জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) পদার্থ বিজ্ঞান অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত রোবেল পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার আগেই পদত্যাগ করেছেন। ফলে কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে নবনির্বাচিত কমিটি।সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জুলাই অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন ড. নজরুল ইসলাম খান এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পান ড. আবুল হাসনাত রোবেল। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে না পারায় কমিটির কার্যক্রম থমকে যায়। এরই মধ্যে, ৯ সেপ্টেম্বর ফেসবুকে বিভাগীয় ও অ্যালামনাই গ্রুপে সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন ড. রোবেল। তিনি এ বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকেও অবহিত করেন।এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক ড. রোবেল বলেন, ‘পোস্টডকের কারণে আমি দায়িত্ব পালন করতে পারছি না। শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার প্রবল ইচ্ছা থাকলেও বাস্তবতার কারণে আমাকে এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। আমি চাই, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় একটি নতুন, নিরপেক্ষ কমিটি গঠিত হোক, যারা মূলত শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করবে।’সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল-মমিন এ বিষয়ে বলেন, ‘পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের পূর্বেই সাধারণ সম্পাদকের পদত্যাগ কমিটিকে কার্যত অকার্যকর করে তুলেছে। যেহেতু পূর্ববর্তী কমিটির নিকট দায়িত্ব হস্তান্তর হয়নি, সে অনুযায়ী বর্তমান কমিটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায় এবং এসোসিয়েশন পরিচালনার দায়িত্ব আবার পূর্ববর্তী কমিটির ওপর বর্তায়।’তিনি আরও জানান, ‘বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী পূর্বের কমিটি একটি নতুন AGM-এর মাধ্যমে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করে কমিটি পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেবে।’অন্যদিকে, সভাপতি ড. নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘সাধারণ সম্পাদকের পদত্যাগের কারণে আমাদের কমিটি পুনর্গঠন করতে হবে। নির্বাচন কমিশনার আমাদের দুই সপ্তাহ সময় দিয়েছেন। আমরা সবাই মিলে আলোচনা করে গণতান্ত্রিক কণ্ঠে সিদ্ধান্ত নেব।’তবে সাধারণ সম্পাদকের পদত্যাগের পর ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদককে নির্বাহী সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে ব্যাপক প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, এটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পূর্বেই করা হয়েছে এবং এসোসিয়েশনের প্রায় ৬০০–৭০০ সদস্যকে না জানিয়ে ছয়-সাত জনের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবু জাফর জিয়াউদ্দিন জানান, ‘৭ সেপ্টেম্বর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আমার অফিসে এসে খসড়া কমিটির কয়েকটি নাম প্রস্তাব করেন। এতে কয়েকজন সিনিয়র শিক্ষকও উপস্থিত ছিলেন এবং যৌথভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।’তবে বিষয়টি নিয়ে সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. মমিন জানান, ‘আমি এসবের কিছুই জানি না। আশা করি, কেউ নিয়ম ভঙ্গ করে কিছু করবে না।’এই পদত্যাগ ও নতুন দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে অ্যালামনাই সদস্যদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই অভিযোগ করছেন, শত শত সদস্যের অংশগ্রহণ ও মতামত উপেক্ষা করে হাতে গোনা কয়েকজনের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হচ্ছে, যা একটি গণতান্ত্রিক সংগঠনের জন্য প্রশ্নবিদ্ধ।এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
