ইরানে চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সংখ্যা জানিয়েছে জাতিসংঘ। শুক্রবার (২৯ আগস্ট) সংস্থাটি জানায়, ইরানে চলতি বছরে ইতোমধ্যেই ৮০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, সরকার জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য মৃত্যুদণ্ডকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে এবং এর তীব্র সমালোচনা করেছে।জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর বলছে—২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে আগের তুলনায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। জাতিসংঘের মুখপাত্র রাভিনা শামদাসানি সাংবাদিকদের জানান, ১ জানুয়ারি থেকে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত অন্তত ৮৪১ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ইরান। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, প্রকৃত সংখ্যা হয়তো আরও বেশি।তিনি আরও বলেন, শুধু জুলাই মাসেই অন্তত ১১০ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে, যা গত বছরের জুলাই মাসে কার্যকর হওয়া সংখ্যার প্রায় দ্বিগুণ। জাতিসংঘের পক্ষ থেকে বলা হয়, এত বিপুল সংখ্যক মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া মূলত রাষ্ট্রীয় ভীতি প্রদর্শনের একটি নিয়মিত কৌশল। এ প্রক্রিয়ায় জাতিগত সংখ্যালঘু ও অভিবাসীরা বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।শামদাসানি আরও জানান, বর্তমানে ইরানে অন্তত ১১ জন মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত বন্দি রয়েছেন। এর মধ্যে ৬ জন নির্বাসিত বিরোধী দল পিপলস মুজাহিদীন অর্গানাইজেশন অব ইরান (এমইকে)-এর সদস্য হওয়ায় ‘সশস্ত্র বিদ্রোহে জড়িত’ থাকার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।তিনি জোর দিয়ে বলেন, মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার মৃত্যুদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, বরং এটি মানবিক মর্যাদাকেও অস্বীকার করে।সূত্র: রয়টার্সএবি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
