চট্টগ্রামে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও একজন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২১ জুন) দুপুরে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে পাঠানো এক প্রতিবেদনে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার (২০ জুন) চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফজিলাতুন্নেছা (৭১) নামের এক নারী মৃত্যুবরণ করেন। তিনি নগরীর বাকলিয়া এলাকার বাসিন্দা এবং পূর্ব থেকেই ফুসফুস ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন।সিভিল সার্জন ডা. মো. জাহাঙ্গীর আলম সময়ের কন্ঠস্বর-কে বলেন, ‘গত ১৭ জুন মরহুমা ফজিলাতুন্নেছার কোভিড-১৯ পজিটিভ শনাক্ত হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার দুপুরে তার মৃত্যু ঘটে।’করোনায় নতুন করে মৃত্যু হলেও চট্টগ্রামে সংক্রমণের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষকে ভাবিয়ে তুলেছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নগরীতে আরও ৬ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে শেভরন হাসপাতালে ৩ জন, এপিক হেলথ কেয়ারে ২ জন এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১ জনের করোনা শনাক্ত হয়।চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি জুন মাসের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত জেলায় মোট ৬২ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। এ সময়ের মধ্যে দুজন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। একজন নারী এবং একজন পুরুষ, দুজনই সত্তরোর্ধ্ব।সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘করোনাভাইরাস এখনো নির্মূল হয়নি। নিয়মিত সতর্কতা অবলম্বনই পারে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে। মাস্ক ব্যবহার, হাত ধোয়ার অভ্যাস এবং ভিড় এড়িয়ে চলা অত্যন্ত জরুরি। সংক্রমণ পরিস্থিতি বিবেচনায় আবারও স্বাস্থ্যবিধি পালনে নাগরিকদের সচেতন হতে হবে।’সংশ্লিষ্টদের বরাতে জানা গেছে, করোনার সম্ভাব্য নতুন ঢেউ মোকাবেলায় হাসপাতালগুলোতে প্রস্তুতি বাড়ানো হয়েছে। আইসোলেশন ইউনিটে শয্যা প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং জেলাজুড়ে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে নতুন করে যাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়, সে জন্য প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং সাধারণ মানুষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।আরডি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
