উখিয়া উপজেলার গয়ালমারা-আমতলী সড়কটি কয়েক বছর ধরে বেহাল অবস্থা ছিল। দীর্ঘদিনের ভোগান্তির পর সড়কের কাজ শুরু হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা স্বস্তি প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু সেই স্বস্তি বেশিদিন টেকেনি। ৫ আগস্টের পর থেকে লাপাত্তা হয়ে গেছে ঠিকাদার, ফলে বন্ধ রয়েছে সড়কের কাজ। এতে দুর্ভোগের শেষ নেই সাধারণ মানুষের।সরেজমিনে দেখা যায়, ঠিকাদার একরাম সংস্কারের নামে পুরোনো সড়কটি খুঁড়ে বালু, কংক্রিট (খোয়া) ফেলে রেখে দিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকার কারণে সেসব খোয়াও সরে গিয়ে রাস্তার বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন সড়কের কাজ না করায় যানবাহন চলাচলের সময় উড়ছে ধুলাবালি।ধুলা থেকে বাঁচতে নাকে কাপড় বেঁধে চলাচল করছে পথচারীরা। সড়কের আশপাশের গাছপালা এবং ঘরবাড়ি ইটের ধুলায় ধূসর হয়ে গেছে। বিভিন্ন’যানবাহন ঝুঁকি নিয়েই সড়কে চলছে। মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনের ব্রেক চাপলে চাকা পিছলে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে বলে জানান চালকরা।সড়কের পাশের সব গাছপালা ইতোমধ্যেই নষ্ট হয়ে গেছে। ঘর-বাড়িগুলো ধুলায় ঢাকা পড়েছে। সড়কের ধুলার কারণে একদিকে যেমন যান চলাচলের বিঘ্ন সৃষ্ট হচ্ছে তেমনি পথচারিরাও নানান সমস্যায় ভোগছে। এমন কি পরিবেশ ও স্বাস্থ্যগতভাবে নানা সমস্যা দেখা দিয়েছে সড়কের ধারে বসবাস করা স্থানীয়দের।উখিয়া উপজেলা এলজিআইডি অফিস সুত্রে জানা গেছে, আই আর আইডিপি’র অর্থায়নে ২ কোটি ১লক্ষ টাকার বাজেটে ১৫০০ মিটার এই সড়কের পুরোনো ইট উঠিয়ে নতুন করে কার্পেটিং কাজ নির্মাণে টেন্ডারের মাধ্যমে নিয়োগ পান ঠিকাদার একরাম। তার গাফলতি ও অপেশাদার কাজে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন এক উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার।এদিকে পথচারী ও গাড়ির চালকরা জানান, প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে ৫-৪ হাজার মানুষ চলাচল করে। কিন্তু রাস্তা অযোগ্যের কারণে কোন গাড়ি এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে চাই না। ফলে হেটে ফাড়ি দিতে হচ্ছে এই দীর্ঘপথ। এতে পায়ে ইটের খোয়ার কোণার ব্যাথা,জোতা নষ্টসহ অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। পরিচ্ছন্ন পোশাকে একবার এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করলেই সেটি আর ব্যবহার উপযোগী থাকছে না। মাথা ঢেকে আর মুখে মাস্ক পরেও চলাচল করা যায় না। এখনই যে অবস্থা তাতে সামনে বর্ষার সময় আসলে এই সড়ক দিয়ে কোনো মতেই আর চলাচল করা যাবে না।স্থানীয় ইউপি সদস্য জানান ‘রাস্তার এই করুণ দশায় দুর্ভোগে আছি। রাস্তায় বের হলে শরীর এবং পোশাকের রং ধুলাবালিতে পরিবর্তন হয়ে যায়। রাস্তার দুই পাশে বসবাসরত বাড়িঘর ও গাছপালা ধুলার আবরণে চেনার উপায় নাই। ধুলার কারণে প্রতিনিয়ত মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ছে। এলাকার জনপ্রতিনিধি হিসেবে এ নিয়ে একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি, প্রতিবারই আশ্বাস পেয়েছি কিন্তু কাজ হয়নি।এ বিষয়ে অভিযুক্ত ঠিকাদার একরামের ফোনে একাধিকবার কল দিয়েও সাড়া মিলেনি।উখিয়া উপজেলা প্রকৌশলী রুকুনুজ্জামান খান বলেন, এই ঠিকাদারকে বেশ কয়েকবার বলা হয়েছে। এবং কাজ করতেছে বলেও আমাদের আশ্বাস দিয়েছে। কিন্তু কাজের বেলায় তাকে পাওয়া যায় না। সর্বশেষ সে আজ মঙ্গলবারে আশ্বাস দিয়েছেন কাজ করতে লেভার পাঠাবেন।এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
