নওগাঁর ধামইরহাটে বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবের পাশাপাশি মনোরম পরিবেশে সময় কাটানোর জন্য পর্যটকের মনে বেশ যায়গা করে তুলেছে প্রাকৃতিক পরিবেশে ঘেরা আলতাদিঘী জাতীয় উদ্যান। প্রতিবছরের ন্যায় এবারে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আলতাদিঘী জাতীয় উদ্যানের পরিবেশ থাকছে অনেকটা ভিন্নরকম। প্রকৃতির নিদারুণ সৌন্দর্যে ঘেরা আলতাদিঘী জাতীয় উদ্যানে গড়ে তোলা হয়েছে ৭২০ ফিট উচ্চতায় একটি ওয়াচ টাওয়ার। যে ওয়াচ টাওয়ারে উঠে পর্যটকরা পুরো শালবন ও দিঘীর সৌন্দর্য বেশ কাছ থেকে উপভোগ করতে পারবেন।উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদে পরিপূর্ণ ২৬৪.১২ হেক্টর জমিতে গড়ে উঠা বনভূমির ঠিক মাঝ খানে অবস্থিত প্রায় ৪৩ একর জমি নিয়ে সুবিশাল এই আলাতাদিঘী। দিঘীর পার্শ্বে পড়ালেখা শেষ করে বেকারত্ব থেকে নিজেকে সরিয়ে উদ্যোক্তা হিসেবে ৩জন বন্ধু মিলে তৈরী করেছেন আলতাদিঘী কুঁড়েঘর রেষ্টুরেন্ট। যা ইতিমধ্যে দর্শনার্থীদের মাঝে আলতাদিঘী ও শালবনের সৌন্দর্য আরো দি¦গুন ভাবে বাড়িয়ে তুলেছে। কুঁড়েঘর নির্মাণে বাহিরের অংশ তৈরীতে পুরোটায় ব্যবহার করা হয়েছে বাঁশ এবং উপরের ছাউনিতে টিনের পরিবর্তে ব্যবহৃত হয়েছে খড়ের চাল। ইট পাথরের নগরে এবার ঈদে সকল শ্রেনীপেশার পর্যটকদের মনে বাঁশ খড় ও বেতসহ নানান দেশীয় সরঞ্জামাদী দিয়ে তৈরী রেষ্টুরেন্ট নতুন করে সাড়া ফেলাবে এমন প্রত্যাশার দিন গুনছেন উদ্যোক্তারা। রমজানে কুঁড়েঘরের উদ্বোধন করা হয়েছে আগামী ঈদকে সামনে রেখে বিভিন্ন রকম ডেকুরেশনের কাজ এখনো চলমান রয়েছে। পুরোপুরি ঈদের পূর্বে রেষ্টুরেন্টের বেশিরভাগ কাজ সমাপ্ত করা হবে। এখানে বার্গার, পিজ্জা, চাওমিন, পাস্তাসহ নানান রকমের খাবার পাওয়া যায়। পরিবার পরিজন নিয়ে দর্শনার্থীরা মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে সময় কাটানোর পাশাপাশি স্বল্প মূল্যে দেশী-বিদেশী খাবারের সুবিধা পাবেন তরুণদের তৈরী কুঁড়েঘর রেষ্টুরেন্ট থেকে। ইতিমধ্যে রমজান মাসেও কুঁেড়ঘর বেশ সাড়া ফেলেছেন পর্যটকদের নজরে। কুঁড়েঘর নির্মাণে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭লক্ষ টাকা ব্যায় করা হয়েছে। আরো বেশকিছু ডিজাইন এর কাজ চলমান প্রক্রিয়ায় রয়েছে।এবিষয়ে কুঁড়েঘর রেষ্টুরেন্টের উদ্যোক্তা আনিসুর রহমান জানান, বেকার জীবনের অভিশাপ থেকে বেড়িয়ে ৩জন বন্ধুর ঐক্য সীদ্ধান্তের উপরে আলতাদিঘীতে আসা বিভিন্ন পর্যটকের সুবিধার কথা চিন্তা করে গ্রামীণ পরিবেশে গড়ে তোলা হয়েছে কুঁড়েঘর। আশা করছি দর্শনার্থীদের কাছে কুঁড়েঘরের সৌন্দর্য এবং খাবারের গুনগত মান খুবই ভালো লাগবে। গ্রামীণ সৌন্দর্য নিয়ে গড়ে তোলা কুঁড়েঘরের জন্য এলাকাবাসী ও বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত সকল মানুষের জন্য দোয়া প্রার্থনা করেন এই তুরণ উদ্যোক্তারা।রেষ্টুরেন্টে আসা পর্যটক ও পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান জানান, প্রকৃতির সাথে তাল মিলিয়ে কুঁড়েঘরের খাবার ও পরিবেশের অনেকটা মিল রয়েছে। আশা করছি দ্রুত এই রেষ্টুরেন্ট আলতাদিঘীতে আসা দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলবেন।এবিষয়ে বন কর্মকর্তা আনিছুর রহমান জানান, সীমান্তের কোল ঘেঁষা শলবন ও আলতাদিঘী জাতীয় উদ্যানের সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসা প্রতিটি পর্যটকদের জন্য কুঁড়েঘর রেষ্টুরেন্ট আগামীতে মাইলফলক হয়ে থাকবেন বলে জানান তিনি।এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর