রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় তারাগঞ্জ বাজারের মাছ হাটিতে যে রাস্তাটি রয়েছে, সে রাস্তাটিতে সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটু পানি জমে থাকে। এতে করে ভোগান্তিতে পড়েছে সেখানকার স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীরা।রবিবার (২০ জুলাই) সরেজমিনে তারাগঞ্জ মাছ বাজারে গিয়ে দেখা যায়, খানাখন্দে ভরা রাস্তাটিতে হাঁটু পানি জমে আছে। রাস্তাটির কার্পেটিং উঠে গিয়ে কোথাও কোথাও খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। মাছ বাজারের ড্রেনের উপরে মাছ ব্যবসায়ীরা মাছ বিক্রির জন্য কাঁঠের চকি রেখেছে। ড্রেন দিয়ে পানি যাচ্ছে না। ময়লা আবর্জনা পড়ে ড্রেনটি ভর্তি হয়ে গেছে। ড্রেনের উপরে থাকা স্লাবগুলো ভেঙে গেছে। ড্রেনের উপরে দোকান দেওয়ার কারণে ময়লা আবর্জনাগুলো ড্রেনে পড়ছে। ফলে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে ড্রেনটি।তারাগঞ্জ বাজারে মাছ কিনতে আসা বিশ্বজিৎ রায়ের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ‘এই রাস্তাটির বেহাল অবস্থার চিত্র দীর্ঘ দিনের। এভাবে রাস্তাটি পড়ে থাকলেও কর্তৃপক্ষ তা সংস্কারের কোন পদক্ষেপ না নেওয়ায় আমাদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। মাছ কিনতে আসছি আমি। এখানে রাস্তার উপরে হাঁটু পানি জমে আছে। এই মাছ বাজারে ভালো কাপড় পরে আসলে তা নোংরা হবেই। এখানে পানি কাঁদায় একাকার হয়ে যায়। আমি চাই দ্রুত রাস্তাটির মেরামত করা হোক।’বাহাগিলী এলাকার ভ্যান চালক আহসান হাবীব বলেন, ‘আমি গরীব মানুষ, ভ্যান চালিয়ে খাই। আমি এই রাস্তাটি দিয়ে ভ্যান চালাই। আমার পরিবারের পাঁচ সদস্যের মধ্যে আমি একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। আমি যে টাকা আয় করি, সেই টাকা দিয়েই সংসার চলে। কিন্তু রাস্তাটি এভাবে পড়ে থাকার কারণে আগের চেয়ে আয় অর্ধেকে নেমে এসেছে। রাস্তাটি সংস্কার না হলে আমার মতো গরীব মানুষেরা, যারা এই রাস্তা দিয়ে ভ্যান চালাই, তাদের ক্ষতি হবে। কর্তৃপক্ষ দ্রুত রাস্তাটি সংস্কার করলে আমাদের খুব ভালো হবে।’রাস্তার উপরে পাতিলে করে মাছ বিক্রি করছেন শংকর দাস (১২) নামের এক ছেলে। সে জানান, রাস্তাটিতে সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটু পানি জমে থাকে। পানি জমে থাকার কারণে আমরা যারা রাস্তার উপরে মাছ বিক্রি করি, ক্রেতারা এখানে মাছ কিনতে আসেন না। ক্রেতারা টিন শেটের ভিতরে মাছ কিনে যায়। রাস্তাটির এই দূর অবস্থার কারণে আমাদের মাছ বিক্রি করতে খুব কষ্ট পোহাতে হয়।তারাগঞ্জ বাজারের ব্যস্ততম রাস্তাগুলোর মধ্যে মাছ বাজারের রাস্তাটি অন্যতম। রাস্তা বন্ধ করে রাস্তাটির উপরে দুই পাশে বসে খুচরা মাছ ব্যবসায়ীরা। এর ফলে কর্দমাক্ত রাস্তায় হাঁটু পানি দিয়েই চলাচল করতে হয় পথচারীদের। চলাচলের রাস্তা সংকুচিত হওয়ার কারণে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে মাছ ক্রেতা ও পথচারীরা।উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘রাস্তাটিতে জলাবদ্ধতার কারণে টেকসই কম হয়। রাস্তাটি সংস্কারের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’তারাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুবেল রানা বলেন, ‘দ্রুত সময়ের মধ্যে মাছ বাজারের পানি নিষ্কাশনসহ ওই রাস্তার সংস্কারের ব্যবস্থা করা হবে।’এসকে/এইচএ
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
