বেকারত্বের অভিশাপ থেকে বেরিয়ে আসতে ইউটিউব থেকে আধুনিক কৃষির ভিডিও দেখে গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষে সফল ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত তরুণ সায়েম। সায়েমের সফলতা দেখে এলাকার অন্যান্য কৃষকরা আগ্রহী হচ্ছে গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষে। আর যুবকদের এমন আগ্রহ কৃষি খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে বলছে কৃষি বিভাগ।নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার গড়াডোবা ইউনিয়নের পাথারিয়া গ্রামের তরুণ সারোয়ার আহমেদ সায়েম। তিনি বর্তমানে কেন্দুয়া সরকারি কলেজে ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত একজন শিক্ষার্থী। পড়াশোনা শেষ করে যাতে বেকারত্বের অভিশাপ নিয়ে ঘুরতে না হয়, তাই নিজ উদ্যোগে ইউটিউব থেকে আধুনিক কৃষির ভিডিও দেখে কৃষির প্রতি আগ্রহ বাড়তে থাকে। ইউটিউব থেকে জানতে পারে গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষে সময় কম, লাভ বেশি।সায়েমের বাবা জানান, ভিডিও দেখে তরমুজ চাষে আগ্রহী হয়ে সায়েম প্রথমে উপজেলা কৃষি অফিসে যোগাযোগ করে। কৃষি অফিস তার জমির প্রকৃতি বিশ্লেষণ করে দেখে পাথারিয়া এলাকার জমি বেলে দোআঁশ মাটি, যা তরমুজ চাষের জন্য খুবই উপযোগী।পরবর্তীতে কৃষি অফিসের পরামর্শে সায়েম প্রথম বছর ৪০ শতাংশ জমিতে ৫০ হাজার টাকা খরচ করে ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকার তরমুজ বিক্রি করে।প্রথম বছরের অভাবনীয় সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে সায়েম চলতি বছর ৫ একর জমিতে তরমুজের চাষ করেছে। ইতিমধ্যেই জমিতে বাম্পার ফলনও হয়েছে। এবার তিনগুণের বেশি লাভ হবে বলে আশা করছে কৃষক সায়েম।সায়েমকে দেখে গ্রামের আরো অনেক কৃষক মালচিং পদ্ধতিতে গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। ইতিমধ্যে এ বছর সুমন মিয়া নামের এক কৃষক গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষ করেছেন।সায়েম জানায়, পড়াশোনা শেষ করে অনেকেই দেখেছি বেকার বসে থাকতে। তাই আমার মাথায় চিন্তা আসলো কিভাবে নিজ এলাকায় থেকে কৃষিতে ভালো কিছু করতে পারি। তার ধারণা থেকে ইউটিউব দেখে তরমুজ চাষের ইচ্ছে আসে।কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, এই জাতের তরমুজ ৬৫ থেকে ৭০ দিনে পরিপক্ক হয়। উৎপাদনকাল স্বল্প হওয়ায় দ্রুত বাজারজাত করা যায়, এবং বাজারে ভালো চাহিদা থাকায় কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের আওতায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর তরুণ অশিক্ষিত বেকারদের প্রশিক্ষণের আওতায় এনে মাঠ পর্যায়ে চাষিদের প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ হুমায়ুন দিলদার জানান, যুবকদের এমন আগ্রহ কৃষি খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে। আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষি আরও লাভজনক পেশায় পরিণত হচ্ছে।এই সাফল্য কেন্দুয়াসহ দেশের অন্যান্য এলাকার তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণা হতে পারে। লেখাপড়ার পাশাপাশি কৃষি পেশায় যুক্ত হয়ে সায়েমরা কর্মসংস্থানের পথ তৈরি করলে বেকারত্ব দূর হবে, যেমন, তেমনি পথ দেখবে অন্য তরুণরাও।এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
