয়েছে।ইসরায়েলি সেনাবাহিনীও একই সতর্কতা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (টুইটার) তারা জানিয়েছে, “গাজার উত্তরাঞ্চলের অনেক এলাকা এখনো বিপজ্জনক যুদ্ধক্ষেত্র। সেখানে ফেরা নিরাপদ নয়।”এবি 

Source: সময়ের কন্ঠস্বর

সম্পর্কিত সংবাদ
কোয়ারেন্টাইনে থাকা তিন বাঘের সামনে পচা মাংস
কোয়ারেন্টাইনে থাকা তিন বাঘের সামনে পচা মাংস

কক্সবাজারের চকরিয়ার ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে দক্ষিণ আফ্রিকার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের লিংগোফু প্রদেশ থেকে আনা তিনটি সাব-এডাল্ট (১১-১৪ মাস বয়সী) বাঘকে বাসি ও Read more

ঢাকার বাতাস আজ ‘মাঝারি’
ঢাকার বাতাস আজ ‘মাঝারি’

বৃষ্টি কমতেই ঢাকার বায়ুদূষণের মাত্রা আবার বাড়তে শুরু করেছে। এরই মধ্যে গতকাল বিশ্বের দূষিত বাতাসের শহরের তালিকার ৩ নম্বরে উঠে Read more

বরিশালে শিশু বিকাশ কেন্দ্রের শিক্ষার্থীদের মাঝে পোশাক বিতরণ
বরিশালে শিশু বিকাশ কেন্দ্রের শিক্ষার্থীদের মাঝে পোশাক বিতরণ

বরিশালে শিশু একাডেমীর আয়োজনে প্রাক-প্রাথমিক ও শিশু বিকাশ কেন্দ্রের শিক্ষার্থীদের মাঝে নুতন পোশাক বিতরণ এবং অভিভাবকদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত Read more

অবশেষে শুরু হচ্ছে ধোনির ১০০ কোটি টাকার মানহানি মামলার বিচার
অবশেষে শুরু হচ্ছে ধোনির ১০০ কোটি টাকার মানহানি মামলার বিচার

আইপিএলে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগে ২০১৩ সালে মহেন্দ্র সিং ধোনির নাম জড়িয়ে প্রচারিত মিথ্যা তথ্য নিয়ে করা মানহানি মামলার শুনানি অবশেষে Read more

পেন বিশ্ববিদ্যালয়ে ইহুদিদের তথ্য চাওয়ার উদ্যোগে আদালতের অনুমোদন
পেন বিশ্ববিদ্যালয়ে ইহুদিদের তথ্য চাওয়ার উদ্যোগে আদালতের অনুমোদন

যুক্তরাষ্ট্রে ইহুদিবিদ্বেষ (অ্যান্টিসেমিটিজম) সংক্রান্ত তদন্তের অংশ হিসেবে পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (University of Pennsylvania) কাছ থেকে ইহুদি শিক্ষক-কর্মীদের তথ্য চাওয়ার সরকারি উদ্যোগকে Read more

৩৫ বছর পরও থামেনি সেই রাতের আর্তনাদ
৩৫ বছর পরও থামেনি সেই রাতের আর্তনাদ

কখনো কখনো কোনো রাত পুরো জীবনের গায়ে এমনভাবে ছাপ ফেলে দেয়- যার দাগ কোনোদিন মোছা যায় না। ১৯৯১ সালের ২৯ Read more

আমরা নিরপেক্ষ নই ,    জনতার পক্ষে - অন্যায়ের বিপক্ষে ।    গণমাধ্যমের এ সংগ্রামে -    প্রকাশ্যে বলি ও লিখি ।   

NewsClub.in আমাদের ভারতীয় সহযোগী মাধ্যমটি দেখুন