লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে যৌতুকের দাবিতে স্বামী ও ননদের নির্যাতনের শিকার হয়ে তিন সন্তানসহ খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছেন ফাহিমা আক্তার নামে এক নারী। অভিযুক্ত স্বামী রিপন প্রবাস থেকে ফেরার পর থেকেই তার ওপর এ নির্যাতন শুরু হয় বলে দাবি ভুক্তভোগীর।ফাহিমার অভিযোগ, প্রবাসে থাকাকালে রিপন পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন এবং পরে ঢাকার এক নারীকে বিয়ে করেন। দেশে ফেরার পর থেকেই তিনি ফাহিমার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছেন। বাবার বাড়ি থেকে ৫ লাখ টাকা যৌতুক এনে দেওয়ার জন্য প্রায়ই তাকে চাপ দেওয়া হতো। টাকা দিতে অপারগতা জানালে স্বামী ও তার বোন মিলে তাকে মারধর করতেন।ভুক্তভোগী নারী জানান, “কয়েকদিন আগে রিপন ও তার বোন আমাকে মারধর করে ঘর থেকে বের করে দেয়। পরে ২০-২৫ জন লোক এনে ঘরে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়। একপর্যায়ে আমার সন্তানদেরও বের করে দেওয়া হয়েছে। তিন দিন ধরে আমরা খোলা আকাশের নিচে আছি। বৃষ্টি হলেও আমাদের যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। আমি এই অন্যায়ের সুষ্ঠু বিচার চাই।”স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি মীমাংসার জন্য একাধিকবার সালিশ-বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হলেও অভিযুক্ত রিপন বা তার পরিবারের কেউ তাতে অংশ নেয়নি। এ ঘটনায় ফাহিমা আক্তার আইনগত প্রতিকার চেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত রিপন বলেন, “আট মাস আগেই তাকে তালাক দেওয়া হয়েছে। এখন সে আমার ঘরে থাকার কোনো আইনি অধিকার রাখে না।”এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
