চট্টগ্রাম নগরীর চকবাজার সোমবার গভীর রাতে পরিণত হয় রাজনৈতিক সংঘর্ষের কেন্দ্রবিন্দুতে। ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, হামলা এবং গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন দুইজন– জাবেরুল ইসলাম ও আতিক। এছাড়াও ১৫-২০ জন শিক্ষার্থী ও শিবির কর্মী আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।সংঘর্ষ শুরু হয় এক শিবির কর্মীকে মারধরের জেরে। সোমবার (২১ জুলাই) দিবাগত রাত দেড়টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত চকবাজার ও আশপাশের এলাকা উত্তেজনায় কাঁপতে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করতে হয়। এ সময় এক ব্যক্তিকে থানার হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নেওয়ারও চেষ্টা করা হয়।ইসলামী ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগর (উত্তর) সভাপতি তানজির হোসেন জুয়েল সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, ‘আমাদের কর্মী আরিফুল ইসলামকে মারধর করে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে। পরে থানায় গিয়ে প্রতিবাদ জানালে যুবদলের বহিষ্কৃত নেতা এমদাদুল হক বাদশার নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা আমাদের ওপর হামলা চালায়। ছাত্রদলের গুলিতে আমাদের দুই কর্মী– জাবেরুল ইসলাম ও আতিক– গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এবং ১৫-২০ জন আহত হয়েছেন।’তবে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদল নেতা শেখ রাসেল শিবিরের অভিযোগ নাকচ করে বলেন, ‘এক ছাত্রলীগ নেতাকে ধরে পুলিশে দিয়েছে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। কিন্তু শিবির দাবি করছে যে ওই ছাত্রলীগ নেতা তাদের কর্মী। আমরা থানায় যথেষ্ট প্রমাণ দিয়েছি। পরে তারা আমাদের ঘিরে ধরে হামলা চালায়। এর পর উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র হয়।’শিবিরের অভিযোগ প্রসঙ্গে যুবদলের বহিষ্কৃত নেতা এমদাদুল হক বাদশার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহিদুল কবির রাত আড়াইটার দিকে সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, ‘এক ছাত্রকে মারধর করে থানায় সোপর্দ করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছি। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক।’রাজনৈতিক এই সংঘর্ষে স্থানীয়রা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। ব্যবসায়ীরা দ্রুত দোকানপাট বন্ধ করে দেন। স্থানীয়দের দাবি, চকবাজার দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক সহিংসতার কারণে অস্থির হয়ে আছে।এআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
