গত ১ এপ্রিল ‘বিরামপুরে চাঁদাবাজি মামলায় ছাত্রদল সভাপতিসহ ৫ জন গ্রেপ্তার’ শিরোনামে সময়ের কন্ঠস্বরে একটি সংবাদ প্রকাশ করা হয়। সংবাদ প্রকাশের একদিন পর বুধবার (২ এপ্রিল) বহিষ্কার করা হয় দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার ৭ নং পলিপ্রয়াগপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি সানোয়ার হোসেনকে।বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল বিরামপুর উপজেলা শাখার আহবায়ক আসাদুজ্জামান বাবু ও সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল নোমানের স্বাক্ষরিত এক নোটিশে তাকে বহিষ্কার করার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।এতে বলা হয়েছে- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল বিরামপুর উপজেলা শাখার আহবায়ক ও সদস্য সচিবের সিদ্ধান্ত মোতাবেক, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে বিরামপুর উপজেলা ছাত্রদলের অধীনস্থ ৭ নং পলিপ্রয়াগপুর ইউনিয়ন ছাত্রদল এর সভাপতি ছানোয়ার হোসেন কে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হলো। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল বিরামপুর উপজেলা শাখা ছাত্রদলের আহবায়ক আসাদুজ্জামান বাবু ও সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল নোমান এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তার সাথে কোনরূপ সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। এর আগে গত ১ এপ্রিল সময়ের কন্ঠস্বরে ওই সংবাদে উল্লেখ করা হয়, পলিপ্রয়াগপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি সানোয়ার হোসেন ও তার গংদের সঙ্গে পৌরশহরের ঘাটপাড় এলাকার অধ্যাপক ডাঃ মোখলেছুর রহমানের সাথে দীর্ঘদিন থেকে জমিজমার বিষয় নিয়ে মনোমানিল্য হয়ে আসিতেছিল। সেই জমির বিষয়ে সমাধান করার কথা বলে তারা ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে।মোখলেছুর রহমান পেশায় একজন ডাক্তার হওয়ায় তার জমি চন্ডিপুর (চায়না অফিস) এলাকার মৃত জাবেদ আলীর ছেলে মো. ফারুক হোসেন (৪৩), কে জমিজমা দেখাশোনার জন্য কর্মচারী হিসেবে রাখেন। তিনি দীর্ঘদিন থেকে তার জমিজমা দেখাশোনা করে আসছিলেন। সেই জমিতে ফারুক হোসেন একটি দোকান ঘর নির্মাণ করেন। জমিতে এ মৌসুমে কুল (বড়ই) এবং কমলা চারা সহ বিভিন্ন প্রজাতির ফল গাছ লাগিয়ে তিনি পরিচর্যা করে আসছিলেন। এ মৌসুমে প্রতিটি বড়ই গাছে পর্যাপ্ত পরিমানে বড়ই ধরে, কিছু বিক্রি করেন আর কিছু বড়ই এখনও গাছে আছে। জমি দেখাশোনার কাজ করায় তারা সময় সুযোগমত ফারুক হোসেনের বাড়ী ঘর ভাংচুর করে। বাড়িঘর উচ্ছেদ করে জমি দখল করবে বলে প্রায় সময় হুমকি ধামকি দিত ঐ ছাত্রদল সভাপতি।গত রবিবার (৩০ মার্চ) দুপুর দেড় টার দিকে ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি সানোয়ারসহ অজ্ঞাত নামা ২০/২৫ জন পূর্ব পরিকল্পিতভাবে হাতে লাঠি সোঠা, রামদা, লোহার রড, শাবল, ধারালো চাকু, ছুরি, দা, বেকী, কোদাল ও কুঠার ইত্যাদি দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে দল বেঁধে বাগানে ঢুকে পরে। বাগানে ঢুকে বাগানে থাকা ১৫৭ টি বড়ই গাছ, ৮৪টি কমলা গাছ ও ২৩টি আমের গাছের গোঁড়া কেঁটে দেয়। যার আনুমানিক মূল্য ১৬ লাখ ৮০ হাজার ৫৬০ টাকার ক্ষতি সাধন করে।এঘটনায় বিরামপুর থানায় ফারুক হোসেন নামে একজন একটি মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় ছাত্রদল সভাপতি সানোয়ার হোসেন সহ ৫ জনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর