ত্রিবার্ষিক নির্বাচন করছে কেরানীহাট প্রগতিশীল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি। এ জন্য ইসলামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান–কেরানীহাট জামেউল উলুম ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসাকে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এ কারণে আজ বৃহস্পতিবার প্রতিষ্ঠানটিতে শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে ব্যবসায়ীদের নির্বাচনী আয়োজন করায় অভিভাবক ও শিক্ষার্থী মহলে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ একে বলছেন ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অপমান’, আবার কেউ বলছেন ‘ক্ষমতার জোরে শিক্ষা থামিয়ে দেওয়া’।মাদ্রাসাটিতে ১ম শ্রেণি থেকে ফাজিল পর্যন্ত স্তর রয়েছে। যথারীতি আজ সরকারি ছুটির দিন না হওয়ায় ক্লাস হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচনের জন্য গতকাল শিক্ষার্থীদের জানিয়ে দেওয়া হয়–মাদ্রাসা বন্ধ থাকবে। গতকাল বুধবার বিকাল থেকে প্রতিষ্ঠানটিকে নির্বাচনী কেন্দ্র হিসেবে সাজানো হয়। ক্লাসরুমে রাখা হয়েছে ব্যালট বাক্সসহ নির্বাচনের যাবতীয় সামগ্রী।শিক্ষানীতিমালা ২০১০-এর ধারা ১৪.২ অনুযায়ী, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারযোগ্য নয়। পাঠদান ব্যাহত হয়–এমন কোনো কর্মকাণ্ড অনুমোদিত নয়।’আলিম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের ভোটের চাপে আমরা পড়াশোনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি।’নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক অভিভাবক বলেন, ‘ভবিষ্যতে মাদ্রাসা কি ব্যবসায়ীদের পার্টি সেন্টার হয়ে যাবে? ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়ার স্থানে এখন ভোট হচ্ছে। এর চেয়ে অপমানজনক আর কী হতে পারে?’অন্য এক অভিভাবক বলেন, ‘যে দেশে একদিন ক্লাস বন্ধ থাকলে বছরের হিসাব বদলে যায়, সেখানে ভোটের নামে শিক্ষা বন্ধ করার মানে হচ্ছে–জ্ঞানের উপর ব্যবসার জাল বিস্তার করা।’জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাতকানিয়া উপজেলা সমন্বয় কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী মো. তহীদুল ইসলাম মাছুম বলেন, ‘একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, বন্ধ করে সেখানে রাজনৈতিক বা বাণিজ্যিক ভোটগ্রহণ করানো দুঃখজনক। এটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা কমিয়ে দেয়।’তিনি আরও বলেন, ‘একদিনের জন্য মাদ্রাসা বন্ধ—তা অনেকের কাছে সামান্য বলে মনে হতে পারে। কিন্তু এর পেছনে যে ক্ষমতার দম্ভ, প্রশাসনের নীরবতা আর শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি অবজ্ঞা, তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়–আমরা এখনো শিক্ষাকে প্রাধান্য দেওয়ার পর্যায়ে পৌঁছাতে পারিনি। সরকারি মহলের উচিত এ ঘটনায় তদন্ত করে দায়ীদের চিহ্নিত করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া।’এ বিষয়ে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ, নির্বাচন পরিচালনা কমিটি এবং ব্যবসায়ী সমিতির কেউই গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।জানতে চাইলে সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, তিনি এ বিষয়ে অবগত নন। খোঁজ নিয়ে দেখবেন বলে জানান।এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
