নেইমার এবং ইনজুরি এই দু’টি শব্দ যেন হয়ে উঠেছে একে অপরের পরিপূরক। ইনজুরির কারণে ক্যারিয়ারের বেশিরভাগ সময় মাঠের বাইরে কাটাতে হয়েছে ব্রাজিলিয়ান তারকা ফুটবলার নেইমার জুনিয়রকে। চলতি বছর আল-হিলাল ছেড়ে শৈশবের ক্লাব সান্তোসে যোগ দিয়েছিলেন নেইমার। কিন্তু শৈশবের এই ক্লাবে ফেরার পর আবারও তাকে লড়তে হয়েছে ইনজুরির বিপক্ষে। যে কারণে খেলতে পারেননি জাতীয় দলের হয়ে সবশেষ বিশ্বকাপ বাছাইয়ের বেশ কয়েকটি ম্যাচ। এদিকে ইনজুরি কাটিয়ে মাঠে ফেরার পর নিজের পুরোনো ছন্দ ফিরে পেয়েছেন এই ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার। গতকাল মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) ব্রাজিলের ঘরোয়া লিগে জুভেন্টুডের বিপক্ষে ৩-১ ব্যবধানে জয় পেয়েছে সান্তোস। যেখানে জোড়া গোল করেছেন নেইমার। আরেকটি বড় বিষয় হলো, এদিন ম্যাচের পুরো ৯০ মিনিটই খেলেছেন নেইমার। ২০২২ সালের আগস্টের পর প্রথমবার টানা পাঁচটি ম্যাচ পুরো সময় খেলেন এই ব্রাজিলিয়ান তারকা। ক্লাব পর্যায়ের ম্যাচে জোড়া গোলের দেখাও পেলেন প্রায় তিন বছর পর। এদিন মাঠে উপস্থিত ছিলেন ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশনের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা। ধারণা করা হচ্ছে, নেইমারের এই পারফরম্যান্সের উপরই নির্ভর করবে তার জাতীয় দলে ফেরা। ম্যাচশেষে নেইমারকে প্রশ্ন করা হয়, উপস্থিত কর্তাদের মুগ্ধ করতে পেরেছেন কি না? উত্তরে এই তারকা জানান, কারও কাছেই তার কিছু প্রমাণ করার নেই।সান্তোসের ফরোয়ার্ড নেইমার বলেন, ‘আমার নিজেকে কারও কাছে প্রমাণ করার কোনো কিছু নেই, সবাই জানে আমার মান। আমি সুস্থ, সম্পূর্ণ ফিট আছি—বাকিটা তাদের ওপর। জিততে পেরে ভালো লাগছে, সেটাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’এদিকে, এমন পারফরম্যান্সের পর ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার ব্রেমার এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, নেইমারকে ইউভেন্টাসে দেখতে চান তিনি। আবারও ইউরোপে খেলবেন নেইমার—এমনটাই প্রত্যাশা ইউভেন্টাসের এই সেন্টার-ব্যাকের।নেইমার সবশেষ জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন ২০২৩ সালে উরুগুয়ের বিপক্ষে। সেই ম্যাচে বাঁ পায়ের ভয়ংকর চোটে পড়ার পর থেকে ব্রাজিলের জার্সিতে আর খেলা হয়নি নেইমারের। তার বর্তমান ফিটনেস আর ইনজুরি ইস্যুই নেইমারের জাতীয় দল–ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে আগামী ৪ সেপ্টেম্বর ঘরের মাঠে চিলিকে আতিথ্য দেবে ব্রাজিল, এরপর ৯ সেপ্টেম্বর বলিভিয়ার মাটিতে লড়বে সেলেসাওরা। ইনজুরি-মুক্ত থেকে আনচেলত্তির সেই দলে নেইমার জায়গা করে নিতে পারেন কি না, সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।আরডি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
