মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় সওজের জায়গায় গড়ে উঠেছে মৌসুমী ফলের পাইকারী আড়ৎ।গজারিয়া উপজেলার চরবাউশিয়া ফেরিঘাটের অদুরে সড়ক ও জনপথ এর জায়গায় টিন ও কাঠের শেট তৈরী করে প্রায় ২৫ বছরের অধিক সময় ধরে ফলের পাইকারী আড়ৎ পরিচালনা করে আসছেন নাসির প্রধান, দ্বীল মিয়া,সেলিম ফরাজী,রিপন মিয়া,ইয়াসিন আক্তার ও সুমন মিয়াদের মতো ২৫ থেকে ৩০ জন ব্যবসায়ী।সরজমিনে গেলে দেখা যায়, বরিশালের কালাইয়া লঞ্চঘাট থেকে মোঃ নূর হোসেন মাঝি”এমভি শীতল” কার্গোতে করে ১০ হাজার পিছ তরমুজ নিয়ে নোঙ্গর করেছেন গজারিয়া উপজেলার চরবাউশিয়া চেয়ারম্যান বাড়ির ঘাটে।বুধবার বিকাল সাড়ে ৪ টায় কথা হলো তার সাথে। চরবাউশিয়া ফেরিঘাটের নাসির প্রধানের আড়তের জন্য ৯৫ হাজার টাকা ভাড়ায় ওই তরমুজের চালান নিয়ে আসছেন তিনি। তাদের ভাষ্য মতে আড়ৎ থেকে প্রতিদিন গড়ে ৪৫ থেকে ৫০ লাখ টাকার ফল বিক্রি হয়।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ওই সকল আড়ৎদারগণ বরিশাল, পঞ্চগড় ও সিলেট অঞ্চল থেকে নৌ ও সড়ক পথে তরমুজ-বাঙ্গি এনে পাইকারী মূল্যে দেশের বিভিন্ন এলাকার খুচরা ফল বিক্রেতাদের নিকট বিক্রি করে থাকেন।আড়ৎদার দ্বীল মিয়া ও সেলিম ফরাজী বলেন, তাদের পাইকারী মোকাম হতে ঢাকা,কাঁচপুর,মদনপুর,আড়াই হাজার,নরসিংদী,কুমিল্লার হোমনা,বাতাকান্দী, গৌরিপুর বাজার,মতলব,রায়পুর,বাঞ্চারামপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় তরমুজ সরবরাহ করা হয়।সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে তরমুজের দাম তুলনামুলক কম। তারা প্রতি শত তরমুজ আকার বেধে ৭ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করছেন।জানা যায়, ৯০ এর দশকের আগে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মেঘনা ও দাউদকান্দী ফেরি ঘাট রাতদিন যানবাহন পারাপারের কারণে যাত্রী-চালক তাদের সহকারী ও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের উপস্থিতিতে সরগরম থাকতো।ওই দুটি স্থানে নদীর ওপর সেতু নির্মাণের পর ওই দুই ঘাটে আগের কোলাহল আর নেই। বাউশিয়া ফেরিঘাটের পাইকারী তরমুজের আড়ত সেই আগের ফেরিঘাটের চিত্রই যেনো মনে করে দেয়। সকাল ১০ টা থেকে সন্ধ্যার পরও চলে বেচা-বিক্রির ধুম। সড়ক ও জনপথ বিভাগের নারায়নগঞ্জ কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আব্দুর রহিম জানান, সওজের জায়গা দখল করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার বিষয়টি তিনি জানতেন না। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের কথা জানান ওই কর্মকর্তা।এমআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর