গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যূত্থানে স্বৈরাশাসক শেখ হাসিনা পাশ্ববর্তী দেশ ভারতে আশ্রয় নিলেও তার দোসররা ঘাপটি মেরে বসে রয়েছে। তাদের একজন হলেন মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নার্সিং সুপারভাইজার (ইনচার্জ) আক্তার হোসেন।২০ আগস্ট ২০২৫ তারিখে হাসপাতালের পরিচালক ডা. সফিকুল ইসলামের স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে মো. আক্তার হোসেনকে নার্সিং সুপারভাইজার থেকে নার্সিং সুপারভাইজার ইনচার্জ পদে প্রদান করা হয় এবং রিজিয়া বেগমকে নার্সিং সুপারভাইজার ইনচার্জ থেকে নার্সিং সুপারভাইজার পদে উন্নীত করা হয়।বিভিন্ন সূত্রমতে জানা যায়, আওয়ামী লীগের আমলে বাংলাদেশ নার্সিং এসোসিয়েশন (বিএনএ) মানিকগঞ্জ শাখার আওতায় কর্ণেল মালেক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিএনএ সভাপতি ছিলেন এই আক্তার হোসেন। সেই সুবাদে দীর্ঘ কয়েক বছর যাবত মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নার্সিং সুপারভাইজার (ইনচার্জ) এর দায়িত্ব পালন করে আসছেন।অতি চালাক আক্তার হোসেন তার আস্থাভাজনদের মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে ওয়ার্ড ইনচার্জ বানাতেন, ইন্টার্নি না করে অর্থের বিনিময়ে সাটিফিকেট দেওয়া সহ নানা অপরাধে জড়িত ছিলেন এই আক্তার হোসেন।এ বিষয়ে হাসপাতালের কয়েকজন নার্সের সাথে কথা হলেও ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাননি। তারা বলেন, ‘নিউজ হলে পরে আমাদের নাম আসবে এবং চরম ভোগান্তিতে পড়তে হবে।’এ বিষয়ে বাংলাদেশ নার্সিং এসোসিয়েশন এর বর্তমান সভাপতি শাহিনুর ইসলাম শাহিন বলেন, ‘আমি বিএনএ এর বর্তমান সভাপতি, আমার সাথে সমন্বয় করে প্রতিটি হাসপাতালের নার্সদের পদ পদবি দেওয়ার কথা। কিন্তু মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তা করা হয়নি। কোন নার্সিং কর্মকর্তার যদি আমার নার্স ভাই-বোনদের সাথে খারাপ ব্যবহার করে, তা মেনে নেওয়া হবে না। আওয়ামী লীগের দোসররা কোনভাবেই হাসপাতালের কোন দায়িত্বশীল পদে থাকতে পারবে না। যে আওয়ামী লীগের সাথে জড়িত, সে কিভাবে নার্সিং সুপারভাইজার ইনচার্জ এর মত গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকে?’এ বিষয়ে আক্তার হোসেন মুঠোফোনে বলেন, ‘আমার রাজনৈতিক পরিচয় নেই, তবে সরকারি চাকরি করলে যে সরকার আসে, তার জন্য কাজ করতে হয়।’ তবে ২০২২ সালে কর্ণেল মালেক মেডিকেল হাসপাতালের বিএনএ সভাপতি থাকার কথা স্বীকার করেন।মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যাকে ভালো মনে করেছে, তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আর হাসপাতালে যারা চাকরি করেন, তারা কোন পার্টি করেন না’ বলে জানান এই পরিচালক।এআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
