দেশে সরাসরি স্বৈরাচার না থাকলেও এখন একটি ‘অদৃশ্য শক্তি’ ধীরে ধীরে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। এই পরিস্থিতিতে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং দেশের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে দলের নেতাকর্মীদের আরও ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকালে কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের পুরাতন স্টেডিয়ামে জেলা বিএনপির ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এই আহ্বান জানান।তারেক রহমান বলেন, ‘যে কোনো মূল্যে বিএনপির নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আগামী ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত যদি আমরা ইস্পাত কঠিন ঐক্য ধরে রাখতে পারি, তবে জনগণের রায় ধানের শীষের পক্ষেই আসবে।’দলের নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘দলের নাম ব্যবহার করে কেউ যেন ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল করতে না পারে বা জনগণের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়াতে না পারে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।’দেশের সংস্কার প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ‘বিএনপি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারেরও আড়াই বছর আগে সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছিল। দেশের সংস্কার নিয়ে কারো সঙ্গে বিএনপির কোনো মতভিন্নতা বা আপত্তি নেই। তবে তা জনগণের রায়ে প্রতিষ্ঠিত সরকারের মাধ্যমে হতে হবে।’ তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, ‘মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং দেশের উন্নয়নের জন্য বসে থাকার সময় নেই।’তারেক রহমান আরও বলেন, ‘আজ যারা দলীয় পদ পাওয়ার জন্য নির্বাচন করছেন, তাদের কাছে কাউন্সিলররা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি আগামী নির্বাচনে জনগণ গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য জনগণের সঙ্গে থাকতে হবে, তাদের পাশে থাকতে হবে, পাশে রাখতে হবে।’এ সময় তারেক রহমান উপস্থিত নেতাকর্মীদের দু’টি বিষয়ে প্রতিজ্ঞা করান। তিনি বলেন, ‘দু’টি বিষয়ে প্রতিজ্ঞা করতে হবে। একটি হলো, যে কোনো মূল্যে দলের সিদ্ধান্তে আমরা একমত থাকব। একই সঙ্গে দলকে যেন কেউ ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করতে না পারে, সে ব্যাপারে সচেতন থাকব।’এর আগে জাতীয় সংগীত ও পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ৯ বছর পর এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা স্টেডিয়ামে সমবেত হন। কয়েক হাজার কর্মীর উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয় সম্মেলন। সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে বিকেল চারটা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচনে ভোট দেবেন দুই হাজার নব্বই জন কাউন্সিলর। এই কাউন্সিলের মধ্য দিয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির নতুন নেতৃত্ব নির্ধারিত হবে।সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সভাপতি মো. শরিফুল আলম এবং সঞ্চালনায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক মো. মাজহারুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম। প্রধান বক্তা ছিলেন যুগ্ম-মহাসচিব হাবিব উন-নবী খান সোহেল।এআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
