পাকিস্তানে সরকার দেশটির নাগরিকদের ওপর ব্যাপক নজরদারি চালাচ্ছে, এবং এই কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে মোবাইল ও ইন্টারনেট ভিত্তিক নজরদারি প্রযুক্তি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ন্ত্রণেও ব্যবহৃত হচ্ছে চীনে তৈরি অত্যাধুনিক ব্যবস্থা। এমনটি দাবি করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত অ্যামনেস্টির এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, পাকিস্তান সরকার একটি বিস্তৃত নজরদারি অবকাঠামো তৈরি করছে যা পশ্চিমা ও চীনা প্রযুক্তির সমন্বয়ে গঠিত। এর মাধ্যমে নাগরিকদের বাকস্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।গত কয়েক বছর ধরে পাকিস্তানে রাজনৈতিক পরিবেশ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর দমন-পীড়নের মাত্রা বেড়েছে। বিশেষ করে ২০২২ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে সেনাবাহিনীর দ্বন্দ্ব তীব্র হওয়ার পর থেকে পরিস্থিতি আরও অবনতি ঘটেছে। ওই বছর অনাস্থা ভোটে ক্ষমতা হারানোর পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয় এবং তাঁর দলের অনেক নেতাকর্মীকেও আটক করা হয়।অ্যামনেস্টির তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ‘লফুল ইন্টারসেপ্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ (LIMS) নামক একটি প্রযুক্তি ব্যবহার করে একসঙ্গে প্রায় ৪০ লাখ মোবাইল ফোন পর্যবেক্ষণ করতে সক্ষম। পাশাপাশি চীনের তৈরি ‘WMS 2.0’ নামের একটি ফায়ারওয়াল প্রযুক্তি ব্যবহার করে ২০ লাখের বেশি ইন্টারনেট ব্যবহারকারীকে ব্লক বা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।এই দুটি প্রযুক্তি একসঙ্গে ব্যবহারের মাধ্যমে একদিকে যেমন ফোনকল নজরদারি করা যায়, তেমনি ইন্টারনেট গতির উপর প্রভাব ফেলা বা নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট ও সামাজিক মাধ্যম ব্লক করাও সম্ভব হয়। তছাড়া দেশটির অন্তত চারটি প্রধান মোবাইল অপারেটরকে এসব প্রযুক্তি সিস্টেমে যুক্ত হতে বাধ্য করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ২০২৪ সালে ইমরান খানের স্ত্রী বুশরা বিবির একটি ব্যক্তিগত ফোনালাপ ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ার পর তিনি ইসলামাবাদ হাইকোর্টে মামলা করেন। সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতেই অ্যামনেস্টি এই অনুসন্ধানমুলক প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে। যদিও আদালতে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলো নজরদারি বা প্রযুক্তির মালিকানা থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।তবে এ বিষয়ে পাকিস্তানের তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, এবং টেলিকম নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে প্রতিক্রিয়া চেয়েছিল, তবে তারা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।সূত্র: রয়টার্স আরডি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
