রাজধানী ঢাকার উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় আগুনে দগ্ধ হয়ে ৫ দিন পর মারা গেলেন ভোলার মেয়ে মাসুমা বেগম (৩৮)। তিনি মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।শনিবার (২৬ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।এর আগে, দুর্ঘটনার দিন মাসুমা আগুনে দগ্ধ হন। এ সময় তার শরীরের প্রায় ৯০ শতাংশ পুড়ে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে ওই হাসপাতালে ভর্তি করা হলে অবস্থার অবনতি দেখে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) তে রাখা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মৃত্যু কাছে হার মেনে চলে গেলেন না ফেরার দেশে। শুধু ছবিটি তার স্মৃতি হিসেবে রয়ে গেলো।মাসুমা ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার বড় মানিকা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মো. সেলিম রুন্দির স্ত্রী। তারা ঢাকার তুরাগ থানার শুক্রভাঙ্গা এলাকার নয়ানগরে একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। তাদের একটি ছেলে ও একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। মাসুমা মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অফিস সহকারী এবং তার স্বামী বায়িং হাউজে কাজ করতেন।মাসুমার স্বামী সেলিম জানান, ঘটনার দিন মাসুমা ওই স্কুলে কর্মরত ছিলেন। পরে আগুন লাগার খবর পেয়ে ছুটে যাই আমরা। গিয়ে জানতে পারি তার শরীরের ৯০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমার ছোট ছোট দুটি সন্তান রয়েছে যাদের মুখের দিকে তাকিয়ে আমি শোকে স্তব্ধ হয়ে যাই। আল্লাহর কাছে দোয়া করেছিলাম বাচ্চাদের জন্য হলেও যেনো আল্লাহ ফিরিয়ে দেন। কিন্তু আমাদের রেখে চলে গেলেন। সবাই তার জন্য দোয়া করবেন।’তিনি আরও জানান, হাসপাতালের ছাড়পত্র পেলে আমরা লাশ নিয়ে ভোলার উদ্দেশ্যে রওয়ানা করবো। পরিবারের সাথে আলোচনা করে জানাজা নামাজ শেষে আমাদের নিজস্ব পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।এদিকে মাসুমার এমন মৃত্যুতে পরিবারসহ এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। আহাজারি করছেন তার গ্রামের বাড়ির স্বজনরা। কফিনবন্দী লাশের অপেক্ষায় তার স্বজনসহ এলাকাবাসী।
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
