রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় একটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এক শিক্ষককে মারধর করে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠান প্রধানের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন ওই শিক্ষক।অভিযোগকারী বিপুল কুমার বাউসা ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট অ্যান্ড বিএম কলেজে এগ্রোবেসড ফুড বিষয়ের ট্রেড ইনস্ট্রাক্টর হিসেবে কর্মরত। তিনি নাটোরের লালপুর উপজেলার চংধুপইল ইউনিয়নের দেলুয়া গ্রামের বাসিন্দা।শিক্ষক বিপুল কুমারের দাবি, ধান বীজ এনে না দেওয়ার কারণে তাকে মারধর করে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করে নেওয়া হয়েছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রতিষ্ঠান প্রধান রেজাউল করিম। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ জুন সন্ধ্যায় প্রতিষ্ঠানের প্রধান রেজাউল করিম মুঠোফোনে শিক্ষক বিপুল কুমারকে বলেন, তিনি ১৫ বিঘা জমিতে ধান আবাদ করবেন। এজন্য ১৬ হাজার ১৯ জাতের ৩০ কেজি ধান বীজ লাগবে। সেই ধান যেন তার এলাকা থেকে পরের দিন (২৯ জুন) সকালে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়ে আসেন। কিন্তু বাগাতিপাড়া বাজারে গিয়ে ধানের সন্ধান করেও ওই জাতের ৩০ কেজি ধান পাননি। পরে ৬০০ (ছয়শত) টাকা কেজি দরে স্থানীয় এক ব্যবসায়ীকে অর্ডার করে মোবাইল ফোনে প্রধান শিক্ষককে জানিয়ে বাড়িতে চলে আসেন বিপুল কুমার।পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার পর প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম বিপুলকে দেখে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে বলেন, ‘বাগাতিপাড়া বীজ পাওয়া যায়নি, তুই রাজশাহী যাবি না হয় নাটোর যাবি, তোর কাজ তো এটাই। তুই কীভাবে চাকরি করিস আমি দেখে নেব। তিনি ক্ষমা চেয়ে বীজ এনে দেওয়ার কথা বলে অফিস শেষে বাড়িতে চলে যান’।ঘটনার প্রায় দুই সপ্তাহ পর ১৭ জুলাই প্রতিষ্ঠানে গেলে সকাল ১১টায় এক স্টাফ মিটিংয়ে প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্যদের সামনে বিপুল কুমারকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।বিপুল জানায়, ঘটনার পর থেকে প্রতিষ্ঠানের প্রধান রেজাউল করিম বিভিন্নভাবে তাকে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে আসছে। ভবিষ্যতে তার আরও বড় ধরনের ক্ষতি করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে দাবি তার।বিপুল আরও জানায়, তিনি মারধরের পর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক ও পরে নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। ঘটনার পর তিনি বাঘা থানায় গত ২২ জুলাই সাধারণ ডায়েরি (নং-১১৯৬) করেছেন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।অভিযোগ অস্বীকার করে রেজাউল করিম বলেন, কয়েকজন শিক্ষকের উপস্থিতিতে স্বেচ্ছায় পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করেছেন শিক্ষক বিপুল কুমার। কেউ যদি জোর করে স্বাক্ষর নেওয়ার কথা বলে থাকে, তাহলে মিথ্যা বলেছে বলে দাবি তার।বাঘা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ ফ ম আছাদুজ্জামান বলেন, ‘বিপুল কুমারের সাধারণ ডাইরি সংক্রান্ত বিষয়ে থানার সহকারী পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) সিফাত রেজাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’সহকারী পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) সিফাত রেজা জানান, ‘জিডি তদন্তের জন্য রোববার (২৭ জুলাই) আদালতে আবেদন করা হয়েছে। আদালতের অনুমতি পেলে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।’উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি শাম্মী আক্তার বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’আরডি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
