সড়ক দুর্ঘটনা, বজ্রপাত, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শিশুমৃত্যু, রহস্যজনক মৃত্যু আর আত্মহত্যা- একটি মঙ্গলবারেই কক্সবাজার জেলায় ঝরে গেল আটটি প্রাণ। পৃথক এসব ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে একাধিক পরিবারে।কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকায় ‘শালিক রেস্টুরেন্ট’-এর স্টাফ কোয়ার্টার থেকে স্টোর ম্যানেজার সাইফুল ইসলাম সুমনের (৪২) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাত পৌনে বারোটার দিকে রুমমেট শামসুল আলম তাকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পেয়ে সহকর্মীদের ডাকেন। সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি মো. ছমিউদ্দিন জানান, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১৩ এ আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) একটি গাড়ির ধাক্কায় মারা গেছে চার বছরের শিশু আবু ওয়াইদা। মঙ্গলবার দুপুরে এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ রোহিঙ্গারা গাড়িটি ভাঙচুর করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে পড়ে। গাড়িচালক ঘটনার পর পালিয়ে যান।উখিয়া থানার ওসি মো. মুজিবুর রহমান জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়ার হারবাং এলাকায় বাসের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন মো. মিজানুর রহমান। চন্দনাইশে কর্মরত মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ মিজানুর সড়কেই মারা যান। দুর্ঘটনার পর বাসচালক পালিয়ে গেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।টেকনাফের মেরিন ড্রাইভ সড়কের রাজারছড়া এলাকায় দ্রুতগতির একটি মোটরসাইকেল রাস্তা পার হওয়া কিশোর রকুমুল্লাকে ধাক্কা দিলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনাটি ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান মোটরসাইকেলচালক মোক্তার হোসেন (৪৮)। আহত কিশোর রকুমুল্লা পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। এ ঘটনায় আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।কক্সবাজার সদর উপজেলার চৌফলদণ্ডী ইউনিয়নে কাজে যাওয়ার পথে সেতুর ওপর বজ্রাঘাতে ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন লবণশ্রমিক রমিজ উদ্দীন (৪৫)। মঙ্গলবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। ঈদগাঁও উপজেলার জাগিরপাড়া এলাকায় নিজ বসতঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন নুরুল হক (৮০)। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন।চকরিয়ার মালুমঘাট এলাকায় বাস ও কাভার্ডভ্যানের সংঘর্ষে মো. ইউসুফ নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত পাঁচজন। হাইওয়ে পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।একদিনে এতগুলো প্রাণহানির ঘটনায় উদ্বিগ্ন স্থানীয়রা বলছেন, সড়কে বেপরোয়া যান চলাচল, নিরাপত্তা ঘাটতি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সচেতনতার অভাবে জেলায় অপমৃত্যুর ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে।কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আব্দুল মান্নান বলেন, ‘একদিনে আটটি পরিবার তাদের প্রিয়জন হারিয়েছে- এটা শুধু সংখ্যা নয়, এটা আটটি পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি। একটি জেলায় একদিনে আটজনের অপমৃত্যু অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সড়কে বেপরোয়া যান চলাচল রোধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কঠোর ভূমিকা দরকার। যে চালকেরা দুর্ঘটনার পর পালিয়ে যাচ্ছেন, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। দায়মুক্তির সংস্কৃতি বন্ধ না হলে এই মৃত্যুর মিছিল থামবে না।’এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
