চট্টগ্রামের প্রথম যুগ্ম জেলা জজ আদালতে চলমান এক দেওয়ানি মামলায় একতরফা ও পক্ষপাতমূলক আদেশ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই আদেশের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের আইন উপদেষ্টার কাছে আবেদন করেছে মামলার বিবাদীপক্ষ।গতকাল (১৮ মার্চ) মামলার ধার্য তারিখে বিবাদীপক্ষ সময়ের আবেদন ও মূল মামলার জবাব দাখিলের জন্য আদালতের কাছে অনুমতি চেয়েছিল। একই সঙ্গে মামলার আর্জি খারিজের দরখাস্তও দাখিল করা হয়েছিল। আদালত উভয় পক্ষকে শুনানির জন্য দুপুর সাড়ে ১২টায় হাজির হতে বলেন। কিন্তু বিবাদীপক্ষের আইনজীবী যথাসময়ে আদালতে উপস্থিত হলে দেখতে পান, বিচারক নির্ধারিত সময়ের আগেই একতরফা ভাবে স্থিতাবস্থার আদেশ প্রদান করেছেন।এই ঘটনায় বিবাদীপক্ষ আদালতের নিরপেক্ষতা ও নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। মামলার বিবাদী পক্ষে আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোঃ কামরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে সময়ের কণ্ঠস্বর-কে বলেন, “আমরা আদালতে সময় মতো হাজির হয়েছি, কিন্তু তার আগেই আদালত বাদীপক্ষের অনুকূলে আদেশ প্রদান করেছেন, যা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। আমরা বিশ্বাস করি, আদালত পক্ষপাতমূলক মনোভাব দেখিয়েছে এবং একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত দিয়েছে।”মামলাটির (মামলা নং: অপর ৩৫/২০২৫ইং) মূল প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বিবাদীপক্ষের আইনজীবীরা জানান, হাইকোর্টের একটি রায়ের ভিত্তিতে মামলার বাদীদের পিতাকে অবৈধ দখলকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল এবং সরকারকে তাকে উচ্ছেদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই নির্দেশের আলোকে সরকার বিবাদীপক্ষের কাছে উক্ত ভূমির কবলা সম্পাদন করে দেয়।এমতাবস্থায়, বাদীপক্ষের এই মামলায় কোনো লোকাস স্ট্যান্ডি (আইনি অধিকার) নেই। অর্থাৎ, তারা কোনোভাবে মামলাটি করার যোগ্য নন। এই কারণেই বিবাদীপক্ষ মামলার আর্জি খারিজের জন্য আবেদন করেছিলেন। আদালত এই দরখাস্ত শুনানির জন্য সময় নির্ধারণ করলেও আচমকাই একতরফা ভাবে স্থিতাবস্থার আদেশ দেন, যা আদালতের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।বিবাদীপক্ষের আইনজীবীরা দাবি করেছেন, এই আদেশ শুধু প্রক্রিয়াগত ত্রুটিপূর্ণ নয়, বরং এটি ইঙ্গিত দেয় যে আদালত হয়তো বাদীপক্ষের প্রতি বশীভূত হয়েছে। তাই তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এই আদালতে তারা ন্যায়বিচার পাবেন না।এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে, চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের আইন উপদেষ্টা বরাবর একটি লিখিত আবেদন পাঠানো হয়েছে। সেই আবেদনে বিচার প্রক্রিয়ার ত্রুটি, আদালতের পক্ষপাতমূলক আচরণ ও ন্যায়বিচারের পরিপন্থী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করা হয়েছে।এছাড়া, আইনজীবী সমিতির আহ্বায়কের কাছেও অভিযোগের একটি অনুলিপি পাঠানো হয়েছে, যাতে সমিতি বিষয়টি আমলে নেয় এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সহযোগিতা করে।বিবাদীপক্ষের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তারা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হবেন। তারা এই আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিভিউ আবেদন ও অন্যান্য আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের চিন্তা-ভাবনা করছেন।এই প্রসঙ্গে আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অভিযোগ আদালতের বিচারিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার প্রশ্ন তুলেছে, যা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতার বিষয়ে জনমনে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এখন দেখার বিষয়, আইন উপদেষ্টা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন এবং আদালতের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়।এমআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর